Hooghly: হুগলিতে ‘সুপার ফুড’ চাষ! দেড় ফুট জলেও হতে পারে ফলন
Farmers: বিদেশে ভালো চাহিদা থাকায় মাখানা চাষে গুরুত্ব বাড়ছে। বিহার মাখানা চাষে পথ দেখাচ্ছে। পাশের রাজ্যে যে সুযোগ আছে, পশ্চিমবঙ্গেও সেই সুযোগ রয়েছে। তাই মাখানা চাষ করলে সরকার সবরকম সাহায্য করবে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।

হুগলি: হুগলি জেলা বরাবরই কৃষিতে উন্নত। এই জেলায় মূলত ধান আর আলু উৎপাদন হয় সবচেয়ে বেশি। তবে জেলার ১৮টি ব্লকের কয়েকটি ব্লকে চাষ হয় পেঁয়াজ, পাট, বাদাম, তিল। ফলের মধ্যে আম, কলার উৎপাদনও হয় ভালো। সবজি ও ফল-ফুল নার্সারি চাষ কম বেশি হয় অনেক জায়গায়। আলু চাষে অনেক ঝুঁকি থাকে, ধান যা হয় তার থেকে বিরাট কিছু লাভ কৃষকরা করতে পারেন না। তাই এবার বিকল্প চাষে উৎসাহ দিয়ে চলেছে কৃষি বিভাগ।
জেলায় ‘উদ্যান পালন সপ্তাহ’ পালিত হচ্ছে। জেলার কৃষকদের নিয়ে সেমিনার হচ্ছে। সেখানেই মাখানা চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের। পশ্চিমবঙ্গের জন্য মাখানা চাষ নতুন। তবে এই চাষ ঠিকমতো করতে পারলে ভালো মুনাফা হতে পারে কৃষকদের। এর জন্য আলাদা করে জমি তৈরির দরকারও নেই।
অপেক্ষাকৃত নীচু জমি। যেখানে জল জমে অন্য চাষ হয় না। সেই জমিতে এক দেড় ফুট জলেই হতে পারে মাখানা চাষ। মাখানা আর মাছ চাষও হতে পারে একইসঙ্গে। হুগলি জেলার উদ্যান পালন আধিকারিক সামন্ত লায়েক জানান, মাখানা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করেছে। তৈরি হয়েছে মাখানা বোর্ড।
মাখানা সুপার ফুড কেন?
মাখানায় প্রোটিন ও ফাইবার ভরপুর। চর্বির পরিমান খুব কম থাকে। ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান পাওয়া যায় এতে। শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার পাশাপাশি ওজন কমাতে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে জনপ্রিয়। এখন সব শপিং মলে পাওয়া যায়।
বিদেশে ভালো চাহিদা থাকায় মাখানা চাষে গুরুত্ব বাড়ছে। বিহার মাখানা চাষে পথ দেখাচ্ছে। পাশের রাজ্যে যে সুযোগ আছে, পশ্চিমবঙ্গেও সেই সুযোগ রয়েছে। তাই মাখানা চাষ করলে সরকার সবরকম সাহায্য করবে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে।
শুধু আলুর উপর নির্ভর না করে মাখানার পাশাপাশি ক্যাপসিকাম, বিনস, কপি চাষ করতেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তার জন্য গ্রিন হাউস তৈরি, বীজ সার দেওয়ার থেকে সরকারি সাবসিডি দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
