AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

BNP নেতা পাশে দাঁড়িয়ে, খুলল আওয়ামী লীগের অফিস! বাংলাদেশে কামব্যাক হাসিনার?

Awami League Bangladesh: বাংলাদেশে নির্বাচন মিটতেই এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রীত্বে বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ার পরেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঢাকা সহ বেশকিছু জেলা ও উপজেলায় দলীয় কার্যালয় খুলে প্রবেশ করেছে। আবার কিছু জায়গায় কার্যালয় খোলার পর পাল্টা দখল ও হামলার ঘটনাও ঘটে।

BNP নেতা পাশে দাঁড়িয়ে, খুলল আওয়ামী লীগের অফিস! বাংলাদেশে কামব্যাক হাসিনার?
ফাইল চিত্র।Image Credit: X
| Updated on: Feb 22, 2026 | 4:41 PM
Share

ঢাকা: বাংলাদেশে কি ঘুরে যাচ্ছে হাওয়া? আবার আওয়ামী লীগের পালে হাওয়া লাগছে? বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়েছে বিএনপি। আর তারপরই খুলছে আওয়ামী লীগের অফিসের দরজা। বাংলাদেশের একাধিক জায়গাতেই আওয়ামী লীগের অফিস বা কার্যালয় খুলেছে বা অনেকেই বন্ধ কার্যালয়ে আবার ঢোকার চেষ্টা করছেন। তবে কি হাসিনা আবার বাংলাদেশে সক্রিয় হচ্ছেন? তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এবং তারপরই প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাওয়া যেমন অনেককে চমকে দিয়েছে, তেমনই আওয়ামী লীগও প্রায় দুই বছরের নির্বাসন কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসবে?

আওয়ামী লীগের একের পর এক অফিস খুলতেই এবং তার সামনে কর্মীদের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে যে ব্যক্তিগত উদ্যোগেই কি আওয়ামী লীগের কর্মীরা অফিস খুলছেন নাকি দলের নির্দেশে এই কাজ করছেন? অনেকেই আবার এই প্রশ্নও তুলছেন যে এর পিছনে বিএনপি বা অন্য কারোর মদত কিংবা সমঝোতা নেই তো?

২০২৪ সালের অগস্ট মাসে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়া হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরই ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের যাবতীয় রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করে দেয়। ২০২৪ সালেই নিষিদ্ধ হয়েছিল ছাত্রদলও। এবারের নির্বাচনে সেই কারণেই অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের একের পর এক কার্যালয়ে ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এমনকী, দফায় দফায় ৩২ ধানমন্ডির বাড়ি, যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সপরিবারে থাকতেন, তা ভাঙচুর করা হয়।

তবে বাংলাদেশে নির্বাচন মিটতেই এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রীত্বে বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ার পরেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঢাকা সহ বেশকিছু জেলা ও উপজেলায় দলীয় কার্যালয় খুলে প্রবেশ করেছে। আবার কিছু জায়গায় কার্যালয় খোলার পর পাল্টা দখল ও হামলার ঘটনাও ঘটে।

এতদিন আত্মগোপনে থাকা দলটি হঠাৎ কেন তৎপর হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম বিবিসি বাংলাকে বলছেন, “দলের কার্যালয় নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সেখানে যেতে বাধা নেই। এখানে নির্দেশ বা সমঝোতার কিছু নেই। কর্মী-সমর্থকরা দলীয় কার্যালয়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। ইউনূসের অবৈধ সরকারের বিদায়ের পর দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সবার জন্য উন্মুক্ত হবে, এটা আশা করে তৃণমূলের কর্মী- সমর্থকরা দলীয় কার্যালয়ে যাচ্ছে বা যেতে চাইছে।”

দলীয় সূত্রে খবর, শেখ হাসিনা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে নিয়মিত নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সেখানেই তিনি কার্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এছাড়াও দলটির কয়েকটি জেলার নেতা-কর্মীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি বা জামায়াতের প্রভাবশালী নেতারা নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে ভোটের সমর্থনের আশায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় ও জনপ্রিয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সেই সময়ই আওয়ামী লীগের নেতাদের নির্বাচনের পর কার্যালয় খুলতে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

নির্বাচনের পরের দিনই পঞ্চগড়ের আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়ের তালা খোলার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। দেখা যায়, বিএনপির স্থানীয় একজন নেতার উপস্থিতিতে তালা খুলছেন আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এই নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়।  এরপর গত এক সপ্তাহে চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা, বরগুনার বেতাগী ও পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা কার্যালয় এবং খুলনায় কার্যালয় খুলে অবস্থান করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।