Bank: ব্যাঙ্ক ভুল বুঝিয়ে কিছু গছিয়ে দিচ্ছে না তো? ফিনান্সিয়াল মিস-সেলিং-এর শিকার হলে কী করবেন
সাধারণত এই ধরণের ভুল বিক্রি ব্যাঙ্ক পরিষেবার সঙ্গে জোর করেই গছানো হয়। নতুন খাতা খুলতে গেলে, এডুকেশন লোন, হোম লোন বা অন্য কোনও ধরণের লোন নিতে গেলে, লকার নেওয়া বা NPS খাতা খুলতে গেলে বা যে কোনও সময় ব্যাঙ্কে পা রাখলেই অপ্রয়োজনীয় ইন্স্যুরেন্স পলিসি গছানো কার্যত ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শমিতা সাহা, সেবি শংসায়িত বিশেষজ্ঞ
কিনতে গিয়েছিলেন এনপিএস (NPS), কিনে এনেছেন ULIP (Unit Linked Insurance Plan)? আপনি মিস-সেলিং-এর (ভুল বিক্রির) শিকার হচ্ছেন না তো? মিস-সেলিং এর অর্থ হল, আপনাকে সঠিক তথ্য না জানিয়ে ব্যাঙ্কের দ্বারা অপ্রয়োজনীয় পণ্য গছিয়ে দেওয়া।
ধরুন আপনি NPS কিনতে চাইছেন, সঙ্গে আপনাকে একটি ইন্স্যুরেন্স পলিসি নিতে বাধ্য করা হল। ঠিক সেই মুহূর্তে ব্যাঙ্ক কর্মীর চাপে আপনি বিভ্রান্ত হয়ে পলিসিটা কিনেও নিলেন। আর সেখানেই পড়ে গেলেন ফাঁদে। হতে পারে যে আপনি একটি এমন পণ্যের জন্য টাকা জমা দিচ্ছেন, যেখানে আগামী ১৫ বছর আপনাকে টাকা জমা দিয়ে যেতে হবে। আর ২০ বছর পর থেকে আপনি পাবেন একটি দারুন রিটার্ন ১০ বছর অবধি।
আপনার বয়স যদি এখন ৬০ হয়, তার মানে আপনি ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিনিয়োগ করবেন আর ৮০ থেকে ৯০ বছরে আপনি রিটার্ন পাবেন। সত্যিই কি কাগজে সই করার সময় পণ্যটি বুঝে নিয়েছিলেন? বা যত দিনে বুঝেছেন ততদিনে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে? কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে লক ইন পিরিয়ড (টাকা জমার পরে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেটা উইথড্র করা যাবে না) বা তার সঙ্গে যুক্ত অগ্রিম খরচ (আপফ্রন্ট এক্সপেন্সেস) সম্পর্কে তো ব্যাঙ্ককর্মী আপনাকে কিছুই জানায়নি।
এই ধরণের অভিজ্ঞতা যদি আপনার হয়ে থাকে তাহলে সাধারণ ভাষায় আপনাকে পণ্য মিস-সেলিং করা হয়েছে আর এটি একপ্রকার আর্থিক সাক্ষরতার অভাবের প্রতিফলন।
সাধারণত এই ধরণের ভুল বিক্রি ব্যাঙ্ক পরিষেবার সঙ্গে জোর করেই গছানো হয়। নতুন খাতা খুলতে গেলে, এডুকেশন লোন, হোম লোন বা অন্য কোনও ধরণের লোন নিতে গেলে, লকার নেওয়া বা NPS খাতা খুলতে গেলে বা যে কোনও সময় ব্যাঙ্কে পা রাখলেই অপ্রয়োজনীয় ইন্স্যুরেন্স পলিসি গছানো কার্যত ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যাঙ্ককর্মীরা যে পণ্যটি সবথেকে বেশি গছিয়ে থাকেন, সেটি হোল ULIP। তার কারণ ব্যাঙ্ককর্মীরা থার্ড পার্টি বিমা পলিসি বিক্রি করলে তার উপরে নির্দিষ্ট কমিশন পান। থার্ড পার্টি মানে যেমন বিমা কোম্পানির হয়ে বিমা বিক্রি করা, যে পণ্য ব্যাঙ্কের নিজস্ব নয়।
ব্যাঙ্ককর্মীরা বিমা প্রতিনিধি হিসেবে (ইন্স্যুরেন্স এজেন্ট) প্রতি প্রিমিয়ামের উপরে একটি অংশ কমিশন হিসেবে উপার্জন করেন, যেটি প্রথম বছরে সর্বাধিক থাকে আর তারপর আস্তে আস্তে কমে গেলেও যতদিন আপনি প্রিমিয়াম জমা করছেন, ততদিন বিমা প্রতিনিধি কমিশন পেতে থাকেন। ব্যাঙ্ক কর্মীদের টার্গেট থাকে তারা হন্যে হয়ে বিমা বিক্রি করেন, সেটা ব্যাঙ্ক গ্রাহকের কাজের হোক বা না হোক।
এক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে আপনাকে। বিমা কোম্পানিগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে IRDAI সংস্থা আর ব্যাঙ্কগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহককে বিভ্রান্তিকর ভুল তথ্য দিয়ে বা সঠিক তথ্য চেপে পণ্য বিক্রি করলে গ্রাহকের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা আছে। গ্রাহককে সঠিক পলিসি বিক্রি করা হচ্ছে কি না, সেটা দেখার দায়িত্ব ব্যাঙ্কের।
মিস সেলিং-এর শিকার হলে কী করবেন জেনে নিন।
১. কোনও পলিসি কেনার আগে প্রশ্ন করুন, জেনে নিন থার্ড পার্টি প্রোডাক্ট কি না। আইন অনুযায়ী আপনি ব্যাঙ্কের থার্ড পার্টি প্রোডাক্ট কিনতে বাধ্য নন।
২. ব্যাঙ্কের গ্রিভান্স রিড্রেসসাল সেল এ কমপ্লেন করুন।
৩. যে পলিসি নিজে বুঝবেন না সেটা নেবেন না, নিতে হলে সমস্ত তথ্য ভালো করে জেনে নিন। প্রয়োজন হলে ফিনান্সিয়াল উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।
৪. যদি বুঝতে পারেন যে আপনাকে বিমা পলিসি ভুল করে বিক্রি করা হয়েছে, তাহলে আপনি বিমা ভরোসা সিস্টেম হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন অথবা ইমেইল করুন এই মেইল আইডি-তে- complaints@irdai.gov.in।
৫. যদি ভুল বিক্রি হয়ে থাকে ১৫ দিনের মধ্যে সেটি ক্যানসেল করে প্রিমিয়াম ফেরত নিয়ে নিতে পারেন।
৬. কোনও কিছুতেই কাজ না হলে কনজিউমার কোর্টের শরণাপন্ন হতে পারেন।
