সরকার বদলের পর প্রথম উপভোট দেখল রাজ্য। এবার ফলাফলের অপেক্ষা। আজ, শুক্রবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর কেন্দ্রের উপ নির্বাচনের ফলাফলে নজর সব পক্ষের। পালাবদলের পর রাজ্য়ের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে অনেকটাই। প্রতীক হারিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল লড়েছে ফুটবলার চিহ্নে। রেজিনগরে ভোট নিয়ে অভিযোগ সরব হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির ঘরে আরও একটি আসন বাড়ছে কি না, সেদিকেই নজর সব পক্ষের।
রেজিনগরে ভোটের ফলাফল
প্রথম- বিজেপি (শাখারভ সরকার-৭৫,৮১৬ ভোটে জয়ী)
দ্বিতীয়- আজুপ
তৃতীয়- কংগ্রেস
চতুর্থ- এমআইটিসি
পঞ্চম – বাম
ষষ্ঠ-ডিটিএমসি
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ফলাফল
জয়ী বিজেপি (হাসিরানি রথ-১, ২২, ৭৫৩ ভোটে জয়ী)
দ্বিতীয় কংগ্রেস (মিলন প্রধান)
তৃতীয় বাম (শান্তি গোপাল গিরি)
চতুর্থ হয়েছে আইএসএফ ও পঞ্চম ডিটিএমসি
সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalyan Banerjee) এবার চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁকে ‘মাতাল’ বলে কটাক্ষ করলেন তিনি। এর আগে বারবার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূ মন্তব্য করেছিলেন কল্যাণ। সেই প্রসঙ্গ তুলেই এবার কল্যাণকে তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর। তবে, মুখ্যমন্ত্রীর দাবি কোনও অঙ্গভঙ্গি বা ব্যঙ্গ করে কোনওভাবেই তাঁকে আটকানো যাবে না।
বিস্তারিত পড়ুন, ‘সন্ধের পর তো স্থলে থাকেন না, জলে থাকেন’, কল্যাণকে তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর
উপনির্বাচনের ভোটপ্রচারে গিয়ে সংখ্যালঘুদের বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের ফল প্রকাশ হতেই সেই বন্ধুত্বের ছবি স্পষ্ট। সংখ্যালঘুরা আবেদনে সাড়া দিয়েছেন। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে এমনটাই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী। করজোড়ে সংখ্যালঘুদের ধন্যবাদ জানালেন তিনি। তিনি বলেন, “সরকারের বন্ধুত্বের হাত ধরেছেন সংখ্যালঘুরা, সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে বন্ধুত্ব করতে চান, আমি খুশি”।
বিস্তারিত পড়ুন, ‘সংখ্যালঘুরা বন্ধুত্বের হাত ধরেছেন, আমি খুশি’, উপনির্বাচনে রেকর্ড-ভাঙা সাফল্যে আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
পালাবদলের পর রাজ্যে প্রথম ভোট এই উপনির্বাচন। ফলাফলে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের প্রভাব একেবারে সুস্পষ্ট। গণতান্ত্রিক তৃণমূল জায়গা পেয়েছে সবার শেষে। মমতা তৃণমূল এই কেন্দ্রে কংগ্রেসকেই সমর্থন করেছে। কংগ্রেস রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে আর তৃতীয় স্থানে সিপিএম।
বিস্তারিত পড়ুন: নন্দীগ্রামে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙছে সিপিএম
নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর রেকর্ড ভাঙলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। উপ নির্বাচনে ১ লক্ষ ২০ হাজার ভোটের মার্জিনে জয়ী হলেন হাসিরানি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ৮১ হাজারের বেশি ভোটের মার্জিনে জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
