কালকের অপেক্ষায় হারাচ্ছেন কোটিপতি হওয়ার সুযোগ! কী করবেন?
আসলে যখন বিনিয়োগের কথা ভাবা হয়, তখন অনেকের মাথায় শুধু সুদের হারের অঙ্ক ঘোরে। কিন্তু ফিন্যান্সিয়াল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুদের হারের চেয়েও বড় বিষয় হল ‘সময়’। আপনি আপনার টাকাকে বাড়তে ঠিক কতটা সময় দিচ্ছেন, তার ওপরই নির্ভর করছে আপনার ভবিষ্যৎ তহবিলের চেহারা।

“পরের মাস থেকে পাক্কা সেভিংস শুরু করব”— এই লাইন অনেকেরই খুব প্রিয়। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার এই ‘পরের মাস’ বা ‘পরের বছর’-এর অপেক্ষা আসলে আপনার ভবিষ্যতের কত বড় ক্ষতি করে দিচ্ছে? ফিন্যান্সের ভাষায় একেই বলে ‘ডিলে কস্ট’ (Delay Cost) বা দেরি করার মাশুল। শুনতে সামান্য মনে হলেও, চক্রবৃদ্ধি হারের জন্য এই দেরিটাই শেষে গিয়ে কয়েক লক্ষ, এমনকি কোটির হিসেবে ধরা দেয়।
আসলে যখন বিনিয়োগের কথা ভাবা হয়, তখন অনেকের মাথায় শুধু সুদের হারের অঙ্ক ঘোরে। কিন্তু ফিন্যান্সিয়াল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুদের হারের চেয়েও বড় বিষয় হল ‘সময়’। আপনি আপনার টাকাকে বাড়তে ঠিক কতটা সময় দিচ্ছেন, তার ওপরই নির্ভর করছে আপনার ভবিষ্যৎ তহবিলের চেহারা।
কেন এক বছরের দেরিটাই অনেক বড় ক্ষতি?
চক্রবৃদ্ধি সুদের একটা অদ্ভুত চরিত্র আছে। এটা শুরুর দিকে খুব ধীর গতিতে বাড়লেও শেষের দিকে রকেটের গতিতে ছোটে। একটা সহজ উদাহরণ দিয়ে দেখা যাক। ধরুন, আপনার বয়স এখন ২৫ বছর। আপনি ঠিক করলেন প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা করে একটি এসআইপি (SIP) শুরু করবেন যেখানে গড় বার্ষিক রিটার্ন ১২ শতাংশ। এই ভাবে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত চালিয়ে গেলে আপনার কাছে জমার পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৬.৫ কোটি টাকা।
এখন ধরুন, আপনি ভাবলেন, “ধুস! এই তো জীবন, এ বছরটা একটু ঘুরে নিই, পরের বছর থেকে শুরু করব।” মাত্র ১ বছর দেরি করার ফলে ৬০ বছর বয়সে আপনার তহবিলে থাকবে প্রায় ৫.৮ কোটি টাকা। লক্ষ্য করেছেন? মাত্র ১২ মাসের আলসেমি আপনার ভবিষ্যৎ থেকে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা কমিয়ে দিল! একেই বলে ডিলে কস্ট। দেরিটা যদি ৫ বছরের হয়, তবে সেই ক্ষতির অঙ্কটা গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৩ কোটি টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ, আপনি ৫ বছরে মাত্র ৬ লক্ষ টাকা কম বিনিয়োগ করছেন (১০,০০০ x ৬০ মাস), কিন্তু তার বিনিময়ে হারাচ্ছেন কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।
কেন দেরি করা হয়?
আমাদের মস্তিষ্ক সব সময় বর্তমানের আনন্দকে ভবিষ্যতের স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘প্রেজেন্ট বায়াস’। নতুন ফোন কেনা বা দামী রেস্তোরাঁয় খাওয়ার আনন্দটা সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায়, কিন্তু ৩০ বছর পরের কোটিপতি হওয়ার সুখের গুরুত্ব অনেকেই বুঝতে পারেন না। আপনি ভাবতে ভাবতেই ডিলে কস্ট নিজের কাজ গুছিয়ে নেয়।
বাঁচার উপায় কী?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় অঙ্কের জন্য অপেক্ষা না করে ১০০০ টাকা দিয়েই আজ শুরু করা ভালো। কারণ বিনিয়োগের অঙ্ক পরে বাড়ানো যায়, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া সময় কোনওভাবেই ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। আজ থেকে ৫ বছর পর আপনি যখন ১০,০০০ টাকার বদলে ২০,০০০ টাকা করে জমাতে শুরু করবেন, তখন হয়তো আপনি টাকার পরিমাণ মেলাতে পারবেন, কিন্তু ওই ৫ বছরের কম্পাউন্ডিংয়ের যে বিশাল সুবিধা ছিল, তা আর ফিরে পাবেন না।
সবশেষে বলা ভালো, বিনিয়োগ শুরু করার সেরা সময় ছিল গতকাল। দ্বিতীয় সেরা সময় হল আজ। তাই ‘পরের মাস’ বা ‘পরের বছর’ নয়, নিজের ভবিষ্যতের জন্য সিদ্ধান্তটা এখনই নিয়ে নিন।
