AI on Humanity: আগামি ১০ বছরে বিশ্ব হবে ‘মানবশূন্য’, নেপথ্যে এআই? অশনি সংকেত গবেষকদের
AI threat to humanity: এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টে গবেষক ইভান দাবি করেছেন, বর্তমানে AI মডেলগুলির কারণে মানবজাতির অস্তিত্বের ঝুঁকি 'কম'। কিন্তু ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে,যখন AI নিজের সক্ষমতা নিজেই দ্রুত বাড়াতে পারবে। সেই পরিস্থিতিই মানবসভ্যতার জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা।

ওয়াশিংটন: হাতে মাত্র আর দশ বছর। তারপরই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে গোটা মানবজাতি? নেপথ্যে আর্টিফিশিয়ল ইন্টিলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। সম্প্রতি,এমনই আশঙ্কার কথা শোনালেন এআই গবেষক ইভান হাবিঙ্গার (Evan Hubinger)। এর আগে আমেরিকার আরও এক এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে একই অশনি সংকেত দিয়েছেন। গবেষকদের দাবি, আগামী এক দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে গোটা মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। সেই সম্ভাবনা অন্তত ১০ শতাংশের বেশি বলে মনে করছেন তাঁরা।
কী বলছেন গবেষক ইভান?
এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টে গবেষক ইভান দাবি করেছেন, বর্তমানে AI মডেলগুলির কারণে মানবজাতির অস্তিত্বের ঝুঁকি ‘কম’। কিন্তু ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে,যখন AI নিজের সক্ষমতা নিজেই দ্রুত বাড়াতে পারবে। সেই পরিস্থিতিই মানবসভ্যতার জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা।
যদিও ঠিক কীভাবে ভবিষ্যতে এআই গোটা মানবজাতির ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠতে পারে, তার নির্দিষ্ট কোনও সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা তিনি উল্লেখ করেননি। তবে তাঁর বক্তব্য এআই-এর নিরাপত্তা নিয়ে চলা বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতদিন প্রশ্ন ছিল, এআই আদৌ মানবজাতির জন্য অস্তিত্বের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না। সেই ঝুঁকির মাত্রা কতটা, এখন তা নিয়েই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এআই নিয়ে সতর্কবার্তা
এর আগে এক এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন (Jacob Coxon) এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট করেছিলেন। সম্প্রতি অ্যানথ্রোপিক ছেড়েছেন কক্সন। এর আগে তিনি ওপেন এআই-তে কাজ করেছেন। তিনি পোস্টে দাবি করেন, এআই-এর উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও সংস্থাই যথেষ্ট দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। তাঁর আশঙ্কা, খুব শীঘ্রই এমন ‘সুপারহিউম্যান’ AI ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে, যা কার্যত যে কোনও সিস্টেম হ্যাক করতে পারবে। রাতারাতি বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারবে এবং বাস্তব জগতে ক্ষমতা ও সম্পদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে।
হাবিঙ্গার ও কক্সনের মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রসংঘের এআই সংক্রান্ত উপদেষ্টা তথা কম্পিউটার বিজ্ঞানী ডেম ওয়েন্ডি হল (Dame Wendy Hall)। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, “এই ধরনের মন্তব্য কিছুটা মার্কেটিংয়েরও অংশ হতে পারে।” তবে একইসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, কোনও সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি কেন এমন ভয়াবহ আশঙ্কার কথা প্রকাশ্যে বলবেন? বিনিয়োগকারীদেরও এই ধরনের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এআই-এর সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বহু শীর্ষ কর্তা অনেক দিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন। ২০২৩ সালেই ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিকের শীর্ষকর্তারা এআই-এর কারণে মানবসভ্যতার অস্তিত্বের ঝুঁকির কথা বলেছিলেন।