আজ যখন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ফলাফল প্রকাশ হচ্ছে, তখন কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ‘ফ্রেন্ডশিপ বানালিয়া’। এবিভিপি-র একটি অনুষ্ঠানে এদিন আরজি কর হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রবেশ করার সময় দুই আঙুলে জয়ের চিহ্ন দেখান তিনি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে যেভাবে সংখ্যালঘু ভোট বিজেপির দিকে এসেছে, সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘ফ্রেন্ডশিপ বানালিয়া’ (বন্ধুত্ব করে ফেলেছি)।
নন্দীগ্রামে অষ্টম রাউন্ড শেষে বিজেপি প্রার্থী পেয়েছেন ৮৯৭০৯, কংগ্রেস পেয়েছে
২০১৭৩ ভোট, সিপিএম পেয়েছে ৩৪৩৫ ভোট, আইএসএফ পেয়েছে ৭৪৯ ভোট, গণতান্ত্রিক তৃণমূল পেয়েছে ৪৪১টি ভোট। নোটায় পড়েছে ৪০০টি ভোট। অর্থাৎ নোটার থেকে ঋতব্রতরা মাত্র ৪১ ভোটে এগিয়ে আছে।
সকাল থেকেই রেজিনগরের ট্রেন্ড পদ্ম শিবিরের দিকে। রাউন্ড যত এগিয়েছে, ততই মার্জিন বাড়িয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। ৭০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু ভোটার থাকা সত্ত্বেও বিজেপি উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছে। এই ট্রেন্ড দেখেই শাখারভের মুখে হাসি। তিনি বলেন, “অসাধারণ ফল হচ্ছে। আমার স্বপ্ন নন্দরানি ডল। নন্দরানি আমার আদর্শ।”
বিস্তারিত পড়ুন: ‘আমার স্বপ্ন নন্দরানি ডল’, শাখারভের আইডল এই বাম নেত্রী আসলে কে
সংখ্যালঘুদের মন হারিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং উল্টোটাই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তায় সাড়া দিয়ে গেরুয়া শিবিরের ওপরেই আস্থা রেখেছেন সংখ্যালঘুরা। সংখ্যালঘু ভোট পেয়েছে কংগ্রেসও। বাংলার যে কোনও নির্বাচনেই সংখ্যালঘু ভোট একটা বড় ফ্যা২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় জয় পেয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করে, যেখানে তাদের ভোটব্যাংকে বড় ধরনের মেরুকরণ ও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছিলক্টর। উপনির্বাচনের আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে বার্তা দিয়ে তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সরকারের সঙ্গে থাকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়ন তথা ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের পক্ষ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, “সংখ্যালঘু ভোটারদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ এবং তাদের প্রধানমন্ত্রী মোদীর উন্নয়নের ধারায় সামিল হতে হবে।” তাতে সাড়াও মিলল। সুযোগ হাতছাড়া হল না বিজেপির।
বিস্তারিত পড়ুন: ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘জুজু’ সবাই ধরে ফেলেছে’, সংখ্যালঘুদের মন জয় করে নিলেন শুভেন্দু
পঞ্চম রাউন্ডের শেষে নন্দীগ্রামে কে কত ভোট পেল
নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রাপ্তি ৫৫৬৬৫ ভোট, কংগ্রেস পেয়েছে ১৩৭২৮ ভোট, সিপিএমের ঝুলিতে ১৯৯৮ ভোট, আইএসএফ পেয়েছে ৫৮৭ ও গণতান্ত্রিক তৃণমূল পেয়েছে ২৮৬টি ভোট।
চতুর্থ রাউন্ড শেষে ৩১,৫০৬ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি। পঞ্চম রাউন্ড শেষে ৪১ হাজার ভোটে এগিয়ে যান নন্দীগ্রামের প্রার্থী হাসিরানি রথ। গণনা কেন্দ্রের বাইরে দেখা যাচ্ছে উচ্ছ্বাসের ছবি। নন্দীগ্রামে দ্বিতীয় কংগ্রেস, তৃতীয় স্থানে সিপিএম, চতুর্থ স্থানে আইএসএফ। সবার শেষে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস।
