AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

রেখার শরীর জুড়ে হোলির রং, অমিতাভ কাছে টানলেন, দূর থেকে দেখেছিলেন জয়া! তারপর…

রেখা ও অমিতাভের এই চোরাবালি প্রেমের কথা কেবল গসিপ ম্যাগাজিনের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না, তা আঁচ করতে পেরেছিলেন জয়া বচ্চনও। বচ্চন পরিবারের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত জয়া বরাবরই চেয়েছিলেন তাঁর সংসার আগলে রাখতে। বিভিন্ন ফিল্মি পার্টিতে জয়ার শরীরী ভাষা বুঝিয়ে দিত, রেখার উপস্থিতি তিনি মোটেই সহজভাবে নিচ্ছেন না।

রেখার শরীর জুড়ে হোলির রং, অমিতাভ কাছে টানলেন, দূর থেকে দেখেছিলেন জয়া! তারপর...
| Updated on: Mar 02, 2026 | 5:35 PM
Share

বলিউডের ইতিহাসের পাতায় প্রেম, বিরহ আর অপূর্ণতার কথা উঠলে যে নাম দুটি সবার আগে ভিড় করে, তা হল অমিতাভ বচ্চন ও রেখা। তাঁদের রসায়ন যতটা রূপালি পর্দার রঙিন মোড়কে ঢাকা, তার চেয়েও বেশি বাস্তব জীবনের এক অন্তহীন অপেক্ষা আর নিরাশার গল্প। শোনা যায়, অমিতাভের চোখের মায়াতেই নিজের সর্বনাশ দেখেছিলেন রেখা— যে প্রেম ওলটপালট করে দিয়েছিল তাঁর জীবন। অথচ আজ কয়েক দশক পার করেও বচ্চন পরিবারের অন্দরমহলে ‘রেখা’ নামটি আজও এক অলিখিত নিষেধাজ্ঞা।

রেখা ও অমিতাভের এই চোরাবালি প্রেমের কথা কেবল গসিপ ম্যাগাজিনের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল না, তা আঁচ করতে পেরেছিলেন জয়া বচ্চনও। বচ্চন পরিবারের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত জয়া বরাবরই চেয়েছিলেন তাঁর সংসার আগলে রাখতে। বিভিন্ন ফিল্মি পার্টিতে জয়ার শরীরী ভাষা বুঝিয়ে দিত, রেখার উপস্থিতি তিনি মোটেই সহজভাবে নিচ্ছেন না। গুঞ্জন রয়েছে, যখন এই সম্পর্কের কথা সীমানা ছাড়াতে শুরু করে, তখনই জয়া রুখে দাঁড়ান। সরাসরি সংঘাত নয়, বরং নিজের ব্যক্তিত্ব আর অধিকারবোধ দিয়ে তিনি অমিতাভ ও রেখার মাঝে এক কঠিন দেওয়াল তুলে দেন।

কারও পৌষ মাস তো কারও সর্বনাশ— পরিচালক যশ চোপড়া এই আপ্তবাক্যটিকেই যেন সিনেমার চিত্রনাট্যে বুনে নিয়েছিলেন। অমিতাভ, রেখা ও জয়ার বাস্তব জীবনের টানাপোড়েনকে ভিত্তি করেই তৈরি হয় কালজয়ী ছবি ‘সিলসিলা’। ছবির শুটিং ফ্লোরে তখন টানটান উত্তেজনা।

শোনা যায়, আইকনিক গান ‘রং বরষে’-র শুটিং চলাকালীন এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ক্যামেরার সামনে যখন রঙের খেলায় মেতেছিলেন চার তারকা, তখনই নেপথ্যে শুরু হয় আসল নাটক। একটি বিনোদন ম্যাগাজিনের পুরনো প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুটিংয়ের বিরতিতে টিম থেকে কিছুটা দূরে অমিতাভ ও রেখাকে একান্তে কথা বলতে দেখে ফেলেন জয়া। সেই দৃশ্য দেখে জয়া ক্ষুব্ধ হলেও ছবির স্বার্থে তখন নিজেকে সামলে নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই মুহূর্তটিই ছিল সম্পর্কের কফিনে শেষ পেরেক।

‘সিলসিলা’ ছবির পর জয়া স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, রেখার সঙ্গে আর কোনো কাজ করবেন না অমিতাভ। এমনকি ছবির প্রথম স্ক্রিনিংয়েও রেখার উপস্থিতির কারণে জয়া গরহাজির ছিলেন বলে শোনা যায়। যশ চোপড়ার সেই ছবিই হয়ে রইল এই জুটির শেষ কাজ।

বক্স অফিসে ‘সিলসিলা’ ইতিহাস গড়লেও, রেখার জীবনে তা বয়ে এনেছিল একাকীত্বের ঝড়। অমিতাভকে হারিয়ে রেখা আজীবন এক রহস্যময়ী হয়েই রয়ে গেলেন। অন্যদিকে, বচ্চন পরিবারে শান্তি ফিরলেও ‘রেখা’ অধ্যায়টি আজও এক জমাট বাঁধা নিস্তব্ধতা হয়ে রয়ে গিয়েছে।