Hanuman Ansh: লোকাল ট্রেনে গান থেকে বলিউডে সুযোগ, ‘হনুমান অংশ’-এর দৃষ্টিহীন গায়ক সুনীল লোধির জীবনের গল্প চোখে জল এনে দেবে
Visually Impaired Singer Suneel Lodhi: ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘ম্যায়নে তেরে হি ভরোসে’ (Maine Tere Hi Bharose) গানটি এখন শ্রোতাদের মুখে মুখে ঘুরছে। এই গানের গায়ক লোকাল ট্রেনে একতারা বাজিয়ে গান গাওয়া সুনীলের এই বলিপাড়ায় পৌঁছনোর গল্প যেকোনও সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।

বক্সঅফিসে তুমুল চমক দেখাচ্ছে ভক্তিমূলক নতুন ছবি ‘হনুমান অংশ’। আর এই ছবির সাফল্যের সঙ্গেই সারা দেশের সংগীতপ্রেমীদের নজর কেড়েছেন ২৫ বছর বয়সী দৃষ্টিহীন গায়ক সুনীল লোধি। ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘ম্যায়নে তেরে হি ভরোসে’ (Maine Tere Hi Bharose) গানটি এখন শ্রোতাদের মুখে মুখে ঘুরছে। এই গানের গায়ক লোকাল ট্রেনে একতারা বাজিয়ে গান গাওয়া সুনীলের এই বলিপাড়ায় পৌঁছনোর গল্প যেকোনও সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।
কে এই সুনীল লোধি?
মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ডের বাসিন্দা সুনীল লোধির সঙ্গীতে কোনও প্রথাগত তালিম নেই। কিংবদন্তি গায়িকা লতা মঙ্গেশকরের গান শুনে শুনেই তাঁর গান শেখা। গ্রামের ভজন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পেটের তাগিদে লোকাল ট্রেনে একতারা বাজিয়ে গান গাইতেন এই দৃষ্টিহীন তরুণ।
সুনীলের জীবনের আসল মোড় ঘোরে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। ‘বুন্দেলি দুনিয়া’ নামের একটি পেজের মাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন গান ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। তাঁর গাওয়া ‘দুলা বন কে আ গৈ’ গানটি লক্ষ লক্ষ মানুষ পছন্দ করেন। তবে সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে যখন তাঁর গাওয়া হনুমান ভজন ‘মোর সংকট কে কাটাইয়া’ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায় ২ কোটি ৯০ লক্ষের (২৯ মিলিয়ন) বেশি ভিউ পায়। সেই ভাইরাল ভিডিয়ো থেকেই সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে রাতারাতি পরিচিতি পান তিনি।
সুনীলের এই ভাইরাল হনুমান ভজনটি নজরে আসে চিত্রনির্মাতা ও সঙ্গীত প্রযোজক পঙ্কজ ভিআরকে (Pankaj VRK)-র। পঙ্কজ জানান, তিনি ইউটিউবে গান শোনার সময় সুনীলের স্বাভাবিক ও মেদহীন কণ্ঠস্বরে মুগ্ধ হন। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে তিনি সুনীলের ফোন নম্বর পান।
পঙ্কজের ডাকে সাড়া দিয়ে সুনীল প্রথমে ইন্দোর এবং পরবর্তীতে সোজা স্বপ্নের শহর মুম্বই পাড়ি দেন। সেখানে মুম্বইয়ের বিখ্যাত সাই বাবা স্টুডিওতে সুনীলের গলায় প্রায় ৮টি গান রেকর্ড করা হয়। যার মধ্যে প্রথম গান হিসেবে ‘ম্যায়নে তেরে হি ভরোসে’ সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে বড় পর্দায়।
নিজের এই স্বপ্নের যাত্রা প্রসঙ্গে ২৫ বছরের তরুণ সুনীল লোধি বলেন, “আমি একতারা বাজিয়ে স্টুডিওতে গানটি রেকর্ড করে বাড়ি ফিরে এসেছিলাম। আমি ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি যে আমার গাওয়া এই গানটি কোনও বড় বাজেটের সিনেমায় জায়গা করে নেবে।”