ব্যালটে গণনা শেষ। এই প্রতিবেদন যখন প্রকাশিত হচ্ছে, তখন দ্বিতীয় রাউন্ডও শেষ। যা ট্রেন্ড, তাতে রেজিনগর-নন্দীগ্রামে কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থানে। একেবারে পিছিয়ে পড়েছে মমতা ও গণতান্ত্রিক তৃণমূল। নেতৃত্বের মতে, এটা আদতেই ম্যাজিকের মতো উত্থান। তাঁদের মতে, ভোট সঠিকভাবে হলে কংগ্রেসই প্রথম স্থানে আসত। ভোটলুঠের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতারি নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। তারপরও কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থানে।
বিস্তারিত পড়ুন: ম্যাজিকের মতো উত্থান, বড় চমক কংগ্রেসের! হাওয়া তৃণমূল
প্রথম রাউন্ড শেষে রেজিনগরে কোন দল কত ভোট পেল
বিজেপি ২০৪১৫
আজুপ ৩৮৬৫
কংগ্রেস ১২৯২
মমতা তৃণমূল ৭৪৬
সিপিএম ৫৪১
ঋতব্রত তৃণমূল ২৯৫
দেখা যায় গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ গণনাকেন্দ্র ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “প্রথম রাউন্ড দেখলাম। খাতা খুলেছি। ২-৩টে শিট দেখলাম। কিছু মানুষ ভোট দিয়েছে। জিরো করেনি।”
বিস্তারিত পড়ুন: ঘড়িতে সকাল ৯টা, ‘ঘুমোতে যাচ্ছি’ বলে হাঁটা দিলেন ঋতদের প্রার্থী
ইভিএম খুলেছে। তার আগে রেজিনগরে পোস্টাল ব্যালটে ৯৫ শতাংশ ভোট গেল বিজেপির ঝুলিতে। ৫০০ ভোটে এগিয়ে বিজেপির শাখারভ। কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হচ্ছে, তারা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তবে শাখারভ সরকার অনেকটাই এগিয়ে আছেন। মমতা তৃণমূল ও গণতান্ত্রিক তৃণমূল মাত্র ৪-৫টি করে ভোট পেয়েছে। হুমায়ুন কবীরের দল আজুপ প্রাথমিকভাবে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, পরে ইভিএম খুলতেই এগিয়ে যায় কংগ্রেস।
পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হয়ে গেল নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে। শুরুতেই এগিয়ে গেল বিজেপি। নন্দীগ্রামে এগিয়ে হাসিরানি রথ। রেজিনগরে এগিয়ে শাখারভ সরকার।
হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে মুক্তি পেয়ে ভোটে লড়েছেন মিলন প্রধান। গণনার দিন সকালে তিনি বললেন, “যেখানে মানুষ অবাধে ভোট দিতে পেরেছে, সেখানে কংগ্রেসে ভোট পড়েছে। কার কাছে রিপোল চাইব? যিনি রিপোল করাবেন, তিনিই তো ভোট করাচ্ছেন। নন্দীগ্রামে ঘুরে যা বুঝেছি, সঠিক ভোট হলে ২০ থেকে ২৫ হাজার ভোটে আমি জিততাম।” প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, “আমরা তো পুনর্নির্বাচন দাবি করেছিলাম। ভোট ভালোভাবে হলে মিলন প্রধান জিততেন।”
সকাল ৮টায় শুরু হবে গণনা। দুই জেলায় কড়া নিরাপত্তায় গণনা শুরু হতে চলেছে। একে একে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা হাজির হচ্ছেন গণনাকেন্দ্রে।
রেজিনগর কেন্দ্রের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখ বলেন, “আমি আশাহত, তার মধ্যেও আশাবাদী। সবাই জানে কী হয়েছে।”
কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, “যত সংখ্যক ভোটার তার থেকে বেশি ভোট পরেছে কিনা সেটাই দেখার জন্য এসেছি।”
নন্দীগ্রাম
বিজেপি- হাসিরানি রথ
কংগ্রেস- মিলন প্রধান
গণতান্ত্রিক তৃণমূল- এহতেশামুল হক
সিপিএম- শান্তিগোপাল গিরি
(এই কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন। শেষ মুহূর্তে প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করেন তাঁর প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে)
রেজিনগর
বিজেপি- শাখারভ সরকার
আজুপ (AJUP)- গোলাম নবী আজাদ
মমতা তৃৃণমূল- রবিউল ইসলাম
কংগ্রেস- আব্দুল্লাহিল কাফি
সিপিএম- সইদ আসাদ আলি
গণতান্ত্রিক তৃণমূল- শফিউজ্জামান শেখ
