Train Parcel Booking: ট্রেনে পার্সেল পাঠাতে যেতে হবে না স্টেশন, বাড়ি থেকেই করা যাবে বুকিং, ডোর-টু-ডোর পরিষেবা চালু করছে রেল?
Door-to-Door Parcel Service Booking Process: প্রথমে অ্যাপ থেকে পছন্দের লজিস্টিক সার্ভিস প্রোভাইডার বেছে নিতে হবে। এরপর পার্সেলের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। কোন স্টেশন থেকে পার্সেল পাঠানো হবে এবং কোন স্টেশনে পৌঁছবে, তা উল্লেখ করতে হবে। চাইলে বাড়ি থেকে পার্সেল সংগ্রহ এবং প্রাপকের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবাও বেছে নেওয়া যাবে।

নয়া দিল্লি: পার্সেল (Train Parcel) পাঠানোর জন্য এবার আর রেল স্টেশনে (Parcel in Station) যেতে হবে না। বাড়িতে বসেই বুক করা যাবে পার্সেল। যাত্রী ও সাধারণ গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নতুন ডোর-টু-ডোর পার্সেল পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা করছে ভারতীয় রেল। এই পরিষেবার নাম ‘রেল পার্সেল অ্যাপ-ঘর সে ঘর তক’ । আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড এবং ওয়েব প্ল্যাটফর্মে এই অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অনলাইনে পার্সেল বুকিংয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্টও করা যাবে। রেল চত্বরে না গিয়েই মিলবে পার্সেল সংগ্রহ থেকে শুরু করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার মতো একাধিক পরিষেবা।
রেলওয়ে বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে দেশের আটটি শহরে এই পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তালিকায় রয়েছে দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই, আহমেদাবাদ, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু এবং পুনে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষামূলক কাজ শেষ হওয়ার পর পরিষেবা চালুর তারিখ জানানো হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় রেল।
রেলের নতুন পার্সেল অ্যাপে কী কী সুবিধা মিলবে?
নতুন অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই পার্সেল বুকিং এবং তার জন্য টাকা জমা দেওয়া যাবে। রেলের সঙ্গে যুক্ত লজিস্টিক সার্ভিস প্রোভাইডার বা LSP-রা বাড়ি থেকে পার্সেল সংগ্রহ করে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেবেন। চাইলে গ্রাহকরা প্যাকেজিং এবং পার্সেল সংরক্ষণের মতো অতিরিক্ত পরিষেবাও নিতে পারবেন।
এ ছাড়াও অ্যাপের মাধ্যমে পার্সেলের অবস্থান ট্র্যাক করা যাবে। ডেলিভারির স্ট্যাটাসে কোনও পরিবর্তন হলে নোটিফিকেশন পাবেন গ্রাহকরা। পরিষেবার মান নিয়ে রেটিং ও রিভিউ দেওয়ার সুযোগও থাকবে। পাশাপাশি থাকবে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (MIS) রিপোর্টের সুবিধা।
কীভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন?
রেলের এই পরিষেবা ব্যবহার করতে হলে প্রথমে অ্যাপে একটি ইউজার আইডি তৈরি করতে হবে। তার জন্য বৈধ মোবাইল নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক। বুকিং, পার্সেল ট্র্যাকিং এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই নম্বর ব্যবহার করা হবে। প্রয়োজনে টাকা ফেরতের জন্য গ্রাহকদের লজিস্টিক সার্ভিস প্রোভাইডারকে প্রয়োজনীয় তথ্য, এমনকী ব্যাঙ্কের তথ্যও দিতে হবে।
কীভাবে বুক করবেন পার্সেল?
