
কাবুল : পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ফের সংঘর্ষ শুরু। আফগানিস্তানের ৭ জঙ্গিঘাঁটিকে লক্ষ্য করে আকাশপথে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। হামলার জেরে কমপক্ষে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে আফগান সরকারের তরফে। একইসঙ্গে পাকিস্তানকে প্রস্তুত থাকার বার্তা দিয়েছে তালিবান সরকার। আফগানিস্তানের হুঁশিয়ারি, এই হামলার বদলা তারা নেবেই। শুধু সময়ের অপেক্ষা।
পাকিস্তানের মন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার এক্স হ্যান্ডেলে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাকিস্তান সরকারের দাবি, সীমান্ত এলাকায় জঙ্গিঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে, আফগানিস্তানের দাবি, বসতি এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইসলামাবাদ। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জ়াবিউল্লা মুজাহিদ জানিয়েছেন, পাকিস্তান বসতি এলাকায় হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, “শনিবার রাতে পক্তিকা, নঙ্গরহারের বসতি এলাকায় বোমা হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। হামলার জেরে ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে একই পরিবারের ২৩ জন সদস্য। তাঁদের মধ্যে থেকে ৪ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।” তালিবান সরকারের দাবি অনুযায়ী, হামলার জেরে কমপক্ষে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। তাঁদের মধ্যে মহিলা ও শিশুরাও রয়েছেন ।”
হামলার তীব্র নিন্দা করে আফগানিস্তান এই হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে। একইসঙ্গে তালিবান সরকারের হুঁশিয়ারি, তারা চুপ করে বসে থাকবে না। ঠিক সময়ে পাকিস্তানকে কড়া জবাব দেবে। পাকিস্তান সরকার এই ধরনের হামলা চালিয়ে অক্ষমতাকে ঢাকার চেষ্টা করছে। প্রসঙ্গত, ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের একটি মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটে। ২০০৮ সালে ম্যারিয়ট হোটেলে বিস্ফোরণের পর পাকিস্তানে এটাই সবথেকে বড় বিস্ফোরণের ঘটনা। মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৩১ জনের। ১৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে খবর। এই হামলার পিছনে তালিবান গোষ্ঠীর হাত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ইসলামাবাদের তরফে। অবশ্য, হামলার দায় স্বীকার করেছে তালিবানরা। হামলার বদলা নেওয়ার জন্যই জঙ্গিঘাঁটিতে পাকিস্তান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সম্প্রতি আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। সামরিক সংঘর্ষও হয়েছে দুই দেশের। পাকিস্তানের দাবি, তালিবান বিদ্রোহীদের মদত দিচ্ছে ভারত। যদিও সেই অভিযোগ প্রথমেই উড়িয়ে দিয়েছে দিল্লি। সম্প্রতি, দিল্লিতেও বড়সড় হামলার ছক কষছে পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তইবা, এমনই খবর পাওয়া গিয়েছিল গোয়েন্দা সূত্রে। তারপর থেকেই দিল্লির লালকেল্লা, চাঁদনি চকে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে,পাকিস্তানে মসজিদ বিস্ফোরণের ঘটনার বদলা নেওয়ার জন্যই দিল্লিতে বড় বড় মন্দিরগুলিতে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।