সরকার বদলের পর প্রথম উপভোট দেখল রাজ্য। এবার ফলাফলের অপেক্ষা। আজ, শুক্রবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর কেন্দ্রের উপ নির্বাচনের ফলাফলে নজর সব পক্ষের। পালাবদলের পর রাজ্য়ের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে অনেকটাই। প্রতীক হারিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল লড়েছে ফুটবলার চিহ্নে। রেজিনগরে ভোট নিয়ে অভিযোগ সরব হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির ঘরে আরও একটি আসন বাড়ছে কি না, সেদিকেই নজর সব পক্ষের।
রেজিনগরে ভোটের ফলাফল
প্রথম- বিজেপি (শাখারভ সরকার-৭৫,৮১৬ ভোটে জয়ী)
দ্বিতীয়- আজুপ
তৃতীয়- কংগ্রেস
চতুর্থ- এমআইটিসি
পঞ্চম – বাম
ষষ্ঠ-ডিটিএমসি
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ফলাফল
জয়ী বিজেপি (হাসিরানি রথ-১, ২২, ৭৫৩ ভোটে জয়ী)
দ্বিতীয় কংগ্রেস (মিলন প্রধান)
তৃতীয় বাম (শান্তি গোপাল গিরি)
চতুর্থ হয়েছে আইএসএফ ও পঞ্চম ডিটিএমসি
সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalyan Banerjee) এবার চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁকে ‘মাতাল’ বলে কটাক্ষ করলেন তিনি। এর আগে বারবার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূ মন্তব্য করেছিলেন কল্যাণ। সেই প্রসঙ্গ তুলেই এবার কল্যাণকে তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর। তবে, মুখ্যমন্ত্রীর দাবি কোনও অঙ্গভঙ্গি বা ব্যঙ্গ করে কোনওভাবেই তাঁকে আটকানো যাবে না।
বিস্তারিত পড়ুন, ‘সন্ধের পর তো স্থলে থাকেন না, জলে থাকেন’, কল্যাণকে তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর
উপনির্বাচনের ভোটপ্রচারে গিয়ে সংখ্যালঘুদের বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের ফল প্রকাশ হতেই সেই বন্ধুত্বের ছবি স্পষ্ট। সংখ্যালঘুরা আবেদনে সাড়া দিয়েছেন। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে এমনটাই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী। করজোড়ে সংখ্যালঘুদের ধন্যবাদ জানালেন তিনি। তিনি বলেন, “সরকারের বন্ধুত্বের হাত ধরেছেন সংখ্যালঘুরা, সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে বন্ধুত্ব করতে চান, আমি খুশি”।
বিস্তারিত পড়ুন, ‘সংখ্যালঘুরা বন্ধুত্বের হাত ধরেছেন, আমি খুশি’, উপনির্বাচনে রেকর্ড-ভাঙা সাফল্যে আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
পালাবদলের পর রাজ্যে প্রথম ভোট এই উপনির্বাচন। ফলাফলে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের প্রভাব একেবারে সুস্পষ্ট। গণতান্ত্রিক তৃণমূল জায়গা পেয়েছে সবার শেষে। মমতা তৃণমূল এই কেন্দ্রে কংগ্রেসকেই সমর্থন করেছে। কংগ্রেস রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে আর তৃতীয় স্থানে সিপিএম।
বিস্তারিত পড়ুন: নন্দীগ্রামে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙছে সিপিএম
নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর রেকর্ড ভাঙলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। উপ নির্বাচনে ১ লক্ষ ২০ হাজার ভোটের মার্জিনে জয়ী হলেন হাসিরানি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ৮১ হাজারের বেশি ভোটের মার্জিনে জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
