Calcutta High Court: ‘আজান দিতে কেউ বাধা দিচ্ছে না’, মসজিদ থেকে মাইক খোলার মামলায় রাজ্যকে অবস্থান জানানোর নির্দেশ হাইকোর্টের
Mosque Loudspeaker: মসজিদ থেকে মাইক খোলার প্রতিবাদে মিছিল করতে চেয়ে এর আগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল একটি সংগঠন। শর্ত সাপেক্ষে সেই মিছিলে অনুমতি দিয়েছিল বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ। কেন পুলিশ অনুমতি দিল না, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন বিচারপতি।

কলকাতা: মসজিদ থেকে মাইক খোলার মামলায় কোনও অন্তর্বতী নির্দেশ দিল না কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। এই বিষয়ে রাজ্যকে তাদের অবস্থান জানাতে বলল আদালত। রাজ্যের মোট ৪ হাজার মসজিদের মাইক খোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে ছিল মামলার শুনানি। ১৮ অগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
অভিযোগ, মৌখিক নির্দেশেই মাইক খোলা হয়েছে
নোটিস ছাড়াই ৪০০০ মসজিদের মাইক খোলা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র মৌখিক নির্দেশেই মাইক খোলা হয়েছে। আইনজীবী বলেন, “এটাই প্রাকটিস এখন রাজ্যের। অথচ বিচারপতি ভগবতী প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চের রায় রয়েছে।”
এদিকে, মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের এএজি বিল্বদল ভট্টাচার্য। তিনি দাবি জানান, রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান জানানোর সুযোগ দিতে হবে।
কোন মসজিদ থেকে মাইক খোলা হল, তথ্য চাইলেন বিচারপতি
কল্যাণের অভিযোগ, পুলিশ মসজিদের উপর উঠে যাচ্ছে মাইক খুলতে। জুতো পরে পুলিশ যাচ্ছে। ৪০০০ মসজিদ থেকে মাইক খোলা হয়েছে। কোন জেলা থেকে, কোন মসজিদ থেকে মাইক খোলা হল, সেই তথ্য জানতে চান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। নির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে বলে জানান তিনি।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এটা জনস্বার্থ মামলা। সব মসজিদে মাইক পুনরায় লাগানোর অনুমতি চাইছেন তিনি। ধর্মীয় আচার পালনে কেন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন কল্যাণ। কল্যাণ জানান, হুগলির চাঁপদানিতেই ১০০ মসজিদ থেকে আবেদন হতে পারে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, “আজাদ দিতে কেউ বাধা দিচ্ছে না। সকাল ৭টার পর আজানে মাইক ব্যবহার করতে চাইছে জনস্বার্থমামলাকারী? শব্দবিধি মেনে কি মাইক ব্যবহারের অনুমতি চাইছে?” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৪০০০ মাইক খোলা হয়ে থাকলে রাজ্যকে তাদের অবস্থান জানাতে দিতে হবে।
কোনও পুলিশ এমন নির্দেশ দেয়নি: এজি
এজি বলেন, অন্তর্বতী নির্দেশ না দিলে রাজ্য অবস্থান এনে বিষয়টি আদালতে স্পষ্ট করতে পারে। আর যদি অন্তবর্তী নির্দেশ দেওয়া হয়, তাহলে বলব, এই মামলা এখনই খারিজ করে জরিমানা ধার্য করা হোক। মৌখিক অবস্থানের উপর দাঁড়িয়ে এই মামলা বলে দাবি করেন তিনি।
এজির বক্তব্য, পুলিশ বৈঠকের জন্য ডাকে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কোন পুলিশ অফিসার? তাঁর নাম কী? জানতে চান তিনি। এজি স্পষ্ট জানান, “মামলায় হচ্ছে পুলিশ মাইক খুলতে বলেছে। কোনও পুলিশ এমন নির্দেশ দেয়নি। আর এর ভিত্তিতেই জনস্বার্থ মামলাকারী বলছে মাইক পুনরায় লাগানো হোক।” এজি আরও প্রশ্ন তোলেন, ৪০০০ মাইক মসজিদ থেকে খোলার অভিযোগ উঠলেও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই, একজনও ইমাম এগিয়ে এসে মামলা করেনি। তাঁর বক্তব্য, কিছু দায়বদ্ধতা দেখাতে হবে তো জনস্বার্থ মামলাকারীকে।
পুলিশ গিয়ে মাইক মসজিদের খুলে দিয়েছে, এই অভিযোগের তথ্য় চান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। রাজ্যকে তাদের অবস্থান জানানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
