AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Kolkata: শহরে গা-ঝাড়া দিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে তৃণমূল? ভোটের আগে কী বলছে অঙ্ক?

West Bengal assembly election: গ্রামীণ ভোট এবং গ্রামীণ সংগঠন দুই-ই মজবুত তৃণমূলের। লক্ষ্মীর ভান্ডারের ভাতা বৃদ্ধি গ্রামীণ ভোটকে আরও শক্তপোক্ত করেছে বলেই শাসকদলের অন্দরমহল সূত্রে খবর। বুথ পর্যন্ত ভোট নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রামীণ সংগঠন নিজেদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের শহর এবং শহরতলির ভোট মুখ থুবড়ে পড়ার পরও কেন শাসকদল শিক্ষা নিতে পারল না?

Kolkata: শহরে গা-ঝাড়া দিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে তৃণমূল? ভোটের আগে কী বলছে অঙ্ক?
বিধানসভা নির্বাচনে শহরে ভোট শতাংশ বাড়বে তৃণমূলের?Image Credit: PTI
| Edited By: | Updated on: Feb 10, 2026 | 3:38 PM
Share

কলকাতা: ৩৪ বছর রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল বামেরা। কিন্তু, শহরের তুলনায় গ্রামে তাদের ভোট শতাংশ বেশি থাকত। বাম জমানার পর তৃণমূল কংগ্রেস ২০১১ সাল থেকে রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে। বামেদের মতোই শহর ও শহরতলিতে তাদের ভোট শতাংশ নিয়ে চিন্তায় রাজ্যের বর্তমান শাসকদলও। শহর ও শহরতলিতে গেরুয়া শিবিরের ভোট শতাংশ বেড়েছে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আর একশো দিনও বাকি নেই। ছাব্বিশের নির্বাচনে শহরের ভোট কি ফিরবে তৃণমূলের ঝুলিতে? এই নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিগত নির্বাচনগুলির ফল বিশ্লেষণ করে অঙ্কও কষছে রাজনৈতিক দলগুলি।

শহর ও শহরতলিতে তৃণমূলের ভোট শতাংশ কেন কমছে?

ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূল আড়াইশো আসন পাবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন ঘাসফুল শিবিরের নেতারা। কিন্তু, শহর ও শহরতলিতে গেরুয়া শিবিরের ভোট বৃদ্ধি চিন্তায় রাখছে তাঁদের। সংগঠনের মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং সিংহভাগ কাউন্সিলর, ব্লক নেতাদের ‘দাদাগিরি ও হম্বিতম্বি’ শহরের মানুষের কাছে বীতশ্রদ্ধ করে তুলেছে তৃণমূলকে। সেটা সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে কিছুটা হলেও আঁচ করতে পেরেছে জোড়াফুল শিবির।

সম্প্রতি ভোটারদের কাছে পৌঁছে যেতে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে জোড়াফুল শিবির। বাজারের মধ্যে জনসংযোগ বাড়ানো, পাড়ায় পাড়ায় মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে গিয়ে অভাব-অভিযোগ শোনা, সমস্যায় পড়লে কীভাবে শাসকদলের নেতাকর্মীদের পাশে পাবেন সাধারণ মানুষ, সেই বার্তা নিয়ে এলাকায় ঘোরা,  এই ধরনের একাধিক কর্মসূচি রাজ্যের শহর এবং শহরতলিতে নিয়েছে জোড়াফুল শিবির। আর সেই কর্মসূচিতে নেমেই অসন্তোষের আঁচ ভালোভাবেই লেগেছে শাসকদলের নেতা-কর্মীদের গায়ে।

সম্প্রতি পৌর ও নগরোন্নয়ন দফতরে পৌরসভা এবং পৌরনিগমগুলিতে কী কী পরিষেবা বন্ধ রয়েছে কিংবা কী কী পরিষেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে না নানাবিধ কারণে, তার একটি বিস্তারিত সমীক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বিভিন্ন কাউন্সিলরদের ঔদ্ধত্য এবং হম্বিতম্বির কারণে একাধিক জায়গায় পরিষেবা যে প্রশ্নের মুখে কিংবা থমকে যাওয়ার জায়গা তৈরি হয়েছে, তা কার্যত পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

গ্রামীণ ভোট এবং গ্রামীণ সংগঠন দুই-ই মজবুত তৃণমূলের। লক্ষ্মীর ভান্ডারের ভাতা বৃদ্ধি গ্রামীণ ভোটকে আরও শক্তপোক্ত করেছে বলেই শাসকদলের অন্দরমহল সূত্রে খবর। বুথ পর্যন্ত ভোট নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রামীণ সংগঠন নিজেদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের শহর এবং শহরতলির ভোট মুখ থুবড়ে পড়ার পরও কেন শাসকদল শিক্ষা নিতে পারল না?

