AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Bangladesh Election: ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না কেউ, বাংলাদেশে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জেতায় আর কী কী পরিবর্তন হবে?

Bangladesh Election Results 2026: সংস্কারের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দলের প্রধান পদে থাকতে পারবেন না। যদিও এই প্রস্তাব নিয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি। 

Bangladesh Election: ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না কেউ, বাংলাদেশে গণভোটে 'হ্যাঁ' জেতায় আর কী কী পরিবর্তন হবে?
বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলে আসবে অনেক পরিবর্তন।Image Credit: PTI
| Updated on: Feb 14, 2026 | 2:21 PM
Share

ঢাকা: বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনে জয়ী বিএনপি (BNP)। সরকার গড়বে তারা। তবে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি হয়েছিল গণভোটও। সেই ভোটে জিতেছে গণভোট (Gana Vote)। বাস্তবায়িত হবে জুলাই সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাব। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জেতায় এবার বাংলাদেশে একাধিক পদক্ষেপ করা হবে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে।

বাংলাদেশের ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের কিছু বেশি। নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ৬০.২৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন। ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই সনদে দেওয়া প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা যেমন সীমাবদ্ধ হবে, তেমনই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়বে। যে কোনও সাংবিধানিক পদে নিয়োগ করা হবে শাসক, বিরোধী দল ও  বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিটির সিদ্ধান্তে।

সবথেকে বড় যে পরিবর্তন হবে, তা হল এবার বাংলাদেশের সংসদও দুই কক্ষের হবে। সংবিধান সংশোধনের নিয়মে আরও অনেক পরিবর্তন আসবে। একা কোনও দল সংবিধান বদলাতে পারবে না।

বর্তমানে বাংলাদেশে যে সংবিধান রয়েছে, তাতে অধিকাংশ ক্ষমতাই প্রধানমন্ত্রীর হাতে। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতির হাতে আর বিশেষ কোনও ক্ষমতা ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই তাঁকে কাজ করতে হত। এই সংস্কার হলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অনেকাংশে বাড়বে। কোনও বিষয়ে সংসদে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংসদদের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা বাড়বে। মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে কারও পরামর্শ বা সুপারিশ ছাড়াই নিজের এক্তিয়ারে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করতে পারবেন।

সংস্কারের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দলের প্রধান পদে থাকতে পারবেন না। যদিও এই প্রস্তাব নিয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি।

প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংস্কার সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ে সংবিধান সংস্কার না হলে কী হবে, তার উল্লেখ নেই।

প্রসঙ্গত, হাসিনা সরকারের পতনের পর, মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দেশের সংস্কারের কাজে নামেন। ধাপে ধাপে আলোচনার পর, ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কমিশনের দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়। এগুলো নিয়ে তৈরি করা হয় জুলাই জাতীয় সনদ। এর মধ্যে ৪৮টি প্রস্তাবই সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত। কিছু প্রস্তাব ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।