Meta: চাইলেই আপনার ‘এনক্রিপটেড’ হোয়াটসঅ্যাপ পড়ে ফেলতে পারে Meta! বিস্ফোরক অভিযোগে মামলা হল আদালতে
সান ফ্রান্সিসকোর নর্দান ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার জেলা আদালতে ওই 'হুইসল-ব্লোয়ার'-রা নিজেদের নাম-পরিচয় গোপন রেখে যে মামলা দায়ের করেছেন, তার সারবত্তা, বিশ্ব জুড়ে কয়েক'শ কোটি হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারদের স্বার্থে আন্তর্জাতিক মানের পদক্ষেপ করা হোক মেটা-র বিরুদ্ধে।

‘এন্ড টু এন্ড এনক্রিপ্টেড’ ভেবে যে চ্যাট-কে নিরাপদ ভাবেন, সেই চ্যাট কি আদৌ ততটা নিরাপদ নয়? চাইলেই কি মেটা(Meta)-র মতো সংস্থা তাদের অধীনস্থ সংস্থা হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) ইউজারদের ‘গোপন’ চ্যাট পড়ে ফেলতে পারে? মার্কিন তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থা মেটা-র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দিলে আদালতের দ্বারস্থ হলেন একদল ‘তথ্য ফাঁসকারী’ বা ‘হুইসল-ব্লোয়ার’।
মামলাকারীদের দাবি, ‘হোয়াটসঅ্যাপ’ তাদের ইউজারদের গোপন বা এনক্রিপ্টেড মেসেজ চাইলেই পড়তে পারে। যদিও মার্ক জুকারবার্গের (Mark Zuckerberg) সংস্থা ‘মেটা’ এই দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছে। সংস্থার দাবি, হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ সম্পূর্ণ নিরাপদ ও গোপনীয়। কেউ, এমনকী সংস্থা চাইলেও ইউজারদের কথোপকথন পড়তে পারে না। তবে মেটা যে দাবিই করুক না কেন, এই নয়া বিতর্ক হোয়াটসঅ্যাপের এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন (end-to-end encryption) বা E2EE নিয়ে জোরাল প্রশ্ন উঠে গিয়েছে ওয়েব দুনিয়ায়।
এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন একধরনের সিগন্যাল প্রোটোকল, যাকে ইন্ডাস্ট্রির নিরিখে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ বা সেরা বলে ধরা হয়। হোয়াটসঅ্যাপ তাদের ইউজাদের চ্যাটকে এতটাই গোপনীয় রাখে যে অনেক সময় কোনও মামলার স্বার্থে সরকারের অনুরোধও তারা ফিরিয়ে দেয়। এমনকী, কোনও থার্ড পার্টি অ্যাপের সাহায্যে বা হ্যাক করেও এই মেসেজিং অ্যাপে হওয়া বার্তালাপ পড়া যায় না বলেই এতদিন নিজেদের বিজ্ঞাপন করে এসেছে ‘মেটা’ অধীনস্থ এই সংস্থা। কিন্তু সংস্থার সেই দাবিকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিলেন অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ভারত, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার একদল ডেটা এক্সপার্ট।
সান ফ্রান্সিসকোর নর্দান ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার জেলা আদালতে ওই ‘হুইসল-ব্লোয়ার’-রা নিজেদের নাম-পরিচয় গোপন রেখে যে মামলা দায়ের করেছেন, তার সারবত্তা, বিশ্ব জুড়ে কয়েক’শ কোটি হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারদের স্বার্থে আন্তর্জাতিক মানের পদক্ষেপ করা হোক মেটা-র বিরুদ্ধে। দায়ের করা মামলায় দাবি করা হয়েছে, মেটা ও হোয়াটসঅ্যাপ দুই সংস্থা-ই তাদের প্রত্যেক ব্যবহারকারীর সব মেসেজ সুকৌশলে সঞ্চয় করে রাখে, পড়ে ও সেই মেসেজ বিশ্লেষণ করে ইউজারদের ‘প্রোফাইল’ তৈরি করে।
মামলাকারীদের বিস্ফোরক অভিযোগ, নিজেদের মধ্যে চ্যাট করছেন এমন দুজন ব্যক্তির গোপন কথোপকথনও চাইলেই একজন হোয়াটসঅ্যাপ ইঞ্জিনিয়ার পড়ে ফেলতে পারেন। তার জন্য শুধু দরকার, সংস্থার কোনও একজন উচ্চপদস্থ কর্তার অনুমতি। মামলাকারীরা বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি ইউজারদের সঙ্গে রোজ প্রতারণা হচ্ছে বলেও লিখিত অভিযোগ করেছেন মেটা-কর্তার বিরুদ্ধে।
‘মেটা’ ইচ্ছা করে ভুল বিজ্ঞাপন দ্বারা ইউজারদের বোকা বানাচ্ছে, আসল তথ্য গোপন করছে বলেও অভিযোগ। পাল্টা মেটা-র আইনজীবীও এই অভিযোগকারীদের দাবিকে ‘ভ্রান্ত’ বলে উল্লেখ করে মামলা লড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছে। মেটা-র দাবি, চলতি মাসেই সংস্থা হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক ইউজারদের জন্য ‘প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন’ চালু করছে। মানে, ‘ফ্রি’ ছাড়াও এই সব সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ‘পেড সাবস্ক্রিপশন’-ও পাওয়া যাবে।
ওই পরিষেবা চালুর আগে সংস্থাকে বেইজ্জত করতে এসব রটানো হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ মেটা-র আইনজীবীর। তবে এই দাবি-পাল্টা দাবির মধ্যে ‘গোপনয়ীতা’ বিতর্ক অন্য মাত্রা পেয়েছে এক্স (সাবেক টুইটার)-এর কর্ণধার ইলন মাস্কের হস্তক্ষেপে। স্পেস এক্স-এর কর্ণধার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপ মোটেও নিরাপদ নয়। বদলে আপনারা ‘এক্স চ্যাট’ ব্যবহার করুন।’ বলাই বাহুল্য, মাইক্রো ব্লগিং সাইট ‘এক্স’ সম্প্রতি তাদের ওয়েবসাইটে চ্যাটের অপশন-ও নিয়ে এসেছে।
WhatsApp is not secure. Even Signal is questionable.
Use 𝕏 Chat. https://t.co/MWXCOmkbTD
— Elon Musk (@elonmusk) January 27, 2026
