AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Purulia: ৬ মাসও পেরোয়নি, ‘নবজাতকের’ চেহারা ফুঁড়ে বেরিয়ে এল কঙ্কাল

Purulia: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পথশ্রী প্রকল্পের টাকায় পুরুলিয়া জেলার বলরামপুর ব্লকের নামশোল হয়ে রাইমল বড় ময়দান পর্যন্ত রাস্তা তৈরি হয়। নির্মানের ছ'মাস পার হতে না হতেই কঙ্কালসার চেহারা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Purulia: ৬ মাসও পেরোয়নি, 'নবজাতকের' চেহারা ফুঁড়ে বেরিয়ে এল কঙ্কাল
তিতিবিরক্ত গ্রামবাসীরাImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Dec 06, 2023 | 10:34 AM
Share

পুরুলিয়া:  সেভাবে ওই এলাকায় রাস্তা ছিল না দীর্ঘদিন। মাটির প্রলেপ দেওয়া যেন আল পথ। আর সেই পথ উজিয়েই যেতে হত স্কুল,হাসপাতাল, কাজে! মেঠো পথ উজিয়ে কখনই গ্রামে ঢুকত না অ্যাম্বুলেন্স। অল্প হাওয়াতেই ধুলোর ঝড়ে অন্ধকার হত চারদিকে।  গ্রামবাসীদের ছিল বিস্তর অভিযোগ। দীর্ঘদিনের দাবি শুনেছিল প্রশাসন। ৬ মাস আগেই গ্রামে হল নতুন রাস্তা। ইট-স্টোন চিপস, সিমেন্টের ঢালাই রাস্তা। হাল ফিরল গ্রামের!  কিন্তু সুখ যেন গ্রামবাসীদের বেশি দিন সইল না।   ৬ মাসের মধ্যে ‘নবজাতক’ রাস্তার শরীর থেকে বেরিয়ে এল কঙ্কাল। কঙ্কালসার চেহারা রাস্তায় এখন পুরুলিয়ার বলরামপুরের নামশোল গ্রামের বাসিন্দাদের অবস্থার জ্বলন্ত প্রতীক! পথশ্রী প্রকল্পে তৈরি হওয়া রাস্তার এই বেহাল দশায় নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। উঠছে কাটমানি প্রসঙ্গ ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পথশ্রী প্রকল্পের টাকায় পুরুলিয়া জেলার বলরামপুর ব্লকের নামশোল হয়ে রাইমল বড় ময়দান পর্যন্ত রাস্তা তৈরি হয়। নির্মানের ছ’মাস পার হতে না হতেই কঙ্কালসার চেহারা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাস্তার ঢালাই থেকে দাঁতের মতো পাথর উঠে এসেছে বিস্তীর্ণ অংশে। বিভিন্ন জায়গায় ঢালাই রাস্তা বসে গিয়েছে। আবার কিছু অংশে ধরেছে ফাটল। নির্মাণের এতো কম সময়ের মধ্যে কেন করুণ অবস্থা হল রাস্তার, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন? আর তাতেই এলাকাবাসী থেকে শুরু করে স্থানীয় বিরোধী দলের নেতৃত্বরা তৃণমূল ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন।

পুরুলিয়া জেলার বলরামপুর পঞ্চায়েত সমিতির অর্থানুকুল্যে নির্মিত ১,৪৫০ মিটারের  ঢালাই রাস্তাটি নির্মাণে সরকারি কোষাগার থেকে ৫৩ লক্ষ টাকা হয়েছে ব্যয়। এলাকায় এখন নানা প্রশ্ন উঠেছে। এই ঢালাই রাস্তাটি তবে কার স্বার্থে তৈরি? শুধু মাত্র নির্মাণকারী এজেন্সির মুনাফালাভের জন্যই কি পরিকল্পনায় ধরা হয়েছিল? নাকি কোনও বড় অঙ্কের কাটমানি সংগ্রহ করতে এই নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে ? গ্রামবাসীদের বক্তব্য, “আমাদের তো আসা যাওয়া করতেই হয়। কাজ নিয়ে আর কী বলব, সব তো সরকারই বলবে। কী করল ওরা? রাস্তা পুরো ফাটল ধরে গিয়েছে।”  স্বাভাবিক ভাবেই অস্বস্তিতে শাসক শিবির। বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

বলরামপুরের বিজেপি বিধায়ক বানেশ্বর রাও বলেন, “নির্বাচনের আগে ভোটকে প্রভাবিত করার জন্য পথশ্রীর নামে কোনওমতে একটা রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। একেবারেই যে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি হয়েছিল, সেটা তো এখন বোঝাই যাচ্ছে। ভোট যেতে না যেতেই আসল চেহারা বেরিয়ে এসেছে।”

এবিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলরামপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কলাবতী কুমার। তবে এর বেশি আর কিছু বলতে চাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, “আমি এই বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে কী হয়েছে, সেটা জানি না। তবে বিষয়টি শুনেছি। আমি এলাকায় গিয়ে বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেব।”