আজ যখন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ফলাফল প্রকাশ হচ্ছে, তখন কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ‘ফ্রেন্ডশিপ বানালিয়া’। এবিভিপি-র একটি অনুষ্ঠানে এদিন আরজি কর হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রবেশ করার সময় দুই আঙুলে জয়ের চিহ্ন দেখান তিনি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে যেভাবে সংখ্যালঘু ভোট বিজেপির দিকে এসেছে, সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘ফ্রেন্ডশিপ বানালিয়া’ (বন্ধুত্ব করে ফেলেছি)।
নন্দীগ্রামে অষ্টম রাউন্ড শেষে বিজেপি প্রার্থী পেয়েছেন ৮৯৭০৯, কংগ্রেস পেয়েছে
২০১৭৩ ভোট, সিপিএম পেয়েছে ৩৪৩৫ ভোট, আইএসএফ পেয়েছে ৭৪৯ ভোট, গণতান্ত্রিক তৃণমূল পেয়েছে ৪৪১টি ভোট। নোটায় পড়েছে ৪০০টি ভোট। অর্থাৎ নোটার থেকে ঋতব্রতরা মাত্র ৪১ ভোটে এগিয়ে আছে।
সকাল থেকেই রেজিনগরের ট্রেন্ড পদ্ম শিবিরের দিকে। রাউন্ড যত এগিয়েছে, ততই মার্জিন বাড়িয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। ৭০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু ভোটার থাকা সত্ত্বেও বিজেপি উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছে। এই ট্রেন্ড দেখেই শাখারভের মুখে হাসি। তিনি বলেন, “অসাধারণ ফল হচ্ছে। আমার স্বপ্ন নন্দরানি ডল। নন্দরানি আমার আদর্শ।”
বিস্তারিত পড়ুন: ‘আমার স্বপ্ন নন্দরানি ডল’, শাখারভের আইডল এই বাম নেত্রী আসলে কে
সংখ্যালঘুদের মন হারিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং উল্টোটাই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তায় সাড়া দিয়ে গেরুয়া শিবিরের ওপরেই আস্থা রেখেছেন সংখ্যালঘুরা। সংখ্যালঘু ভোট পেয়েছে কংগ্রেসও। বাংলার যে কোনও নির্বাচনেই সংখ্যালঘু ভোট একটা বড় ফ্যা২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় জয় পেয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করে, যেখানে তাদের ভোটব্যাংকে বড় ধরনের মেরুকরণ ও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছিলক্টর। উপনির্বাচনের আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে বার্তা দিয়ে তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সরকারের সঙ্গে থাকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়ন তথা ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের পক্ষ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, “সংখ্যালঘু ভোটারদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ এবং তাদের প্রধানমন্ত্রী মোদীর উন্নয়নের ধারায় সামিল হতে হবে।” তাতে সাড়াও মিলল। সুযোগ হাতছাড়া হল না বিজেপির।
বিস্তারিত পড়ুন: ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘জুজু’ সবাই ধরে ফেলেছে’, সংখ্যালঘুদের মন জয় করে নিলেন শুভেন্দু
পঞ্চম রাউন্ডের শেষে নন্দীগ্রামে কে কত ভোট পেল
নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রাপ্তি ৫৫৬৬৫ ভোট, কংগ্রেস পেয়েছে ১৩৭২৮ ভোট, সিপিএমের ঝুলিতে ১৯৯৮ ভোট, আইএসএফ পেয়েছে ৫৮৭ ও গণতান্ত্রিক তৃণমূল পেয়েছে ২৮৬টি ভোট।
চতুর্থ রাউন্ড শেষে ৩১,৫০৬ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি। পঞ্চম রাউন্ড শেষে ৪১ হাজার ভোটে এগিয়ে যান নন্দীগ্রামের প্রার্থী হাসিরানি রথ। গণনা কেন্দ্রের বাইরে দেখা যাচ্ছে উচ্ছ্বাসের ছবি। নন্দীগ্রামে দ্বিতীয় কংগ্রেস, তৃতীয় স্থানে সিপিএম, চতুর্থ স্থানে আইএসএফ। সবার শেষে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস।
