Shobhan Chakraborty: চাকরিটা আর নেই, এবার রূপঙ্করের হাত ধরে বড় সুযোগ রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে ভাইরাল হওয়া শোভনের
Rabindra Sangeet Viral Singer: রবি ঠাকুরের ‘শ্রাবণের ধারার মতো’ গানটি শোভনের গলায় শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন কোটি কোটি নেটিজেন। একসময় ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের গান শিখিয়েই সংসার চলত তাঁর। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে একে একে ছাত্র-ছাত্রী কমতে থাকায় চরম আর্থিক অনটনে পড়েন তিনি।

রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা শোভন চক্রবর্তীর জীবন যেন এক নাটকীয় মোড়। অতিমারির কোপে মিউজিক টিউটর থেকে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের সিকিউরিটি গার্ড হওয়া, আর সম্প্রতি সেই চাকরিটি হারিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়া— চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই দিন কাটছিল তাঁর। তবে সেই কঠিন সময়ের মেঘ কাটতে না কাটতেই এবার তাঁর জীবনে এল এক বিরাট সুযোগ। এবার সরাসরি জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী রূপঙ্কর বাগচীর সঙ্গে একই মঞ্চে গান গাইতে চলেছেন ভাইরাল শোভন চক্রবর্তী।
রবি ঠাকুরের ‘শ্রাবণের ধারার মতো’ গানটি শোভনের গলায় শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন কোটি কোটি নেটিজেন। একসময় ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের গান শিখিয়েই সংসার চলত তাঁর। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে একে একে ছাত্র-ছাত্রী কমতে থাকায় চরম আর্থিক অনটনে পড়েন তিনি। সংসার চালাতে বাধ্য হয়েই একটি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষীর চাকরি নেন। কিন্তু সম্প্রতি সেই চাকরিটিও খোয়ান তিনি। খবর চাউর হয়, গান গাওয়ার জন্য নাকি তাঁকে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় সোশাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ।
তবে বিতর্কের মুখে পড়ে ওই সংস্থার পক্ষ থেকে বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হয়। সংস্থার এইচআর বাবুলাল নস্কর বিষয়টিকে স্পষ্ট করে জানান, গান গাওয়ার জন্য তাঁর চাকরি গিয়েছে— এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। শোভনবাবু শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং ঠিকমতো কাজ করতে পারছিলেন না। এমনকী, তাঁকে অন্যত্র বিকল্প কাজের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজেই আর কাজ করতে চাননি। এইচআর বাবুলাল নস্কর আরও প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, “উনি যদি এখনও বলেন ডিউটি করবেন এবং ডিউটির শেষে গান নিয়ে থাকবেন, আমাদের তাতে কোনও অসুবিধা নেই। আমাদের ভ্যাকান্সি রয়েছে, উনি আসলে আমরা আবারও অন্য কাজের ব্যবস্থা করে দেব।”
চাকরির জটিলতা ও টানাপোড়েনের মাঝেই শোভনের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন টলিউডের জনপ্রিয় গায়ক রূপঙ্কর বাগচী। ‘বেঙ্গল ওয়েব সলিউশন’ নামক একটি সংস্থার কর্ণধার প্রশান্ত সরকার রূপঙ্করের সঙ্গে যোগাযোগ করে শোভনের বিষয়ে কথা বলেন এবং একটি যৌথ সঙ্গীতানুষ্ঠানের প্রস্তাব দেন।
শোভনের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রস্তাবে রাজি হন রূপঙ্কর। এ বিষয়ে টিভি নাইন বাংলাকে তিনি জানান, “বেঙ্গল ওয়েব সলিউশন সংস্থা থেকে প্রশান্ত সরকার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং শোভনের কথা বলেন। একটি অনুষ্ঠান করার প্রস্তাব দেন। তার আগে আমি শোভন সম্পর্কে সোশাল মিডিয়ায় একটু দেখেছিলাম। তাই অনুষ্ঠানটা করতে আমি রাজি হয়েছি, কারণ আমার মনে হয়েছিল এই মুহূর্তে শোভনের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজন আছে।”
সিকিউরিটির চাকরি হারিয়ে জীবনের যে কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন শোভন, রূপঙ্করের মতো গুণী শিল্পীর বাড়িয়ে দেওয়া হাত সেই লড়াইয়ে তাঁকে নতুন করে অক্সিজেন জোগাল। জীবনের সব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গুণী মানুষের কদর যে অবশেষে থমকে থাকে না, শোভনের এই নতুন শুরু যেন তারই আরও এক প্রমাণ।
