একাডেমিতে তৃতীয় লিঙ্গের গানের সঙ্গে সুর মেলাল ভগবানের বেহালা

সছেন আজ কলকাতার রাজপথের বেহালা বাদক ভগবান মালিও। রক্ষক ফাউন্ডেশন এবং কলকাতা পুলিশের কমিউনিটি পুলিশিং-এর যৌথ উদ্যোগে কিছু অর্থ সাহায্য করা হল তাঁকে।

একাডেমিতে তৃতীয় লিঙ্গের গানের সঙ্গে সুর মেলাল ভগবানের বেহালা
রক্ষক ফাউণ্ডেশন এবং কলকাতা পুলিশের কমিউনিটি পুলিসিং-এর যৌথ উদ্যোগে বেশ কিছু রূপান্তরকামী ও হিজড়ে জনগোষ্ঠীর প্রান্তিক মানুষদের হাতে তুলে দেওয়া হল রেশন।

শুক্রবার এক অন্য সকালের সাক্ষী থাকল কলকাতার শিল্প সংস্কৃতির পীঠস্থান একাডেমি চত্ত্বর। রক্ষক ফাউণ্ডেশন এবং কলকাতা পুলিশের কমিউনিটি পুলিসিং-এর যৌথ উদ্যোগে বেশ কিছু রূপান্তরকামী ও হিজড়ে জনগোষ্ঠীর প্রান্তিক মানুষদের হাতে তুলে দেওয়া হল রেশন। লকডাউনে যখন বন্ধ গণ-পরিবহন, বিদ্ধস্ত জনজীবন, তখন কষ্টে কাটছে ওঁদের জীবন। তাই-ই ওঁদের জন্য এই ভাবনার কথা জানালেন রক্ষক ফাউন্ডেশনের তরফে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডজয়ী চৈতালি দাস।

সাইনা, রুপা, মনোজিতা, সমীরা, ক্রিস্টিনারা বলছেন প্যান্ডেমিকের কারণে যজমানদের বাড়ি গিয়ে ‘কাজ’ করতে পারছেন না তাঁরা। দীপিকা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ করতেন। বন্ধ তাঁরও ‘কারবার’। অন্য দিকে, গন-পরিবহন বন্ধ থাকায় বন্ধ ট্র্যাফিক সিগনালে ‘ছল্লা’বৃত্তিও। তাই-ই প্রায় অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটছে ওঁদের। শুক্রবারের এই অনুষ্ঠান তাই কিছুটা হলেও হাসি আনল ওঁদের মুখে।

হাসছেন আজ কলকাতার রাজপথের বেহালা বাদক ভগবান মালিও। রক্ষক ফাউন্ডেশন এবং কলকাতা পুলিশের কমিউনিটি পুলিশিং-এর যৌথ উদ্যোগে কিছু অর্থ সাহায্য করা হল তাঁকে। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ডঃ তন্ময় রায়চৌধুরী বেহালা বাদক ভগবান মালির হাতে তুলে দিলেন সেই চেক।

আরও পড়ুন: করোনার ঢেউয়েই বিদেশ পাড়ি দুই দুর্গার

অনুষ্ঠানের শেষে একাডেমির মুক্তমঞ্চ চত্ত্বর মুখরিত হল হিজড়েদের গানে। ওঁরা যখন দলবেঁধে গাইছেন “সাজ রহি গলি মেরে আম্মা সুনহরি গোঠে মে”, তখন আর দূরে থাকতে পারলেন না ‘বেহালা বাজানো লোকটা’। তিনিও এগিয়ে এসে সুর তুললেন ভায়োলিনে। একটা অপার মুগ্ধতা তৈরি হল। হাজারো অভাব, অভিযোগ, উপেক্ষা ভেঙে ছড়িয়ে গেল সেই প্রান্তিক মানুষের সম্মিলিত সুর। ওঁরা রেশন নিয়ে ফিরছেন বাড়ি। আজ হয়ত অনেকদিন পর ভাত ফুটবে।

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla