Gold Import Duty Hike: ২ লাখ ছাড়াবে সোনার দাম! সোনা-রুপোয় আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করল সরকার
Gold Price increase India: বর্তমানে ২২ ক্যারেটের ১ গ্রাম সোনার দাম ১৪ হাজার টাকার উপরে রয়েছে। ২৪ ক্যারেট সোনার ১ গ্রামের দাম ১৫ হাজার টাকার উপরে রয়েছে। এবার আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় ২২ ক্যারেটের ১ গ্রাম সোনার দামই ২০ হাজারের গণ্ডি পার করতে পারে। অর্থাৎ ২ লাখ টাকা ছাড়াবে সোনার দাম।

নয়া দিল্লি: সোনা কিনতে বারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। এবার কেন্দ্রের আরও বড় এক পদক্ষেপ। ভারত সোনা-রুপোর উপরে আমদানি শুল্ক বা ইমপোর্ট ট্যারিফ (Import Tariff on Gold-Silver) বৃদ্ধি করল। এর ফলে সোনা-রুপো কেনার খরচ একধাক্কায় অনেকটাই বাড়বে।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, সোনা-রুপোর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। সোনা-রুপো কেনাকাটি কমাতে এবং দেশের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ বাড়াতেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেও সাহায্য করবে।
সরকারের তরফে সোনা-রুপোর উপরে ১০ শতাংশ বেসিক কাস্টম ডিউটি বসানো হয়েছে। এর পাশাপাশি ৫ শতাংশ এগ্রিকালচার ইনফ্রাস্টাকচার ও ডেভেলপমেন্ট সেস বসানো হয়েছে। তাতেই আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশ হয়েছে।
আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় সোনা-রুপোর দাম অনেকটাই বাড়বে। বাজার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রতি গ্রাম সোনার দাম ৬-৭ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে। রুপোর দামও একই রকম বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের ১ গ্রাম সোনার দাম ১৪ হাজার টাকার উপরে রয়েছে। ২৪ ক্যারেট সোনার ১ গ্রামের দাম ১৫ হাজার টাকার উপরে রয়েছে। এবার আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় ২২ ক্যারেটের ১ গ্রাম সোনার দামই ২০ হাজারের গণ্ডি পার করতে পারে। অর্থাৎ ২ লাখ টাকা ছাড়াবে সোনার দাম।
ইন্ডিয়া বুলিয়ান অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের ন্যাশনাল সেক্রেটারি সুরেন্দ্র মেহতা বলেছেন, “আশাতীতভাবেই সরকার আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করেছে বিদেশি মুদ্রার ঘাটতি পূরণ করতে। এর প্রভাব সোনার গহনার চাহিদা ও কেনাবেচার উপরে ব্যাপকভাবে পড়বে। ইতিমধ্যেই সোনা-রুপোর দাম অনেকটা বেশি রয়েছে। আমদানি শুল্ক বাড়ায় সোনা-রুপোর গহনার দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।”
ইন্ডাস্ট্রি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সরকার সোনা-রুপোয় আমদানি শুল্ক বাড়ানোয় সোনা-রুপোর স্মাগলিং বা চোরাচালান বৃদ্ধি পেতে পারে।
গত রবিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেন যে আগামী এক বছর যেন সোনার গহনা কেনা থেকে বিরত থাকে সবাই। বিদেশ ভ্রমণ ও ডেস্টিনেশন ওয়েডিং-ও আপাতত স্থগিত রাখতে অনুরোধ করেছেন। সংস্থাগুলিকে করোনাকালের মতো ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করতে অনুরোধ করেছেন। এই সবই তিনি বলেছেন দেশের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ রক্ষা করতে।
ভারত তার সোনার চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি করে বিদেশ থেকে। এর জন্য ডলার খরচ হয়। এদিকে, ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় মুদ্রার দাম ক্রমশ পড়ছে। এশিয়ার সবথেকে খারাপ পারফর্ম করা কারেন্সি বা মুদ্রা বর্তমানে ভারতীয় রুপি। ফরেন রিজার্ভ বা বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডার রক্ষা করতেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত।
