Robot Olympics in China: রোবটদের অলিম্পিক্সে ‘ভাঙা-গড়া’-র খেলা, লক্ষ্যে সফল হবে চিন?
Humanoid robots break Bolt’s record: দেশটা চিন বলেই বোধহয় প্রশ্ন উঠছে, এত কোটি কোটি টাকা খরচ করে যে অলিম্পিক্সের আয়োজন করা হয়েছে, আদৌ সফল হবে তো? কারণ, একদিকে, চিনা রোবটরা টেনিস খেলছে, দেখতে যেমন ভিড় হচ্ছে গ্যালারিতে। তেমনই দ্রুতগতিতে দৌড়ে এসে একটি চিনা রোবট সজোরে সাইডলাইনে ধাক্কা খেল- সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে মার্কিন মিডিয়ায়।

বেজিং: রোবটদের মল্লযুদ্ধ! যন্ত্রমানবদের অলিম্পিক্স। বেজিংয়ে সদ্য শেষ হল ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমস। ১৬ দেশের ৬৬৬টি আন্তর্জাতিক টিমের প্রায় ২ হাজারেরও বেশি রোবট অংশ নেয় ৫১ ধরনের ইভেন্টসে। বলাই বাহুল্য, চিন আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টে সবথেকে বেশি পুরস্কারও জিতে নেয় চিনা রোবটই। এই অলিম্পিক্সেই ভাঙল বিশ্বের দ্রুততম ব্যক্তি উসেইন বোল্টের বিশ্ব রেকর্ড। রোবটের কাছে দশ গোল খাচ্ছে সোনাজয়ী চিনা অ্যাথলিটরাও।
২০০৯-এ জার্মানির বার্লিনে ১০০ মিটারের দৌড় উসেইন বোল্ট মাত্র ৯.৫৮ সেকেন্ডে শেষ করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। এতদিন সেটাই ছিল বিশ্বের দ্রুততম ১০০ মিটারের দৌড়। কিন্তু গত ২২ অগস্ট বোল্টের রেকর্ড ভাঙে হিউম্যানয়েড ‘তিয়ানঝু’। ১০০ মিটারের স্প্রিন্ট শেষ করে মাত্র ৯.৩৯ সেকেন্ডে। মোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থা HONOUR -এর আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ফ্ল্যাশ’ দৌড় শেষ করে ৯.৩২ সেকেন্ডে। দু’জনেই বিশ্বের দ্রুততম মানুষের রেকর্ড ভেঙে নয়া ইতিহাস লিখল। তফাৎ শুধু একটাই, এরা কেউ-ই মানুষ নয়, মানুষের বানানো হিউম্যানয়েড বা রোবট।
কী দেখা গেল রোবট অলিম্পিক্সে?
- বেজিংয়ে ৫ দিনের আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিক্স
- নামী চিনা অ্যাথলিটদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রোবট
- সোনাজয়ীকেও কুপোকাত করছে ‘হিউম্যানয়েড’
- দৌড়ে বোল্টের বিশ্বরেকর্ড ভাঙল ‘ফ্ল্যাশ’ রোবট
গত ১০ বছর ধরেই চিনে এই প্রতিযোগিতা চললেও, ২০২৫ থেকে খোদ চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই রোবট অলিম্পিক্সে উৎসাহ দেখাচ্ছেন। কারণ, আর কিছুই নয়, চিনে তৈরি রোবট বিশ্বজুড়ে বিক্রির লক্ষ্যে। তাই চিনা শিল্প সংস্থাগুলি এরকম বড় মাপের প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে। দুনিয়ার মিডিয়া ও দর্শকদের দেখানো হচ্ছে, চিনা রোবট সবরকম কাজে পারদর্শী। বাড়ির খুঁটিনাটি কাজ থেকে গাড়ি সরানোর মতো কঠিন কাজ, জামাকাপড় ভাঁজ করে রাখা থেকে সুস্বাদু রান্না– সবই করতে পারবে এই হিউম্যানয়েড। চিনা সরকার এই অলিম্পিক্সে প্রচুর টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। সেই সঙ্গে ২০২৭-এ বিশ্বজুড়ে কাজের রোবট সরবরাহের লক্ষ্যে তৈরি হয়েছে ন্যাশনাল রোবোটিক্স ফান্ডও। রিমোট কন্ট্রোল চালিত রোবট নয়, জোর দেওয়া হচ্ছে AI নির্ভর স্ময়ংক্রিয় রোবটে। যে একাই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারবে। সেই লক্ষ্যেই এই অলিম্পিক্সে প্রতিযোগী রোবটগুলি স্ময়ংক্রিয়ভাবে দৌড়োচ্ছে, লাফাচ্ছে। এভাবেই টেবিল টেনিস, হাই জাম্প, ম্যারাথনে ভেঙে যাচ্ছে সোনাজয়ী চিনা অ্যাথলিটদের বিশ্বরেকর্ড।

তবে চিনা রোবট কি আদৌ টেকসই?
দেশটা চিন বলেই বোধহয় প্রশ্ন উঠছে, এত কোটি কোটি টাকা খরচ করে যে অলিম্পিক্সের আয়োজন করা হয়েছে, আদৌ সফল হবে তো? কারণ, একদিকে, চিনা রোবটরা টেনিস খেলছে, দেখতে যেমন ভিড় হচ্ছে গ্যালারিতে। তেমনই দ্রুতগতিতে দৌড়ে এসে একটি চিনা রোবট সজোরে সাইডলাইনে ধাক্কা খেল- সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে মার্কিন মিডিয়ায়। ‘তিয়ানপু’ নামের একটি রোবট যখন প্রতি সেকেন্ডে ১৪.৫ মিটার দৌড়োতে শুরু করে, তাকে থামাতে পারলেন না নির্মাতারা। চোখের নিমেষে সাইডলাইনে গিয়ে সজোরে ধাক্কা খেল দুপেয়ে রোবট। এছাড়াও শয়ে শয়ে রোবট কাজ করেনি, কেউ মাঝপথেই ভেঙে গেছে, কেউ আবার উল্টো পাল্টা কাজ করল এই পাঁচদিনের অলিম্পিক্সে। ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন একটি রোবটের উপর চার-পাঁচটি রোবট উঠে পড়ল। মার্শাল আর্ট ইভেন্টে একটি রোবট নিজেই নিজের মাথায় ঘুষি মেরে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।
