AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

কার্গিলের যুদ্ধে বাঙালির ক্যামেরা! নেটফ্লিক্সের পর্দায় নতুন ইতিহাস

'কাহানি', 'দঙ্গল', 'তারে জমিন পর' এবং 'লাল সিং চড্ডা'-র মতো একাধিক ব্লকবাস্টার ছবিতে কাজের পর এটিই ছিল তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্ট। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কেবল প্রশংসাই নয়, রেটিংয়ের দিক থেকেও ইতিমধ্যেই ওটিটি দুনিয়ায় রেকর্ড গড়েছে এই সিরিজটি।

কার্গিলের যুদ্ধে বাঙালির ক্যামেরা! নেটফ্লিক্সের পর্দায় নতুন ইতিহাস
| Edited By: | Updated on: Aug 26, 2026 | 7:46 PM
Share

১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সেই রোমহর্ষক দিনগুলি এবার ওটিটির পর্দায়। ভারতীয় বিমানবাহিনীর (IAF) বীরত্ব ও অবিশ্বাস্য আত্মত্যাগের কাহিনি নিয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স নিয়ে এসেছে ৬ পর্বের বিশেষ থ্রিলার সিরিজ ‘অপারেশন সফেদ সাগর’ (Operation Safed Sagar)। আর বরফাবৃত দুর্গম পাহাড়ে এই হাই-ভোল্টেজ সিরিজের দৃশ্যপট ক্যামেরাবন্দি করে চমক দিয়েছেন কলকাতার ভূমিপুত্র তথা বলিউডের প্রখ্যাত সিনেমাটোগ্রাফার সেতু।

‘কাহানি’, ‘দঙ্গল’, ‘তারে জমিন পর’ এবং ‘লাল সিং চড্ডা’-র মতো একাধিক ব্লকবাস্টার ছবিতে কাজের পর এটিই ছিল তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্ট। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কেবল প্রশংসাই নয়, রেটিংয়ের দিক থেকেও ইতিমধ্যেই ওটিটি দুনিয়ায় রেকর্ড গড়েছে এই সিরিজটি। আন্তর্জাতিক সিনেমা রেটিং ওয়েবসাইট IMDb-তে ১০-এর মধ্যে ৮.৬ স্কোর ছিনিয়ে নিয়ে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে বিমানবাহিনীর এই বীরগাথা।

কলকাতা থেকে একেবারে ১৭,০০০ ফুট উচ্চতার মাইনাস তাপমাত্রায় কীভাবে সম্ভব হল এই বিপজ্জনক শুটিং?

লাদাখ ও হিমাচল প্রদেশের ১৬,৫০০ থেকে ১৭,০০০ ফুট উঁচুতে প্রবল প্রতিকূল আবহাওয়া ও অক্সিজেনের অপ্রতুলতার সঙ্গে লড়াই করে কাজ করেছে পুরো টিম। শুটিং শুরুর প্রায় এক বছর আগে থেকেই শিনকু লা, বারালাচা এবং রোহতাং পাসের মতো বিপজ্জনক এলাকায় ঘুরে রেকি (Reconnaissance) করা হয়েছিল। পাহাড়ি ভূখণ্ডে ক্যামেরার সঠিক পজিশনিং এবং ভিএফএক্স (VFX)-এর জটিল কাজ নিখুঁত করার জন্যই ছিল এই আগাম পরিকল্পনা।

আকাশে যুদ্ধবিমানের লড়াই (Aerial Combat) যাতে পর্দায় একশো শতাংশ বাস্তবসম্মত মনে হয়, তার জন্য সরাসরি ১৯৯৯-এর কার্গিল যুদ্ধে অংশ নেওয়া ভারতীয় বিমানবাহিনীর রিয়েল-লাইফ পাইলটদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। ফাইটার জেটের গতিবিধি এবং টেকনিক্যাল বিষয়গুলি তাঁরাই তদারকি করেছেন।

শুটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল ‘মিগ-২১’ (MiG-21) ফাইটার জেটের ককপিটের ভেতরের ক্লোজ-আপ দৃশ্যগুলি শুট করা। সেখানে ক্যামেরার লেন্স থেকে পাইলটের মুখের দূরত্ব ছিল মাত্র ১৮ ইঞ্চি! এতটুকু সংকীর্ণ ও অন্ধকার জায়গায় লাইটিং এবং সঠিক অ্যাঙ্গেল ধরে রাখাটা একপ্রকার অসম্ভবকে সম্ভব করার সমতুল্য ছিল। প্রথম ধাপে বরফাবৃত পাহাড়ের চূড়ায় বাস্তব অ্যাকশন দৃশ্য শুট করা হয়। পরবর্তীতে একই দৃশ্য ও ভৌগোলিক পরিবেশ কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয় ইন্ডোর স্টুডিওতে। সূর্যের আলো ও মেকি স্টুডিও লাইটিংয়ের মধ্যে হুবহু সামঞ্জস্য বজায় রাখার এই কঠিন কাজটি সফলভাবে সামলেছেন সেতু।

বাঙালির ক্যামেরার জাদুতে ‘অপারেশন সফেদ সাগর’ আজ ভারতীয় বিমানবাহিনীর শৌর্য ও আত্মত্যাগের এক অনন্য ঐতিহাসিক দলিল। অদম্য সাহস আর উন্নত প্রযুক্তির এই যৌথ জুটিতে নেটফ্লিক্সের পর্দায় নতুন মাত্রা পেল দেশপ্রেমের এই গৌরবগাথা।

Follow Us