LPG Supply: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা, এবার গ্যাস নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্র!
LPG Efficiency Policy: জানা গিয়েছে, দেশে এলপিজি (LPG) আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নতুন নীতি আনার আবেদন জানিয়েছে জ্বালানি সংস্থা। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের কাছে দেশের প্রথম 'এলপিজি এফিসিয়েন্সি পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক' তৈরির প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এবার কি তাহলে গ্যাস নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র?

নয়া দিল্লি: নতুন করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে আমেরিকা ও ইরান (Iran-America Conflict)। যতদিন যাচ্ছে প্রতিঘাত আরও বাড়ছে। কোনও রকম সংঘর্ষবিরতি চুক্তিতে রাজি নয় দুই দেশ। এদিকে, দুই দেশের সংঘর্ষে ফের অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। আমেরিকা জাহাজের উপর কর বসাচ্ছে, ইরান জাহাজের উপর হামলা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গ্যাস (LPG) , পেট্রোল-ডিজ়েলের (Petrol-Diesel) দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই আবহে গ্যাস নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নীতি আনতে পারে কেন্দ্র।
জানা গিয়েছে, দেশে এলপিজি (LPG) আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নতুন নীতি আনার আবেদন জানিয়েছে জ্বালানি সংস্থা। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের কাছে দেশের প্রথম ‘এলপিজি এফিসিয়েন্সি পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরির প্রস্তাব জমা দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্যিক এলপিজির খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তারই প্রেক্ষিতে এই প্রস্তাব বলে জানিয়েছে সংস্থা।
বাণিজ্যিক এলপিজির দাম বেড়েছে
ওই জ্বালানি সংস্থার দাবি, চলতি বছরের শুরুতে যেখানে একটি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল প্রায় ১,৮৮৪ টাকা। সেখানে বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩,১০০ টাকা। এর জেরে রেস্তোরাঁ, হোটেল, হাসপাতাল, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, লন্ড্রি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির খরচ অনেকটাই বেড়েছে।
যদিও সরকারি হস্তক্ষেপের ফলে ভারতে এখনও পর্যন্ত এলপিজির সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা দেখা যায়নি, তবুও জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে এলপিজির অপচয় কমানো এবং দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।
কী কী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে?
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। সেগুলি হল,
- শিল্পক্ষেত্রে এলপিজির ব্যবহার আরও দক্ষ করার উদ্যোগ।
- সম্ভব হলে তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে (OMCs) ৪৭.৫ কেজির LOT সিলিন্ডার ব্যবহারে উৎসাহিত করা।
- এলপিজির অপচয় কমানো, নিরাপত্তা বাড়ানো এবং চুরি বা অপব্যবহার রোধে পদক্ষেপ।
- সারা দেশে এলপিজির দক্ষ ব্যবহার নিয়ে সচেতনতামূলক অভিযান।
- সরকার, তেল বিপণন সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে মান নির্ধারণ।
- দক্ষ এলপিজি ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াতে নীতি তৈরি করা।
কী বলছে সংস্থা?
জ্বালানি সংস্থার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও সিইও জানান, এতদিন ভারতে এলপিজি নিয়ে ভাবনা মূলত কতটা জ্বালানি সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হচ্ছে, তার উপরই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সময় এসেছে,যে পরিমাণ এলপিজি রয়েছে তা কতটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া। তাঁর কথায়, এলপিজির অপচয় কমানো গেলে শিল্পের খরচ কমবে, দেশের সামগ্রিক চাহিদার উপর চাপও কমবে এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
