Exclusive: ফের একসঙ্গে কবীর সুমন ও প্রভাত রায়, কী ঘটতে চলেছে টলিপাড়ায়?
তবে নতুন খবর হল, এই ছবির জন্য সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার কবীর সুমন। বহু বছর পর আবার এই জুটিকে একসঙ্গে কাজ করতে দেখা যাবে। বহু বছর আগে প্রভাত রায় তাঁর ছবি ‘সেদিন চৈত্রমাস’-এ কবীর সুমনকে এই সিনেমার সঙ্গীত করার সুযোগ দিয়েছিলেন। এক বছর পর আবার এই দু’জন একসঙ্গে একটি প্রজেক্টে কাজ করছেন।

পরিচালক প্রভাত রায় বহুদিন পর আবার ক্যামেরার পিছনে ‘অ্যাকশন’ আর ‘কাট’ নিয়ে ফিরছেন। এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবির নাম ‘বলাই’। বহুদিন অসুস্থতা ও একাকীত্বের জীবন কাটিয়েছেন তিনি। সেই জায়গা থেকে তাঁকে বের করে আবার পরিচালকের আসনে বসিয়েছেন তাঁর মানসকন্যা একতা ভট্টাচার্য।
এই ছবি তৈরির গল্প ইতিমধ্যেই সকলের জানা। তবে নতুন খবর হল, এই ছবির জন্য সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার কবীর সুমন। বহু বছর পর আবার এই জুটিকে একসঙ্গে কাজ করতে দেখা যাবে। বহু বছর আগে প্রভাত রায় তাঁর ছবি ‘সেদিন চৈত্রমাস’-এ কবীর সুমনকে এই সিনেমার সঙ্গীত করার সুযোগ দিয়েছিলেন। এক বছর পর আবার এই দু’জন একসঙ্গে একটি প্রজেক্টে কাজ করছেন।
এই বিষয়ে পরিচালক প্রভাত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “বহু বছর আগে ‘সেদিন চৈত্রমাস’ ছবিতে কবীর সুমন সুর করেছিল। আমার খুব পছন্দ হয়েছিল। যেরকম চাই, ঠিক সেরকমভাবেই কাজটা করে দেয়। ‘বলাই’ ছবির জন্য যখন সুরকার খুঁজছি, তখন একতাকে কবীরের কথা বলি। একতাই ব্যবস্থা করে দেয়। আমি বিশ্বাস করি, ‘বলাই’-এর জন্য কবীর সবথেকে ভালো সঙ্গীত করবে। আগামী ২০ অগস্ট আমাদের ছবির গানের রেকর্ড করা হবে।”
এই ছবির সঙ্গীত করার বিষয়ে কবীর সুমনের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন,“প্রভাত রায় আমার বহুদিনের বন্ধু। প্রভাত আমায় সিনেমার গান তৈরির সুযোগ দিয়েছিলেন। সেই ছবির নাম ‘সেদিন চৈত্রমাস’। এটা অনেক বড় বিষয়। যদি কাউকে প্রথম সুযোগ না দেয়, সে কী করবে, বলুন তো! এছাড়াও সুর তৈরির ক্ষেত্রে তিনি যে স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, সেটা ভাবাই যায় না। এই ছবির জন্য আমি যাঁদের দিয়ে গাওয়াতে চেয়েছিলাম, তাতেও তিনি আপত্তি করেননি, যেটা চাইলেই করতে পারতেন। আমার সেই কাজে লোপামুদ্রা মিত্র, স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত ও নচিকেতাকেও প্রথম সুযোগ দিয়েছিলেন। আজ তাঁরা অনেক বিখ্যাত, নিশ্চয়ই তাঁরাও মনে