USA: পাঁচতারা হোটেলে জল চাইলেন মহিলা, বোতলে বীর্য মিশিয়ে দিলেন কর্মী
USA woman sues a 5-star hotel: মহিলার অভিযোগ, ওই বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে তিনি তাঁর জন্মদিন উদযাপন করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু, সেখানে থাকাকালীন তাঁকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি খাওয়ার জল চাওয়ায়, হোটেলের এক পুরুষ কর্মী তাঁকে নিজের বীর্য মেশানো একটি জলের বোতল দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন ওই মহিলা।

ওয়াশিংটন: বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনাল সংস্থার পাঁচতারা হোটেলগুলি। এর অন্যতম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো শহরের ‘রিৎজ কার্লটন হাফ মুন বে’। এবার এই বিলাসবহুল হোটেলের কর্মীদের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ করলেন এক মার্কিনী মহিলা। শুধু ফাঁকা অভিযোগই নয়, রিৎজ কার্লটনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। ওই মহিলার অভিযোগ, ওই বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে তিনি তাঁর জন্মদিন উদযাপন করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু, সেখানে থাকাকালীন তাঁকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি খাওয়ার জল চাওয়ায়, হোটেলের এক পুরুষ কর্মী তাঁকে নিজের বীর্য মেশানো একটি জলের বোতল দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন ওই মহিলা।
মহিলা জানিয়েছেন, জন্মদিন উপলক্ষে স্বামীর সঙ্গে চার রাতের জন্য ওই পাঁচতারা হোটেলে উঠেছিলেন মহিলা। হোটেলে থাকার সময় তিনি এক কর্মীর কাছে খাওয়ার জল চেয়েছিলেন। রিৎজ কার্লটনের লেবেল লাগানো একটি পানীয় জলের বোতল দিয়ে গিয়েছিলেন ওই কর্মী। কিন্তু মহিলার অভিযোগ, বোতলটি দেওয়ার আগে, ওই কর্মী বোতলটির ভিতর বীর্যপাত করেছিল। সেই বীর্য মিশ্রিত জলের বোতলই সে তাঁকে দিয়েছিল। রিৎজ কার্লটনের লেবেল থাকায় তিনি প্রথমে কিছু বুঝতে পরেননি। ওই জল খেয়েও নেন বেশ খানিকটা। তবে, এরপরই তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন।
আর তারপরই, একইসঙ্গে ভয়, লজ্জা, অস্বস্তি মিশিয়ে এক মিশ্র অনুভূতি হয়েছিল তাঁর। তবে, শেষ পর্যন্ত যাবতীয় দ্বিধা কাটিয়ে বিষয়টি তাঁর স্বামীকে জানিয়েছিলেন। তবে, সেখানেই মহিলার অস্বস্তি শেষ হয়নি। ভয় পেয়েছিলেন, জলের সঙ্গে হয়তো কোনও সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ভাইরাস তাঁর শরীরে প্রবেশ করেছে। তিনি এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন যে, তাঁকে মানসিক রোগের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়েছিল। এরপরই তিনি ওই পাঁচতারা হোটেলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
আদালতে পেশ করা নথি অনুযায়ী, ওই জলের বোতলটিকে পরীক্ষার জন্য গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছিল। রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, জলের সঙ্গে বীর্য মেশানো ছিল। তবে, মার্কিন তদন্তকারী সংস্থাগুলি এই ঘটনার তদন্ত করতে পারেনি। কারণ ম্যারিয়ট কর্তৃপক্ষ ওই জলের বোতলটি তাদের দিতে রাজি হয়নি। এমনকি, ঘটনার দিন রিৎজ কার্লটনে কোন কোন কর্মী কাজে ছিলেন, তাদের পরিচয় জানাতেও অস্বীকার করেছে পাঁটতরা হোটেল কর্তৃপক্ষ। ফলে তদন্তকারীরা তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড পরীক্ষা করতে পারছেন না। তারা আগে কোনও অপরাধ করেছে কিনা, জানতে পারেনি মার্কিন পুলিশ।
এদিকে, রিৎজ কার্লটনের পক্ষ থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল। ওই দম্পতিকে তারা ম্যারিয়ট রিওয়ার্ড পয়েন্ট দিতে চেয়েছিল। ওই পয়েন্ট ব্যবহার করে ম্যারিয়টের যে কোনও হোটেলে থাকতে পারতেন তঁরা। কিন্তু, সংস্থার এক হোটেলে ওই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হওয়ার পর, আর তাদের কোনও হোটেলে থাকার ভরসা করছেন না ওই মার্কিন দম্পতি। তাঁদের একমাত্র চাহিদা, এই ঘটনার পিছনে দায়ী যারা, তাদের শাস্তি হোক।
