US-Iran: ‘কেউ মাথা নত করবে না’, আমেরিকার ‘হুমকি’-র মাঝেই পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের
US-Iran Conflict: আমেরিকার ঘোষণার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ। এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন,"আমেরিকা জানে তাদের আস্ফালন কেউ বিশ্বাস করে না। অন্য দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক আরও সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থায় আমেরিকা নেই।"

ওয়াশিংটন ও তেহরান: ইরানের উপর চাপ বাড়াতে এবার আরও কড়া হুঁশিয়ারি আমেরিকার (US-Iran)। মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাবে, তাদের ডলার-নির্ভর আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার মতো পদক্ষেপ করা হতে পারে। এবার ওয়াশিংটনকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিল তেহরান। ইরানের দাবি, মার্কিন চাপের কাছে মাথা নত করবে না তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক সহযোগী দেশগুলি। একইসঙ্গে ইরানের পরিকাঠামোয় আঘাত এলে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলিতে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
নয়া নিষেধাজ্ঞা আমেরিকার
ইরানের ‘অর্থনৈতিক লাইফলাইন’ বন্ধ করার লক্ষ্যে নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা করেন মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট । তবে এখনই কঠোর নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটেনি ওয়াশিংটন। বেসেন্ট জানিয়েছেন, যে সমস্ত দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাবে, তাদের মার্কিন ডলার ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার মতো পদক্ষেপ করা হতে পারে। ইরানের কোন কোন বাণিজ্যিক সহযোগীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিংবা কবে থেকে সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি মার্কিন অর্থসচিব। তাঁর বক্তব্য, নতুন নির্দেশ মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে কিছুটা সময় দেওয়া হবে।
একইসঙ্গে ৬০ জন ব্যক্তি, সংস্থার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে মার্কিন অর্থ দফতর। তবে এই তালিকায় চিনের কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নেই। উল্লেখ্য, চিন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সহযোগী এবং ইরানের তেল বাণিজ্যে কয়েকটি চিনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে বলে সন্দেহ ওয়াশিংটনের।
কী হুঁশিয়ারি ইরানের?
আমেরিকার ঘোষণার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ। এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন,”আমেরিকা জানে তাদের আস্ফালন কেউ বিশ্বাস করে না। অন্য দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক আরও সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থায় আমেরিকা নেই।” তাঁর আরও দাবি, ইরানের বাণিজ্যিক সহযোগী দেশগুলি সংবাদমাধ্যমে এবং সরাসরি বার্তার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা আমেরিকার এই ধরনের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
আরও কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ। তাঁর দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলার জন্য তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইরানের সরকারি টেলিভিশনে বলেন,”আমাদের হাতেও অস্ত্র রয়েছে এবং আমরা জানি কীভাবে খেলতে হয়। আমাদের প্রতিরক্ষা এখন আর শুধু আত্মরক্ষামূলক নয়। এবার আক্রমণের জন্য তৈরি থাকুক শত্রুরা।” তাঁর দাবি, চিন কিংবা রাশিয়া কেউই আমেরিকার এই পদক্ষেপ মেনে নেয়নি। অন্যান্য দেশও মার্কিন চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে বলে মনে করছেন তিনি।
যুদ্ধ পরিস্থিতি
গত ছয় মাস ধরে আমেরিকা-ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে কোনও পক্ষই বড় ধরনের হামলা না চালালেও এখনও পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। এই সংঘাতে ইরানের প্রচলিত সামরিক ক্ষমতার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অর্থনীতির উপরও চাপ বেড়েছে। তবে এখনও তেহরানের হাতে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিতে হামলা চালানো এবং হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজকে নিশানা করার মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা নিয়েও এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এই পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা।