প্রথমে অ্যাপ থেকে পছন্দের লজিস্টিক সার্ভিস প্রোভাইডার বেছে নিতে হবে। এরপর পার্সেলের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। কোন স্টেশন থেকে পার্সেল পাঠানো হবে এবং কোন স্টেশনে পৌঁছবে, তা উল্লেখ করতে হবে। চাইলে বাড়ি থেকে পার্সেল সংগ্রহ এবং প্রাপকের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবাও বেছে নেওয়া যাবে।
তবে বাড়ি থেকে সংগ্রহ এবং বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার দু’টি পরিষেবাই নিলে একই LSP-কে দু’টি দায়িত্ব পালন করতে হবে। বুকিংয়ের তথ্যই রেলের পরিবহনের জন্য ডিজিটাল ফরওয়ার্ডিং নোট হিসেবে গণ্য হবে। ই-ওয়ে বিল সংক্রান্ত অঙ্গীকারও ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিভুক্ত করা হবে। ফলে রেলের যাত্রাপথের জন্য আলাদা করে কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে পণ্যের মূল্য এবং ধরন অনুযায়ী LSP-র সংগ্রহ ও ডেলিভারি পরিষেবার ক্ষেত্রে GST নিয়ম মেনে ই-ওয়ে বিল লাগতে পারে।
সর্বোচ্চ ১৫ দিন আগে পার্সেল বুক করা যাবে। তবে নির্দিষ্ট ট্রেন ছাড়ার অন্তত এক দিন আগে বুকিং করতে হবে। ট্রেনে জায়গা থাকা সাপেক্ষেই বুকিংয়ের অনুমতি মিলবে। ট্রেন ছাড়ার ১২ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা আগে পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট স্টেশনে রেলের পার্সেল কর্মীদের হাতে পার্সেল তুলে দিতে হবে LSP-কে। গ্রাহকদের সুবিধার জন্য অ্যাপে পার্সেল সংগ্রহের সময়ের স্লটও দেখানো হবে।
কোন পার্সেল পাঠানো যাবে না?
পার্সেল পাঠানোর আগে তা সঠিকভাবে প্যাক করতে হবে। কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে IRCA কোচিং ট্য়ারিফ অনুযায়ী বিশেষ প্যাকেজিং প্রয়োজন হতে পারে। বিপজ্জনক, বিস্ফোরক, দাহ্য এবং নিষিদ্ধ পণ্য-সহ আইন বা রেলের নিয়মে নিষিদ্ধ কোনও সামগ্রী পরিবহণের জন্য গ্রহণ করা হবে না। রেড ট্যারিফে তালিকাভুক্ত কিছু পণ্য নির্দিষ্ট শর্তে পাঠানো গেলেও সেগুলির জন্য বিশেষ প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক। সেই প্যাকেজিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে এলএসপি-কে। অন্য ক্ষেত্রে গ্রাহক নিজেই পার্সেল প্যাক করতে পারবেন অথবা এলএসপি-র প্যাকেজিং পরিষেবা নিতে পারবেন।
কত টাকা খরচ হবে পার্সেল পাঠাতে?
পার্সেল পাঠানোর খরচ নির্ভর করবে ট্রেনের শ্রেণি, দূরত্ব, পার্সেলের ওজন এবং আকারের উপর। রেলের নির্ধারিত P, R অথবা S স্কেল অনুযায়ী ভাড়া ধার্য হবে। অ্যাপে রেলের পরিবহণ খরচ এবং লজিস্টিক পরিষেবার খরচ আলাদা করে দেখানো হবে। সব মিলিয়ে বাড়ি থেকে পার্সেল সংগ্রহ, রেলের মাধ্যমে পরিবহন, গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া এবং অতিরিক্ত পরিষেবার খরচ একবারেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে মেটানো যাবে। UPI, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, নেট ব্যাঙ্কিং-সহ অনুমোদিত ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে টাকা দেওয়া যাবে।
কীভাবে পৌঁছবে পার্সেল?
রেল পার্সেল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (PMS) অ্যাপের মাধ্যমে বুকিংয়ের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে। পেমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর তৈরি হবে পার্সেল রেলওয়ে রিসিপ্ট বা PRR। এই রসিদ এবং পার্সেল ট্র্যাকিংয়ের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রাপককে পাঠানো হবে।
ট্রেনে পার্সেল ওঠা, গন্তব্যে পৌঁছনো এবং সংগ্রহ বা ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত হওয়ার প্রতিটি ধাপে গ্রাহককে অ্যাপ ও রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে নোটিফিকেশন পাঠানো হবে। পার্সেল সংগ্রহ বা বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সময় ওটিপি যাচাই বাধ্যতামূলক। বাড়িতে ডেলিভারির পরিষেবা না নিলে নির্ধারিত বিনামূল্যের সময়ের মধ্যে পার্সেল সংগ্রহ করতে হবে।
