কেন কোনও ফিল্মি পার্টিতে দেখা যায় না মিঠুন চক্রবর্তীকে? উত্তরে ‘মহাগুরু’ যা বললেন…
কেরিয়ারের ব্যস্ততম সময়ের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে মিঠুন এমন এক তথ্য দিয়েছেন যা বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতাদের কাছে অবিশ্বাস্য। আশি ও নয়ের দশকে তাঁর কাজের চাপ কেমন ছিল? মিঠুনের উত্তর, “জানলে অবাক হবেন, এক সময় আমার হাতে একসঙ্গে ৬৫টি ছবি ছিল। এক বছরে ১৯টি ছবি মুক্তির জন্য আমার নাম ‘লিমকা বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ রয়েছে।

তিনি একাধারে ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ আবার অন্যদিকে ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’। কয়েক দশক ধরে রুপোলি পর্দা কাঁপানো মিঠুন চক্রবর্তীকে কেন গ্ল্যামার দুনিয়ার পার্টিতে দেখা যায় না? সম্প্রতি সংবাদসংস্থা আইএএনএস (IANS)-এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মিঠুন জানালেন, লাইম-লাইটের চাকচিক্যের চেয়ে নিজের বাগান, পোষ্য আর রান্নাঘরের শান্ত পরিবেশই তাঁর বেশি পছন্দের।
পার্টি এড়িয়ে চলা প্রসঙ্গে মিঠুন বলেন, “কেরিয়ারের শুরু থেকেই আমি পার্টি বা ফিল্মি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে যাই না। পার্টিতে কী হয়? শুধু পরনিন্দা-পরচর্চা , যা আমি একদম পছন্দ করি না। আর আমি মদ্যপানও ছেড়ে দিয়েছি অনেক দিন। তাই বর্তমানের পার্টিগুলোতে আমি একেবারেই বেমানান। তার চেয়ে আমি আমার পরিবার, গাছপালা আর আমার চারপেয়ে সন্তানদের (পোষ্য) সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসি। আমি রান্না করতেও খুব পছন্দ করি।”
কেরিয়ারের ব্যস্ততম সময়ের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে মিঠুন এমন এক তথ্য দিয়েছেন যা বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতাদের কাছে অবিশ্বাস্য। আশি ও নয়ের দশকে তাঁর কাজের চাপ কেমন ছিল? মিঠুনের উত্তর, “জানলে অবাক হবেন, এক সময় আমার হাতে একসঙ্গে ৬৫টি ছবি ছিল। এক বছরে ১৯টি ছবি মুক্তির জন্য আমার নাম ‘লিমকা বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ রয়েছে। এ পর্যন্ত আমি প্রায় ৩৮০টি ছবিতে অভিনয় করেছি।”
আজকের দিনে অনেক অভিনেতা বছরে মাত্র একটি বা দুটি ছবি করেন। এ প্রসঙ্গে মিঠুনের মত ভিন্ন। তিনি বলেন, “আমি জানি না লোকে কীভাবে বছরে মাত্র একটা ছবি করে! অনেকে বলেন তাঁরা মাসের পর মাস স্ক্রিপ্ট পড়েন। আরে, এক লাইনেই তো পুরো সিনেমার গল্প বোঝা যায়। আমরা এক লাইন শুনেই সিদ্ধান্ত নিতাম ছবিটা করব কি না।”
এখনও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। তবে এখন কেবল সেই কাজগুলোই করছেন যা তাঁকে উৎসাহিত করে। মিঠুন জানালেন, “আমি এখন বেছে বেছে কাজ করছি। যেমন প্রভাসের সঙ্গে ‘ফৌজি’ করছি, যা একটি দেশাত্মবোধক ফ্যামিলি ড্রামা। আবার রজনীকান্তের সঙ্গে ‘জেইলার ২’ করছি। এই ভিন্ন ধরণের কাজগুলো করতে আমার বেশ ভালোই লাগছে।” গ্ল্যামার জগতের মোহ ত্যাগ করে নিজের শর্তে বাঁচা এই অভিনেতা আজও প্রমাণ করে দিচ্ছেন যে, পরিশ্রম আর সততা থাকলে কয়েক দশক পরেও প্রাসঙ্গিক থাকা সম্ভব।
