৭৫০ কোটির ‘ধুরন্ধর ২’ কি এবার বয়কটের মুখে?
যখন রণবীর ওই পবিত্র শ্লোক পাঠ করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই তাঁর সামনে বসে ধুমপান করছেন অন্য এক অভিনেতা আর মাধবন। ‘শিখস ইন মহারাষ্ট্র’ সংগঠনের সভাপতি গুরজ্যোৎ সিং কিরে এই দৃশ্যটির কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছেন, পবিত্র গুরবাণী পাঠের সময় মাদকদ্রব্যের ব্যবহার শিখ ঐতিহ্যের চরম অবমাননা।

আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ ছবিটির জয়রথ এখন বক্স অফিসে অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু এই বিপুল ব্যবসায়িক সাফল্যের মাঝেই বড়সড় হোঁচট খেলেন রণবীর সিংহ ও আর মাধবন। ছবির একটি বিতর্কিত দৃশ্য নিয়ে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়েছে শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে।
ছবির একটি বিশেষ দৃশ্যে দেখা যায়, অভিনেতা রণবীর সিংহ গুরু গোবিন্দ সিংহ জি রচিত পবিত্র ‘দশম গ্রন্থ সাহেব’-এর গুরবাণী পাঠ করছেন। অভিযোগ উঠেছে, যখন রণবীর ওই পবিত্র শ্লোক পাঠ করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই তাঁর সামনে বসে ধুমপান করছেন অন্য এক অভিনেতা আর মাধবন। ‘শিখস ইন মহারাষ্ট্র’ সংগঠনের সভাপতি গুরজ্যোৎ সিং কিরে এই দৃশ্যটির কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছেন, পবিত্র গুরবাণী পাঠের সময় মাদকদ্রব্যের ব্যবহার শিখ ঐতিহ্যের চরম অবমাননা।
গুরজ্যোৎ সিংয়ের মতে, এই শ্লোকটি মুঘল আমলে চরম অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে রচিত হয়েছিল। সিনেমার পর্দায় সেটিকে এমন সংবেদনহীনভাবে তুলে ধরা শিখ জাতির ভাবাবেগকে অসম্মান করার সামিল। তিনি সাফ জানিয়েছেন, পরিচালক আদিত্য ধর, রণবীর সিংহ এবং আর মাধবনকে অনতিবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা না চাইলে ভারতের যেখানেই এই তারকারা যাবেন, তাঁদের ‘কালো পতাকা’ দেখিয়ে প্রতিবাদ জানানো হবে।
ইতিমধ্যেই মুম্বইয়ে ছবিটির নির্মাতাদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন তিনি। বিতর্ক শুধু সিনেমার দৃশ্যেই থেমে নেই। সংশ্লিষ্ট সংগঠনের দাবি, ছবির পোস্টারে রণবীর সিংহকে শিখ পোশাকে ধূমপান করতে দেখা গিয়েছে। শিখ ধর্মে তামাক সেবন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে এই চিত্রায়ণকে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একদিকে যখন বিশ্বজুড়ে আয়ের রেকর্ড গড়ছে ‘ধুরন্ধর ২’, অন্যদিকে তখন ধর্মীয় অবমাননার এই গুরুতর অভিযোগ ছবিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। নির্মাতারা কি শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কে নতি স্বীকার করবেন, নাকি আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটবেন— সেটাই এখন দেখার।
