
ওয়াশিংটন: ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ ছাড়া আর কিছু ভাবতেই পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। প্রতিবারই তিনি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ (India-Pakistan War) নিয়ে নানা দাবি করেছিলেন। এবার ভারত-পাকিস্তানের সংঘাতের সময় কটা জেট ধ্বংস হয়েছিল, তা নিয়ে দাবি করলেন। জানালেন কটা বিমান ধ্বংস হয়েছিল সেই সময়। একইসঙ্গে মনে করিয়ে দিলেন ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামানো নিয়ে তাঁর মধ্যস্থতার কথা।
মায়ামিতে আমেরিকা বিজনেস ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজের ঢাক পিটিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে গত ৭ থেকে ১০ মে-র মধ্যে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ৮টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, “আপনারা জানেন, তখন আমি দুই দেশের (ভারত ও পাকিস্তান) সঙ্গেই বাণিজ্যচুক্তির মাঝে ছিলাম। তখন একটা সংবাদপত্রের প্রথম পাতা পড়ি…শুনলাম ওরা যুদ্ধ করতে যাচ্ছে। সাতটি বিমান ধ্বংস করা হয়েছে, আট নম্বর বিমানও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত…মোট আটটি বিমান ধ্বংস হয়েছিল।”
প্রসঙ্গত, ভারত-পাকিস্তানের সংঘাতের পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করে আসছেন যে তিনিই মধ্যস্থতা করে যুদ্ধ থামিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৬০ বার এই দাবি করেছেন তিনি। যদিও ভারত সরকার প্রথমেই ট্রাম্পের এই দাবি খারিজ করে দিয়েছিল।
যুদ্ধ থামানোর প্রসঙ্গে যুদ্ধবিমান ধ্বংসের কথাও বারবার উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। প্রথমে তিনি দাবি করেছিলেন পাঁচটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল। পরে তা বাড়িয়ে সাতটি এবং এখন আটটি বিমান ধ্বংসের দাবি করলেন। যদিও ওই যুদ্ধবিমান কোন দেশের, তা বলেননি ট্রাম্প।
ভারত অপারেশন সিঁদুরের পরই জানিয়েছিল, পাকিস্তানের ৮-১০টি ফাইটার জেট, যার মধ্যে মার্কিন এফ-১৬এস ও চিনা জেএফ-১৭ ছিল, তা ধ্বংস করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, এই সামিটেই ট্রাম্প ফের একবার বলেন যে তাঁর মধ্যস্থতার কারণে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য পরমাণু যুদ্ধ থামানো সম্ভব হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “এই যুদ্ধ হয়েই যেত। দুটো পরমাণু শক্তিধর দেশ। আমি বলেছিলাম যদি তোমরা শান্তিতে রাজি না হও, তাহলে তোমাদের সঙ্গে কোনও বাণিজ্য চুক্তি করব না। দুই দেশই বলল, কোনওভাবেই না। আমি বললাম, তোমাদের কাছে পরমাণু শক্তি আছে। আমি তোমাদের সঙ্গে বাণিজ্য করব না। যদি তোমরা যুদ্ধ করো, তাহলে তোমাদের সঙ্গে বাণিজ্য করব না।”
ট্রাম্প দাবি করেন যে ২৪ ঘণ্টা পরই তিনি ভারত ও পাকিস্তানের কাছ থেকে ফোন পান। দুই দেশই জানায় যে তারা সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে। বলেন, “আমি শুনে বলি, থ্যাঙ্ক ইউ, এবার বাণিজ্য করব আমরা। এটা ভাল না? শুল্ক চাপানোর ভয় না থাকলে, এটা কখনও সম্ভব হত না।”