Union Budget 2026: বদলাবে লং-টার্ম ক্যাপিটাল গেন কর ব্যবস্থা? এবারের বাজেটে লক্ষ্য করের সরলীকরণ!
Long-Term Capital Gains Tax: আগে এই লং-টার্ম ক্যাপিটাল গেনের নিয়মটা বেশ স্পষ্ট ছিল। ইনডেক্সেশনের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির হিসাব করা হত। জানা থাকত করের হারও। ফলে, শেষে আসলে কত টাকা দিতে হবে কর হিসাবে, সেই অঙ্কে বিরাট কোনও চমক আসত না। কিন্তু সেই নিশ্চয়তা এখন আর নেই।

শেষ বাজেটে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ বা লং-টার্ম ক্যাপিটাল গেনের উপর কর ব্যবস্থা সহজ করার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা অনেক বিনিয়োগকারীর কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, যে কোনও ধরনের ক্যাপিটাল গেনের উপর এবার লাগতে চলেছে বাড়তি কর। একটা সময় বাড়ি বিক্রি, সোনা বিক্রি করে নগদে পরিণত করা বা কোনও পুরনো বিনিয়োগ ভেঙে বেরিয়ে আসার মতো পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বাড়তি কোনও চিন্তা করতে হত না। আর এখন এইগুলোই অনেকের কাছে দুশ্চিন্তার নাম।
আগে এই লং-টার্ম ক্যাপিটাল গেনের নিয়মটা বেশ স্পষ্ট ছিল। ইনডেক্সেশনের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির হিসাব করা হত। জানা থাকত করের হারও। ফলে, শেষে আসলে কত টাকা দিতে হবে কর হিসাবে, সেই অঙ্কে বিরাট কোনও চমক আসত না। কিন্তু সেই নিশ্চয়তা এখন আর নেই। অর্থনৈতিক উপদেষ্টারা বলছেন, অনেকেই এমন রয়েছেন যাঁরা সঠিক হিসাব করতে না পেরে েই ধরনের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন।
আর এক সেবি অনুমোদিত এক উপদেষ্টা বলছেন এই ধরনের বিভ্রান্তি শুধু রিয়েল এস্টেটেই হচ্ছে, এমন নয়। সোনা, ডেট মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ডেও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এমন বিভ্রান্তই তৈরি হয়েছে। কারণ, এই ক্ষেত্রগুলোয় আগে ইনডেক্সেশন কাজ করত। ফলে, করের ক্ষেত্রে অনেকটা সুবিধা মিলত। ফলে, বর্তমানে কর কমে যাওয়া সত্ত্বেও করের ক্ষেত্রে টাকার অঙ্ক বেড়েছে নাকি কমেছে তার তুলনা করা কঠিন হয়ে উঠেছে।
আর এক কর বিশেষজ্ঞ বলেন, কাঠামোগত বদল তৈরি হয়েছে সেই ২০২৪ সালের বাজেট থেকেই। তখনই হোল্ডিং পিরিয়ডের সময়সীমা এক করা হয়। করের হারেও বদল নিয়ে আসা হয়। ২০২৫ সালের বাজেট মূলত সেই ব্যাখ্যা দিয়েছে। নতুন কোনও বদল এই বাজেট নিয়ে আসেনি।
জটিলতা সবচেয়ে বেড়েছে রিয়েল এস্টেটে। বহু বছর আগে কিনে রাখা সম্পত্তিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আগে থাকত মুদ্রাস্ফীতির। কিন্তু করের হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২.৫ শতাংশে নামিয়ে দেওয়া হলেও ইনডেক্সেশন না থাকায় কর বেড়েছে অনেকটাই। এ ছাড়াও, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাইয়ের আগে কেনা সম্পত্তিতে কীভাবে কর নেওয়া হবে, সেই বিকল্প বাছার সুবিধাও সকলে পান না।
ফলে করের হিসেব বেশ জটিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্দেশ্য ছিল করের সরলীকরণ। কিন্তু মিশ্র পোর্টফোলিও ও ট্রানজিশনাল কেসের কারণে জটিলতাই শুধু বেড়েছে। ফলে, আসন্ন বাজেটে করদাতাদের প্রত্যাশা শুধুমাত্র করছাড় নয়। করে স্পষ্টতা। মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব আলাদা করার জন্য বিশেষ কোনও ব্যবস্থা এলে তবেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা আবার নিশ্চিন্ত হবেন।
