ফেব্রুয়ারির শেষে টলিউডে ‘পয়লা বৈশাখ’, সিনেপাড়ায় নতুন কী ঘটল?
এই ঘূর্ণি ইন্দ্র ও নার্গিসকে বারবার একই দিনে ফিরিয়ে আনে না, বরং তাদের উড়িয়ে নিয়ে যায় বিভিন্ন সমান্তরাল মহাবিশ্ব বা অলটারনেট ইউনিভার্সে। প্রথম ছবি হিসেবেই কেন এমন জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয়কে বেছে নিলেন পরিচালক? অর্ক দাশগুপ্তর সোজাসাপ্টা উত্তর, "কঠিন কাজ দিয়ে শুরু করাটা বোধহয় আমার স্বভাব। কয়েক বছর আগে মাথায় আসা গল্পগুলোর মধ্যে এটাই সবথেকে বেশি টেনেছিল।

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের সূচনা যে দিনে, সেই পয়লা বৈশাখই এই ছবির মূল প্রেক্ষাপট। তবে মৃণাল সেন বা ঋতুপর্ণের ছবির সঙ্গে অর্কর এই পরিচালনার আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। এটি নিছক কোনও পারিবারিক নাটক নয়, বরং বাংলা ছবির আঙিনায় এক বিরল মাল্টিভার্স-এর গল্প।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ইন্দ্র। এক অদ্ভুত ঘটনার জেরে সে আটকে পড়ে একটি নির্দিষ্ট দিনে— আর সেই দিনটিই হল ‘পয়লা বৈশাখ’। প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ ‘টাইম লুপ’ মনে হলেও, পরে জানা যায় ইন্দ্র আসলে ফেঁসে গিয়েছে এক জটিল ‘টাইম ভরটেক্স’ বা সময়ের ঘূর্ণিতে। এই ঘূর্ণি ইন্দ্র ও নার্গিসকে বারবার একই দিনে ফিরিয়ে আনে না, বরং তাদের উড়িয়ে নিয়ে যায় বিভিন্ন সমান্তরাল মহাবিশ্ব বা অলটারনেট ইউনিভার্সে। প্রথম ছবি হিসেবেই কেন এমন জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয়কে বেছে নিলেন পরিচালক? অর্ক দাশগুপ্তর সোজাসাপ্টা উত্তর, “কঠিন কাজ দিয়ে শুরু করাটা বোধহয় আমার স্বভাব। কয়েক বছর আগে মাথায় আসা গল্পগুলোর মধ্যে এটাই সবথেকে বেশি টেনেছিল। পেশাদার হিসেবে কাজ করতে গেলে সহজ-কঠিনের দোহাই দিয়ে লাভ নেই।”
ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মুমতাজ সরকার। সায়েন্স ফিকশন নিয়ে তাঁর উত্তেজনা তুঙ্গে। মুমতাজের কথায়, “বাংলায় সায়েন্স ফিকশন খুব একটা হয় না। একদম অন্য স্বাদের, অন্য ধারার এই কাজ নিয়ে আমরা সবাই খুব আশাবাদী।”
প্রবীণ অভিনেতা শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়ের দাবিও বেশ জোরালো। তিনি বলেন, “একদম নতুন ঘরানার ছবি এটি। জোর দিয়ে বলতে পারি, এমন সায়েন্স ফিকশন বাংলা সিনেমা আগে কখনও দেখেনি।”
বাঙালির নববর্ষের আমেজ আর হলিউডি ঘরানার মাল্টিভার্স থিওরি— এই দুইয়ের মিশেলে ২৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়া ‘পয়লা বৈশাখ’ বক্স অফিসে কতটা ঝড় তোলে, এখন সেটাই দেখার।
