Riyadh Airport Attack: সৌদি আরবের রিয়াধ বিমানবন্দরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা! মৃত ১২, আহত ৩০০-র বেশি
Riyadh Airport Missile Attack: অভিযোগ, শনিবার বিকেলে রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। মূলত, বিমানবন্দরের ৩ এবং ৪ নম্বর টার্মিনাল সংলগ্ন কমপ্লেক্সে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। মূলত ডোমেস্টিক উড়ানের জন্য এই দুটি টার্মিনাল ব্যবহার করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক হামলার বিষয়টি জানিয়েছেন।

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলিতে যত হামলা হয়েছে, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী বলে দাবি করা হয়েছে। সম্প্রতি ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র হয়েছে। তার মধ্যেই সৌদির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে এই হামলা ঘিরে উদ্বেগ বেড়েছে।
কীভাবে হামলা হল বিমানবন্দরে?
অভিযোগ, শনিবার বিকেলে রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। মূলত, বিমানবন্দরের ৩ এবং ৪ নম্বর টার্মিনাল সংলগ্ন কমপ্লেক্সে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। মূলত ডোমেস্টিক উড়ানের জন্য এই দুটি টার্মিনাল ব্যবহার করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক হামলার বিষয়টি জানিয়েছেন।
সৌদি প্রশাসনের বিবৃতি অনুযায়ী, মৃত ১২ জনের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক। এছাড়া দু’জন বাংলাদেশের নাগরিক। এছাড়া, একজন প্যালেস্তিনীয়, একজন মার্কিন নাগরিক, একজন মিশরীয়, একজন জর্ডনের নাগরিক, একজন সিরিয়ার এবং একজন সুদানের নাগরিক রয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
বন্ধ বিমানবন্দর, ঘুরিয়ে দেওয়া হল একাধিক উড়ান
হামলার পরই কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। গোটা বিমানবন্দর চত্বর ঘিরে ফেলে নিরাপত্তাবাহিনী। সমস্ত প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, একাধিক বিমান অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকা, ব্রিটেন, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডা তাদের নাগরিকদের ওই বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহে একাধিকবার এই বিমানবন্দরকে নিশানা করা হয়েছে। এর আগে হুথিদের দাবি করা হামলায় এক পাইলট-সহ তিন সৌদি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল।
হামলা নিয়ে কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পরই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে আমেরিকা সরাসরি অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। শনিবার হামলার পর ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। সদ্য এই হামলার খবর পেয়েছি। খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” পরে তিনি জানান, সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সৌদি আরবে যা ঘটেছে, তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এই হামলার জন্য সরাসরি হুথি বিদ্রোহীদের দায়ি করেছে। যদিও সর্বশেষ হামলা নিয়ে হুথিদের তরফে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে শনিবারই হুথিরা অভিযোগ করেছিল, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।
