Sheikh Hasina on Bangladesh Election Results: প্রতি ৫ সেকেন্ডে একটা ভোট! বাংলাদেশ নির্বাচনকে ‘পরিকল্পিত প্রতারণা’ বললেন হাসিনা
Bangladesh Election Results 2026: হিংসা ও বেনিয়মের অভিযোগও আনেন হাসিনা। ভোটের আগের দিন (১১ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন স্থানে হিংসা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, আগাম ব্যালট বক্স ভরা সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধেই এই অভিযোগ আনা হয়েছে।

নয়া দিল্লি: বাংলাদেশের নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই আবারও আক্রমণ শানালেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, জনমতের নির্বাচন নয়, এটি ছিল সংখ্যার কারসাজির ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রশাসনিক জালিয়াতির মহড়া।
বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লিগ। বিপুল জনমতে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন নিয়ে সরকার গড়তে চলেছে তারেক রহমানের বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান। তবে এই নির্বাচন ও নির্বাচনের ফলাফলকে মানতে নারাজ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লিগের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেছেন, “১২ ফেব্রুয়ারি দেশবাসী দেখেছে এক পরিকল্পিত প্রতারণা-প্রহসনের নির্বাচন, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায় হিসাবে লিপিবদ্ধ থাকবে। এই নির্বাচনে ভয়ঙ্কর কারচুপি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ধাপে ধাপে প্রকাশিত ভোটের শতাংশেও গুরুতর অসঙ্গতি ও অবাস্তব চিত্র ধরা পড়েছে।”
হাসিনার দাবি, মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলেছে। ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে পরিসংখ্যানগত অসঙ্গতি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের তথ্য বলছে সকাল ১১টার মধ্যে ১৪.৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। দুপুর ১২টার মধ্যে হঠাৎ বেড়ে ৩২.৮৮ শতাংশ ঘোষণা করা হয়। এক ঘণ্টায় প্রায় ১৭.৯২ শতাংশ বৃদ্ধি অস্বাভাবিক বলে দাবি করেন হাসিনা। প্রতি কেন্দ্রে প্রতি ৫-৬ সেকেন্ডে একটি করে ভোট পড়েছে, এই হিসাবকে “বাস্তবে অসম্ভব” বলেই দাবি করেছেন হাসিনা।
হাসিনা জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কিছু কেন্দ্রে ভোট দিতে গড়ে দেড় মিনিট থেকে পৌনে তিন মিনিট পর্যন্ত সময় লেগেছে। নির্বাচন কমিশন মোট ভোটের যে হিসাব দিয়েছে, তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাস্তব চিত্র- ফাঁকা ভোটকেন্দ্র, নিষ্ক্রিয় বুথ, অনুপস্থিত ভোটার, এগুলোর সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
এছাড়া হিংসা ও বেনিয়মের অভিযোগও আনেন হাসিনা। ভোটের আগের দিন (১১ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন স্থানে হিংসা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, আগাম ব্যালট বক্স ভরা সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধেই এই অভিযোগ আনা হয়েছে।
আগের নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লিগের শাসনকালে বিএনপি দুটি নির্বাচন বয়কট করেছিল। কিন্তু আওয়ামী লিগ কখনও নির্বাচন বয়কট করেনি, বরং তাদের নিষিদ্ধ ও দমন করা হয়েছে।
মহম্মদ ইউনূসের সরকারের সমালোচনা করে “অবৈধ ও একতরফা” আখ্যা দিয়ে হাসিনা বলেছেন, মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে এবং একতরফা নির্বাচন করেছে।
গণভোটেও সরকারের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে আওয়ামী লিগের তরফে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে “হ্যাঁ” ভোট দেওয়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ। জাতীয় নির্বাচনের ফল দ্রুত প্রকাশ হলেও একই দিনের গণভোটের ফল প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পরে প্রকাশ করা হয়। এতে কারচুপির সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। হাসিনা ও আওয়ামী লিগের দাবি, এই নির্বাচন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেনি; বরং অবিশ্বাস ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