সম্প্রতি দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনাতেও শহরের ভোট বিমুখের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এমনকি, গেরুয়া শিবিরের শক্তপোক্ত বুথ কর্মী না থাকলেও পদ্ম শিবিরের দিকে শহরের ভোট ঝুঁকে রয়েছে এখনও, সেটাও বিভিন্ন জেলা কিংবা বুথ থেকে আসা তথ্যে বুঝতে পেরেছেন শাসকদলের প্রথম সারির নেতারাই।

এই অবস্থায় শহরের ভোট ঝুলিতে বাড়ানোর জন্য দলের তরফে একাধিক পদক্ষেপের কথা বলা হলেও দ্বন্দ্ব এবং সংগঠনের ফাঁকফোকরের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না বলেই মনে করছেন শাসকদলের নেতাদের একাংশ। যে কারণে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও শহরের ভোট কতটা তৃণমূলের ঝুলিতে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে দলের অভ্যন্তরেই।

চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের হিসেবে পৌরসভা ও পৌরনিগমের ফল- 

রাজ্যে ১২২টি পৌরসভা এবং ৭টি পৌরনিগম রয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে ৬৯টি পৌরসভায় বিজেপি তৃণমূলের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা পৌরনিগমের ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪৮টি ওয়ার্ডে এগিয়ে বিজেপি।

ইতিমধ্যেই রাজ্যের বেশিরভাগ পিছিয়ে থাকা পৌরসভায় চেয়ারম্যান এবং ডেপুটি চেয়ারম্যানদের বদল করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যার জেরে তৃণমূলের অভ্যন্তরে দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে এসেছে।

২০২১ সালে বিধানসভায় বিজেপি মোট ভোট পেয়েছিল ৩৭.৯১ শতাংশ। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপি ভোট পেয়েছে ৩৮.৭৩ শতাংশ। তৃণমূল ১০ হাজারের কম ব্যবধানে জিতেছে ৪৯টি আসনে। তৃণমূল ১০-১৫ হাজারের মধ্যে ব্যবধানে জিতেছে ২১টি আসন।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ভিত্তিতে তৃণমূল ১৯২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ৯০টি আসনে। আর কংগ্রেস ১১ ও বামফ্রন্ট ১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের নিরিখি তৃণমূল এগিয়ে ছিল ১৬৪টি আসন। একুশের ভোটের পর অবশ্য দেখা যায়, তারা দু’শোর বেশি আসন পেয়েছে। ২০১৯ সালে বিজেপি এগিয়ে ছিল ১২১ টি বিধানসভা আসনে। কিন্তু, একুশে তারা পায় ৭৭টি আসন। ফলে লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে বিধানসভা ভোটের ফলাফল আঁচ করা যায় না।

কিন্তু, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এমন ৯টি বিধানসভা আসনের লিড পেয়েছে, যেখানে গত বিধানসভা নির্বাচনে জেতা তো দূর অস্ত, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও লিড পায়নি। বড়ঞা, রামনগর, জঙ্গিপুর, সন্দেশখালির মতো বিধানসভা এই তালিকায় রয়েছে।

কাউন্সিলরদের ঔদ্ধত্যের জন্যই শহরে তৃণমূলের ভোট কমছে কি না, এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে। নিয়ে পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতা পৌরনিগমের মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস শৃঙ্খলাপরায়ণ দল। এখানে গুন্ডামির কোনও স্থান নেই। কোনও অন্যায় করলে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তৃণমূলের সব স্তরে রয়েছে। তারা কাজ করবে। তৃণমূল করতে হলে মানুষের পাশে থাকতে হবে। ঔদ্ধত্যের কোনও স্থান তৃণমূল কংগ্রেসে নেই।” তৃণমূলের এই বার্তার পরও কি শহরে তৃণমূলের ভোট শতাংশ বাড়বে? এটাই এখন দেখার।