
হুগলি: সিঙ্গুরে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যেদিন বিজেপি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেদিন থেকেই আলোচনা বাড়ছিল। তাহলে কি সিঙ্গুর থেকে টাটাদের কারখানা চলে যাওয়া নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করবেন মোদী? রাজ্য বিজেপি নেতাদের একের পর এক মন্তব্যে সেই জল্পনা আরও বাড়ছিল। সিঙ্গুরে টাটাদের কারখানা তাঁরা ফিরিয়ে আনবেন বলে দাবি করেন সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারীরা। ফলে রবিবার সিঙ্গুরে টাটাদের জমিতে (এই নামেই এখন পরিচিত এলাকাবাসীর কাছে) সভা থেকে মোদী কী বলেন, সেদিকে তাকিয়ে ছিল রাজনৈতিক মহল। কিন্তু, নিজের ৩৬ মিনিটের ভাষণে সিঙ্গুর থেকে টাটাদের কারখানা চলে যাওয়া নিয়ে একটা কথাও বললেন না মোদী। তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার পরই এই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তৃণমূল ও বিজেপিকে খোঁচা দেয় বাম ও কংগ্রেস। গেরুয়া শিবিরকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূলও। তারপরই আসরে নেমে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার যুক্তি দিলেন, কেন টাটা কারখানা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী মোদী।
২০০৮ সালের ৩ অক্টোবর রতন টাটা ঘোষণা করেছিলেন, সিঙ্গুরে টাটাদের কারখানা থাকবে না। টাটাদের সেই ন্যানো কারখানা উঠে যায় গুজরাটের সানন্দে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেইসময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী। ফলে এদিন প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরের সভা থেকে টাটাদের কারখানা নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করতে পারেন বলে মনে করছিলেন অনেকেই। কিন্তু, আধ ঘণ্টার বেশি বক্তব্যে নানা ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণ করলেও সিঙ্গুর থেকে টাটাদের চলে যাওয়া নিয়ে একটা শব্দও মোদী বললেন না। শিল্প নিয়ে অবশ্য বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি সরকার বাংলায় সিন্ডিকেট ট্যাক্স ও মাফিয়ারাজ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করবে। তাঁর কথায়, “এটি মোদির গ্যারান্টি। এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেই শিল্প ও বিনিয়োগ বাংলায় আসবে।”
সিঙ্গুরের সভা থেকে মোদী কেন টাটাদের কারখানার প্রসঙ্গ তুললেন না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপিকে নিশানা করে বাম ও কংগ্রেস। সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলেন, “কোনও শিল্প তৈরি থাকলে উনি বেচে দিতে পারবেন। কিন্ত, প্রধানমন্ত্রী কোনও শিল্প তৈরি করতে পারবেন না। এই জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দারুণ মিল রয়েছে।” আর প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তো এখানে শিল্প করতে আসেননি। দিদিও এখানে শিল্প করতে আসেননি।”
আবার প্রধানমন্ত্রী টাটাদের কারখানা নিয়ে কিছু না বলায় বিজেপিকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূলও। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, “আজ সকাল থেকে যেন একটা চিত্রনাট্য তৈরি হচ্ছিল। যেন প্রধানমন্ত্রী এসে সিঙ্গুরকে উদ্ধার করে দেবেন।” আরও আক্রমণাত্মক তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “সিঙ্গুর নিয়ে একটা শব্দ নেই। তার কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে আন্দোলন, সেটা শিল্পের বিরুদ্ধে ছিল না। এই যে বিজেপির একটা অংশ, সিপিএম এবং কংগ্রেসের একটা অংশ খুব নাচানাচি করল, প্রধানমন্ত্রী কিছু বলতে পারলেন না, কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনটা ছিল কৃষিজমি রক্ষার অধিকার।”
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হতেই আসরে নামেন সুকান্ত মজুমদার। মোদীর আগে ওই সভা থেকে তিনি বলেছিলেন, “ছাব্বিশে আপনারা বাংলায় বিজেপির সরকার গঠন করুন, টাটাদের আমরা ফিরিয়ে আনবই। এই সিঙ্গুরের মাটিতেই ফিরিয়ে আনব।” আর সভা শেষে তাঁর যুক্তি, “সিঙ্গুরের জন্য তো প্রধানমন্ত্রীর দরকার নেই। ও তো আমরা আছি। আমরা ঠিক করব, কোথায় শিল্প হবে। বাংলার নেতারা ঠিক করবেন। আমি তো সভার প্রথমেই বলেছি, আমরা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছি, সিঙ্গুরে টাটাদের আমরা ফিরিয়ে আনব।”