Calcutta High Court: ‘রাজ্যে সুপার এমার্জেন্সি’, সাংসদের জোর সওয়াল আদালতে, কল্যাণের এক্তিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলল কমিশন
Kalyan Banerjee: সোমবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন করেন, 'ডিজি ট্রান্সফার হতে পারে, কিন্তু মুখ্যসচিবকে বদলি কীভাবে? মাত্র এক মাস দায়িত্ব পেয়েছিলেন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতীম সরকার। তাঁকে বদলি কেন? শুধু ক্ষমতা আছে বলে?" মুখ্যসচিবকে বদলানো যায় না বলেও সওয়াল করেন তিনি।

কলকাতা: রাজ্যে ভোট ঘোষণা হওয়ার পর মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের ডিজি সহ রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের প্রায় সব শীর্ষ আধিকারিককে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই ইস্যুতেই আদালতে কমিশনের বিরুদ্ধে জোর সওয়াল করলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘৩৫৬ জারি না করে কমিশন তার ক্ষমতার প্রয়োগ করে অপ্রত্যাশিত জরুরি অবস্থা জারি করেছে রাজ্যে।’ জনস্বার্থ মামলায় সওয়াল করতে গিয়ে সোমবার এমনটাই বললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নির্বাচন কমিশন এদিন কল্যাণের মামলা করার অধিকার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।
শুধু ক্ষমতা আছে বলেই বদলি?
মামলায় কল্যানের যুক্তি, প্রায় সব জেলাশাসকদের বদলি করা হয়েছে। ডিইও-দের বদলি নিয়ে প্রশ্ন তুলে কল্যাণ বলেন, “আবার তাঁদের অন্য রাজ্যে পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।” কল্যাণের প্রশ্ন, “ডিজিকে ট্রান্সফার হতে পারে, কিন্তু মুখ্যসচিবকে বদলি কীভাবে? মাত্র এক মাস দায়িত্ব পেয়েছিলেন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতীম সরকার। তাঁকে বদলি কেন? শুধু ক্ষমতা আছে বলে?” ৬৩ জন পুলিশ অফিসারকে বদল হয়েছে, ১৩ জন এসপি-কে বদল করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন কল্যাণ।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার কথা এদিন আদালতে উল্লেখ করেন কল্যাণ। তিনি বলেন, “লোকসভার ১২০ জন ও রাজ্যসভার ৬০ জন সই করেছেন। কমিশনের আচরণে প্রশ্ন উঠছে, ফেডেরাল পরিকাঠামো কি ভেঙে দিতে চাইছে?”
‘সুপার এমার্জেন্সি’
পরপর অফিসারের বদলির পরিস্থিতিকে ‘সুপার এমার্জেন্সি’ বলে উল্লেখ করে কল্যাণ বলেন, “ডেভেলপমেন্টের কাজ বন্ধ। ৩৫৬ ধারা জারি না করে, কমিশন তার ক্ষমতার প্রয়োগ করে অপ্রত্যাশিত জরুরি অবস্থা জারি করেছে রাজ্যে। সিএস লিড করেন সরকারি অন্যান্য অফিসারদের। রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন বদলি করায় রাজ্যের প্রশাসনিক কাজে প্রভাব পড়ছে।”
কল্যাণের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন
কমিশনের তরফে আইনজীবী এদিন কল্যাণের যুক্তির বিরোধিতা করে বলেন, “কমিশনকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা। পাঁচ রাজ্যে ভোট। কোথাও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।”
পাশাপাশি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনস্বার্থ মামলা করার এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। কমিশন বলে, “জনস্বার্থ মামলাকারীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট পড়ে দেখুক আদালত। রাজ্যের আইনজীবী হয়ে একাধিক মামলায় সওয়াল করেছেন, দেখুন নির্দেশনামায় কার নাম। সরকারের জুনিয়র আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন।”
কমিশনের দাবি, আদালতের কাছে তথ্য গোপন করে মামলা করেছেন জনস্বার্থ মামলাকারী। কমিশনের আরও প্রশ্ন, সব রদবদলের নির্দেশিকা মুখ্যসচিবকে দেওয়া হয়েছে। তাহলে এই নির্দেশিকা কীভাবে পেলেন জনস্বার্থ মামলাকারী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়? বদলি হলেও, কোনও পদ যে ফাঁকা রাখা হয়নি, সে কথাও উল্লেখ করে কমিশন।
মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সহ একাধিক অফিসার বদল করেছে কমিশন। স্বরাষ্ট্রসচিব পদ থেকে সরিয়ে জগদীশ প্রসাদ মিনাকে ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