ব্যালটে গণনা শেষ। এই প্রতিবেদন যখন প্রকাশিত হচ্ছে, তখন দ্বিতীয় রাউন্ডও শেষ। যা ট্রেন্ড, তাতে রেজিনগর-নন্দীগ্রামে কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থানে। একেবারে পিছিয়ে পড়েছে মমতা ও গণতান্ত্রিক তৃণমূল। নেতৃত্বের মতে, এটা আদতেই ম্যাজিকের মতো উত্থান। তাঁদের মতে, ভোট সঠিকভাবে হলে কংগ্রেসই প্রথম স্থানে আসত। ভোটলুঠের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতারি নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। তারপরও কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থানে।
বিস্তারিত পড়ুন: ম্যাজিকের মতো উত্থান, বড় চমক কংগ্রেসের! হাওয়া তৃণমূল
প্রথম রাউন্ড শেষে রেজিনগরে কোন দল কত ভোট পেল
বিজেপি ২০৪১৫
আজুপ ৩৮৬৫
কংগ্রেস ১২৯২
মমতা তৃণমূল ৭৪৬
সিপিএম ৫৪১
ঋতব্রত তৃণমূল ২৯৫
দেখা যায় গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ গণনাকেন্দ্র ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “প্রথম রাউন্ড দেখলাম। খাতা খুলেছি। ২-৩টে শিট দেখলাম। কিছু মানুষ ভোট দিয়েছে। জিরো করেনি।”
বিস্তারিত পড়ুন: ঘড়িতে সকাল ৯টা, ‘ঘুমোতে যাচ্ছি’ বলে হাঁটা দিলেন ঋতদের প্রার্থী
ইভিএম খুলেছে। তার আগে রেজিনগরে পোস্টাল ব্যালটে ৯৫ শতাংশ ভোট গেল বিজেপির ঝুলিতে। ৫০০ ভোটে এগিয়ে বিজেপির শাখারভ। কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হচ্ছে, তারা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তবে শাখারভ সরকার অনেকটাই এগিয়ে আছেন। মমতা তৃণমূল ও গণতান্ত্রিক তৃণমূল মাত্র ৪-৫টি করে ভোট পেয়েছে। হুমায়ুন কবীরের দল আজুপ প্রাথমিকভাবে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, পরে ইভিএম খুলতেই এগিয়ে যায় কংগ্রেস।
পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হয়ে গেল নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে। শুরুতেই এগিয়ে গেল বিজেপি। নন্দীগ্রামে এগিয়ে হাসিরানি রথ। রেজিনগরে এগিয়ে শাখারভ সরকার।
হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে মুক্তি পেয়ে ভোটে লড়েছেন মিলন প্রধান। গণনার দিন সকালে তিনি বললেন, “যেখানে মানুষ অবাধে ভোট দিতে পেরেছে, সেখানে কংগ্রেসে ভোট পড়েছে। কার কাছে রিপোল চাইব? যিনি রিপোল করাবেন, তিনিই তো ভোট করাচ্ছেন। নন্দীগ্রামে ঘুরে যা বুঝেছি, সঠিক ভোট হলে ২০ থেকে ২৫ হাজার ভোটে আমি জিততাম।” প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, “আমরা তো পুনর্নির্বাচন দাবি করেছিলাম। ভোট ভালোভাবে হলে মিলন প্রধান জিততেন।”
সকাল ৮টায় শুরু হবে গণনা। দুই জেলায় কড়া নিরাপত্তায় গণনা শুরু হতে চলেছে। একে একে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা হাজির হচ্ছেন গণনাকেন্দ্রে।
রেজিনগর কেন্দ্রের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখ বলেন, “আমি আশাহত, তার মধ্যেও আশাবাদী। সবাই জানে কী হয়েছে।”
কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, “যত সংখ্যক ভোটার তার থেকে বেশি ভোট পরেছে কিনা সেটাই দেখার জন্য এসেছি।”
নন্দীগ্রাম
বিজেপি- হাসিরানি রথ
কংগ্রেস- মিলন প্রধান
গণতান্ত্রিক তৃণমূল- এহতেশামুল হক
সিপিএম- শান্তিগোপাল গিরি
(এই কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন। শেষ মুহূর্তে প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করেন তাঁর প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে)
রেজিনগর
বিজেপি- শাখারভ সরকার
আজুপ (AJUP)- গোলাম নবী আজাদ
মমতা তৃৃণমূল- রবিউল ইসলাম
কংগ্রেস- আব্দুল্লাহিল কাফি
সিপিএম- সইদ আসাদ আলি
গণতান্ত্রিক তৃণমূল- শফিউজ্জামান শেখ