Iran-US ceasefire talk: ‘অযৌক্তিক দাবি, হরমুজ় খুলব না’ পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের, থমকে যাবে বিশ্ববাণিজ্য?
Iran-US ceasefire update: ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি টেলিগ্রামে জানিয়েছে, "ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইরানের প্রতিনিধিদল একটানা ও নিবিড়ভাবে ২১ ঘণ্টা আলোচনা চালিয়েছে। ইরানের তরফে উদ্যোগ সত্ত্বেও আমেরিকা অযৌক্তিক দাবি আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা দিয়েছে। তাই শান্তি বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে।"

তেহরান : ২১ ঘণ্টা। বন্ধ ঘরে ম্যারাথন বৈঠক। শেষ পর্যন্ত ফল শূন্য। আমেরিকার শর্তে রাজি হল না ইরান। খালি হাতেই ইসলামাবাদ থেকে আমেরিকার ফিরলেন জেডি ভান্স। তাঁর দাবি, বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। তাঁদের তরফে যতটা সম্ভব চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু, ইরান রাজি হয়নি। কোনও ডিল ছাড়াই তাঁদের ফিরে হচ্ছে। ভান্সের এই মন্তব্যের পরই সুর চড়িয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, আমেরিকা যে দাবিগুলো করেছে তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। পাল্টা ট্রাম্পের হুংকার হরমুজ় খুলতেই হবে।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি টেলিগ্রামে জানিয়েছে, “ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইরানের প্রতিনিধিদল একটানা ও নিবিড়ভাবে ২১ ঘণ্টা আলোচনা চালিয়েছে। ইরানের তরফে উদ্যোগ সত্ত্বেও আমেরিকা অযৌক্তিক দাবি আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা দিয়েছে। তাই শান্তি বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে।” ইরানের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, স্বাভাবিকভাবে শুরু থেকেই একটি মাত্র বৈঠকেই কোনও চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করা উচিত ছিল না। এমন কোনও প্রত্যাশা কারও ছিলও না। তাহলে কি আবারও শান্তি বৈঠক হতে পারে? নাকি দুই পক্ষই আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াতে চলেছে? সংশয়-উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।
হরমুজ় নিয়েও বৈঠকে কোনও রফাসূত্র বেরোয়নি। এদিকে, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজের দখল তারা ছাড়বে না। এদিকে, শান্তি বৈঠক ভেস্তে যেতেই চটে লাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ় খুলতেই হবে। হরমুজ়ে মাইন সরানোর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের হুংকার, ‘হরমুজ় খুলেই ছাড়ব।’
যুদ্ধের প্রায় এক মাস পর ইসলামাবাদে মুখোমুখি হয় ইরান ও আমেরিকা। গতকাল সেদিকেই নজর ছিল গোটা বিশ্বের। কিন্তু, ২১ ঘণ্টা বৈঠকের পর জেডি ভান্স বলেন, “আমরা খুব স্পষ্ট করে জানিয়েছি আমাদের ‘রেড লাইন’ কোথায়, কোন বিষয়গুলোতে আমরা তাদের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত এবং কোন বিষয়গুলোতে আমরা মোটেও ছাড় দিতে রাজি নই। আমরা যতটা সম্ভব পরিষ্কারভাবে সেটা বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা হয়তো আমাদের শর্তগুলো গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে, আমরা ইরানের সঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি—এটাই ভালো দিক। কিন্তু খারাপ দিক হল, আমরা এখনো কোনও চুক্তিতে পৌঁছতে পারিনি। আর আমার মতে,ইরানের জন্যই সত্যিই খুব খারাপ খবর।”
জানা গিয়েছে, আবারও বৈঠকে বসতে পারে ইরান-আমেরিকা। ইসলামাবাদের তরফে শান্তি বৈঠকের দিন বাড়ানোর অনুরোধ করা হবে। এখন সেই অনুরোধ মেনে তারা বৈঠকে বসেন কিনা, বা বৈঠকে বসলেও কোনও সমাধান সূত্রে মেলে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।
