রামায়ণের জন্য শুদ্ধিকরণের পথে এ আর রহমান, নিলেন বড় সিদ্ধান্ত
সেখানেই ছবির অভিনেতা এবং নেপথ্যের কারিগরদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আনা হবে। রহমান চান, সেই মেগা ইভেন্টের আগেই তাঁর কাজের একটি বড় অংশ শেষ করতে। এই ডেডলাইন ছোঁয়ার জন্যই তিনি স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সুরের জাদুকর এ আর রহমান এখন সাধনায় মগ্ন। সম্প্রতি চেন্নাইয়ের এক কনসার্টে তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী ৪০ দিন তিনি সোশ্যাল মিডিয়া বা কোনও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে থাকবেন না। লক্ষ্য একটাই ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ‘রামায়ণ’ ছবির কলাকুশলীদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে এই মহাকাব্যিক ছবির সঙ্গীত পরিচালনা সম্পূর্ণ করা। হাতে সময় কম, তাই নিজেকে চার দেওয়ালের মাঝে বন্দি করে সুরের সাগরে ডুব দিতে চলেছেন তিনি।
বলিউড হাঙ্গামার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিচালক নিতেশ তিওয়ারি এবং প্রযোজক নমিত মালহোত্রার ‘রামায়ণ’ নিয়ে আগামী মার্চ মাসে একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানেই ছবির অভিনেতা এবং নেপথ্যের কারিগরদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আনা হবে। রহমান চান, সেই মেগা ইভেন্টের আগেই তাঁর কাজের একটি বড় অংশ শেষ করতে। এই ডেডলাইন ছোঁয়ার জন্যই তিনি স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
‘রামায়ণ’ ছবির হাত ধরেই প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করতে চলেছেন বিশ্বের দুই কিংবদন্তি সুরকার— এ আর রহমান এবং অস্কারজয়ী হ্যান্স জিমার। এই মেলবন্ধন নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল তুঙ্গে। এক সাক্ষাৎকারে রহমান বলেন, “এই কাজটা আমাদের দুজনের জন্যই বেশ ভীতিকর। আমরা এমন কিছু একটা সৃষ্টি করতে চলেছি যা সারা বিশ্বের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেলারের জন্য জিমার একটি সাউন্ডস্কেপ তৈরি করেছিলেন, আমি তাতে সংস্কৃত শব্দ ও অন্যান্য স্তর যুক্ত করেছি। চ্যালেঞ্জটা হল, এমন একটা বিষয়কে সুর দেওয়া যা প্রতিটি ভারতীয়র নখদর্পণে, অথচ তাঁকে একদম নতুন ভাবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে হবে।”
পুরনো সব ধ্যানধারণা ঝেড়ে ফেলে এক নতুন ‘রামায়ণ’ উপহার দিতে চান রহমান। এই কাজে তাঁকে সাহায্য করছেন প্রখ্যাত কবি ও বক্তা ডঃ কুমার বিশ্বাস। রহমানের কথায়, “কুমার বিশ্বাস এই বিষয়ে একজন প্রফেসরের মতো। তাঁর শরীরের প্রতিটি অণু যেন রামায়ণের কথা বলে। তাঁর লেখা লিরিকস এবং দর্শনের গভীরতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমরা কাজটা ভীষণ উপভোগ করছি।”
নিতেশ তিওয়ারি পরিচালিত এই ছবিতে রামের চরিত্রে রণবীর কাপুর, রাবণের ভূমিকায় যশ এবং সীতার চরিত্রে সাই পল্লবীকে দেখা যাবে বলে খবর। এছাড়াও সানি দেওল, রবি দুবে, কাজল আগরওয়াল এবং অরুণ গোভিলের মতো তারকারা এই বিশাল ক্যানভাসের অংশ।
এ আর রহমানের এই ৪০ দিনের নীরবতা আসলে এক ঝোড়ো সৃষ্টির পূর্বাভাস। ডিজিটাল পর্দা থেকে দূরে গিয়ে তিনি যে সুরের জাল বুনছেন, তা ২০২৬-এর মার্চে যখন প্রকাশ্যে আসবে, তখন তা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