রেখেছেন। প্রভাত আমার থেকে কিছুটা বড় হলেও আমার বন্ধু মানুষ। প্রভাত আমায় কাজ দিয়েছিলেন শুধু নয়, কাজ শিখিয়েছিলেন। যেমন, কত সেলুলয়েড চললে কত মিনিট হয়, এত ফিট সেলুলয়েডে এত মিনিট—এই বিষয়টা মুভিওয়ালা মেশিন চালিয়ে আমায় বুঝিয়েছেন। এবার সেই বুঝে আমায় মিউজিক করতে হবে। সবটা বন্ধুত্বের আবহে শিখিয়েছিলেন। তাই কাজটাও ভালো হয়েছিল।”
সুমন আরও বলেন, ”তবে এর মানে এই নয় যে প্রভাতকে যা দেব, তাই নিয়ে নেবে। বেশ খুঁতখুঁতে মানুষ। এই ‘বলাই’-এর সুর করতে গিয়ে আমার একটা জায়গা পছন্দ হয়নি, তখন আবার সেই সুর বদল করেছি। আসলে একসঙ্গে কাজ করার যে আনন্দ, প্রভাত সেটা জানে। এত বছর পর আমারও বয়স হয়েছে, প্রভাতেরও বয়স হয়েছে। আমার খুব ইচ্ছে ছিল প্রভাতদার সঙ্গে আবার একটা কাজ করার। একতার সঙ্গে কথা হতে সেটাই বলেছিলাম—যদি একটা সুযোগ পেতাম। সেটা হয়ে গেল। জীবন সায়াহ্নে প্রায় শেষ একটা ভালো কাজ করার প্রচেষ্টা করলাম। শ্রোতারা বলবে কেমন হয়েছে। প্রভাতদা তাঁর ‘বলাই’ ছবি, যেটা রবীন্দ্রনাথের গল্প থেকে হচ্ছে, তাতে দুটো গান করতে বলেছেন। গানের স্পিরিট কী? গানের মাধ্যমে কী বলতে চান, সেটা উনি বলে দিয়েছেন। গানের সুর করে পাঠালাম। প্রভাত শুনে একটু পরিবর্তন করতে বললেন। আমি আবার সুর করে পাঠাতে প্রভাত ও একবার পছন্দ হয়ে গেল। দেখুন, প্রভাত যে সুর চেয়েছে, এখন এরকম গান আর হয় না, কেউ চায়ও না। একটা রবীন্দ্রসঙ্গীতও রয়েছে। আর একটি গানের সুর করছি। আমার গানের প্রথম লাইন, ‘সে চলে যায়, তবু যায় না…’। এই গানটা এই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করেছি। আমি সঙ্গীত অ্যারেঞ্জ করছি, সঙ্গে হারমনি প্রয়োগ করব। সেটা আমি নিজেই বাজাব। এই বুড়ো বয়সে আমি গাইব। আমার মজা লাগছে। ‘সেদিন চৈত্রমাস’ ছবিতে হিরোর লিপে আমার গান ছিল না, শ্রীযুক্ত নচিকেতা চক্রবর্তীর ছিল। এবার ‘বলাই’-এ আমার কণ্ঠ থাকবে। আশা করি শ্রোতাদের ভালো লাগবে।”
‘বলাই’ ছবির সহ-পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক একতা জানালেন, তিনি খুব খুশি এই দু’জন মহারথীকে আবার একসঙ্গে কাজ করাতে পেরে। একতা আরও বলেন, “আমি শুনেছিলাম বাবির শুটিংয়ের গল্প। তাই চাইতাম, বাবি আবার শুটিংয়ে ফিরুক, রেকর্ডিংয়ে ফিরুক। আবার অন্যদিকে সুমন স্যারও আমাকে বলেছিলেন, বাবার সঙ্গে আর একবার কাজ করতে চান। সেটাই সম্ভব হল। আমার সুমন স্যারের আরও একটি বিষয় ভালো লাগে—বাবি সুমন স্যারকে সিনেমার গানের সুর করতে সুযোগ দিয়েছিলেন, সেটা উনি সব সময় মনে রেখেছেন। এটা খুব বড় বিষয়।”
