Threat Letter: পরপর শহরের ডাক্তারদের কাছে আসছিল ‘অদ্ভুত’ চিঠি, জিপিও-র সামনে ফুটেজ দেখেই তাজ্জব গোয়েন্দারা, ফাঁস হল সব
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২২ এপ্রিল পূর্ব যাদবপুর থানার একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে শিবোতোষকে। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ধৃত শিবতোষের অসমে হোটেল ব্যবসা ছিল। ব্যবসা ভালো চলছিল না। বাজারে প্রচুর টাকা দেনাও হয়।

কলকাতা: শহরের একাধিক থানায় সম্প্রতি বেশ কয়েকটি একই রকম অভিযোগ দায়ের হয়। সবকটির ক্ষেত্রেই অভিযোগকারী কোনও না কোনও চিকিৎসক। তদন্ত শুরু করে লালবাজার। অবশেষে ভিনরাজ্য থেকে গ্রেফতার করা হল এক যুবককে।
জঙ্গি পরিচয় দিয়ে শহরের চিকিৎসকদের হুমকি চিঠি পাঠানোর অভিযোগে গ্রেফতার যুবক। শহরের বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের কাছে টাকা চেয়ে হুমকি চিঠি পাঠানোর অভিযোগ ওঠে ওই যুবকের বিরুদ্ধে। অসমের বাসিন্দা শিবতোষ দেবরায় নামে ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে লালবাজারের গোয়েন্দারা। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। মঙ্গলবার আদালতে পেশ করা হবে।
লালবাজার সূত্রে খবর, গত এপ্রিল মাসে শহরের বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের কাছে জঙ্গি পরিচয় দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার দাবি জানিয়ে হুমকি চিঠি যায়। একাধিক থানা মিলিয়ে প্রায় ৫-৬টি অভিযোগ জমা পড়ে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। তদন্তে নেমে জিপিও-র সামনের এবং ভিতরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পুলিশ।
দেখা যায়, নিজের চেহারা আড়াল করতে মুখে মাস্ক পরে জিপিও-তে গিয়ে হুমকি চিঠি পোস্ট করেন ওই ব্যক্তি। এরপরেই মোবাইলের টাওয়ার চিহ্নিত করে এবং অন্যান্য টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়ে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির হদিশ পান গোয়েন্দারা।
জানা যায়, প্রতিবেশী রাজ্য অসমের বাসিন্দা ওই ব্যাক্তি। অভিযুক্তের খোঁজে অসম পাড়ি দেয় লালবাজারের গোয়েন্দাদের একটি দল। এরপর রবিবার শিবতোষ দেবরায়কে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২২ এপ্রিল পূর্ব যাদবপুর থানার একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে শিবোতোষকে। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ধৃত শিবতোষের অসমে হোটেল ব্যবসা ছিল। ব্যবসা ভালো চলছিল না। বাজারে প্রচুর টাকা দেনাও হয়। কলকাতায় এসে বিভিন্ন হোটেলে কাজ করে টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করছিলেন ওই ব্যক্তি।
এরই মাঝে তাঁর মনে হয় নিজের কিডনি বিক্রির টাকা জোগাড় করে বাজারের ধার মেটাবেন। তদন্তকারীদের অনুমান, ধৃত যুবক শহরের চিকিৎসকদের বেশ কয়েকজনের নামে হুমকি চিঠি পাঠিয়েছিলেন টাকা পাওয়ার আশায়। চিঠি পাঠানোর পর ওই যুবক ফের অসমে চলে যান। কিন্তু জঙ্গি পরিচয় দিয়ে চিকিৎসকদের উদ্দেশে হুমকি চিঠি পাঠানোর আসল কারণ স্পষ্ট নয়। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
