মতুয়াদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল: শুভেন্দু
২০২৪ সালের ৬ মার্ট CAA চালু হল, সেদিনও বিরোধিতা করেন, ভুল বোঝানোর চেষ্টা করেন। আজ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, পারসি, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিষ্ট্রানরা নাগরিকত্ব পাচ্ছেন। CAA কার্যকর হওয়ার পর প্রমাণ হয়েছে এটা NRC নয়।

শুভেন্দু অধিকারীImage Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে মতুয়াদের মধ্যে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তার নেপথ্যে ভোট-রাজনীতি রয়েছে, এই অভিযোগ তুলে ব্যাখ্যা দেন শুভেন্দু। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি কী কী বললেন, দেখুন এক নজরে।
KEY HIGHLIGHTS
- মুখ্যমন্ত্রীর নজর মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকে মতুয়া সমাজকে ভোট ব্যাঙ্কের চোখে দেখেছে। ২০১৯ সাল থেকে লাগাতর চেষ্টা চলছে। মতুয়া ঠাকুরবাড়িতেও রাজনৈতিক বিভাজন ঘটিয়েছে, এই সম্প্রদায়কে দুর্বল করার চেষ্টা দেখেছি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে শান্তনু ঠাকুরের সমর্থনে সভা করতে এসে প্রধানমন্ত্রী বলে গিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে নাগরিকত্ব দেব। কলকাতা উত্তর সিঁথির মোড় থেকে শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড় পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিছিল করে বলেছিলেন, CAA মানে NRC। এর মানে ভারত থেকে মুসলিমদের বার করে দেওয়া হবে, যারা থাকবে ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকবে। তিনিই আগুন লাগান।
- ‘মুসলিমদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামানো হয়েছে’: তাঁর ভুল বোঝানোতেই ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে মুর্শিদাবাদ জ্বলেছিল। তিনিই ভুল বুঝিয়ে তৎকালীন সময়ে মুসলমানরা রাস্তায় নেমেছিলেন। ২০২০ সালে করনোর জন্য CAA কার্যকর হল না। একুশের ভোটে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে NRC ভয় দেখিয়ে ভোট নিজের পকেটে নিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল।
- CAA নিয়ে ভুল বোঝানো: ২০২৪ সালের ৬ মার্ট CAA চালু হল, সেদিনও বিরোধিতা করেন, ভুল বোঝানোর চেষ্টা করেন। আজ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, পারসি, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিষ্ট্রানরা নাগরিকত্ব পাচ্ছেন। CAA কার্যকর হওয়ার পর প্রমাণ হয়েছে এটা NRC নয়। আবার ভোট আসছে, তাই তাঁর অস্ত্র SIR। ঠাকুরবাড়ির মধ্যে মমতাবালা ঠাকুরকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
- মহুয়ার কাঠের মালা মন্তব্য বিতর্ক: মিথ্যাচার করে মতুয়া সমাজেই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এই কারণেই তো তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ‘কাঠের মালা পরে লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে পৌঁছে যান’ বলে অপমান করেছিলেন। বলা হচ্ছে CAA তে আবেদন করলে আর সরকারি সুবিধা পাবেন না, এরকম রাজ্যের কোথাও কোনও উদাহরণ রয়েছে?
- ডোমিসাইল সার্টিফিকেট: এ রাজ্যেও এক হাজারের বেশি BLO ট্রেনিং প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওনার সমস্যা অন্য জায়গায়। আই প্যাককে লাগিয়ে ৬০ বছরের লোককে বার্থ সার্টিফিকেট দিতে চাইছেন। উনি এই নিয়মটা জানেন না। বার্থ সার্টিফিকেট এত বেশি বয়সে হয় না। উনি ডোমিসাইল সার্টিফিকেট দিতে চাইছেন। তাঁর আইনের বই পড়া উচিত। ১০ বছর না হলে সেই সার্টিফিকেট গ্রাহ্য নয়। আই প্যাকের তৈরি করা ফর্মুলাতে অবৈধ ভোটার, মৃত ভোটার বাংলাদেশের অবৈধ মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের তালিকায় রাখার চেষ্টা চলছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুর্নীতিগ্রস্ত জেলাশাসক সুমিত গুপ্তকে কলকাতা পৌরসভার কমিশনার বানিয়ে বরো ভিত্তিক বার্থ সার্টিফিকেট দিতে চান, তাহলে তো অবৈধ হবেই। নির্বাচন কমিশনের সফটওয়্যার অত্যন্ত আপডেটেড।
- ওবিসি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে। কাট অফ ডেট, সাল রয়েছে। সবাইকে ওবিসি করতে আরম্ভ হলে, স্ক্যানারে তো বাদ যাবেন। ৯৮ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ওবিসি সার্টিফিকেট দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
