ধূমপান থেকে শরীরচর্চা—এই ৫ অভ্যাসের বদল কমাবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি, টিপস দিচ্ছে Harvard
Heart Disease Prevention Tips: ২০ বছরের গবেষণার মাধ্যমে জানা গিয়েছে, ধূমপান, শাকসবজি ও ফল কম খাওয়া, কায়িক পরিশ্রম না করা এবং মদ্যপানের মতো ৪টি বদভ্যাস হৃদরোগের জন্য বিশেষভাবে দায়ী। এসব অভ্যাস যে সব মানুষের মধ্যে রয়েছে, তাদের মধ্যে মৃত্যুর সম্ভাবনা ৩৪৯% বেশি।

মানুষের মধ্যে ধারণা ছিল যে, বয়স বাড়লে হৃদরোগের সম্ভাবনাও বাড়ে। কিন্তু সাম্প্রতিকতম ঘটনা তা বলছে না। আজকাল ৫০ পেরোনোর আগেই হার্ট অ্যাটাকে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ৩০-এর কোঠায় পৌঁছেই অনেকে উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, রক্তচাপের মতো সমস্যায় ভুগছেন। আর এই শারীরিক অবস্থাগুলোই হার্টের উপর চাপ বাড়াচ্ছে। কিন্তু এত কম বয়সে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আপনার হার্ট? এরই উত্তর খুঁজে পাওয়া গেল হার্ভাড মেডিক্যাল স্কুলের একটি জার্নালে। ধূমপান থেকে শুরু করে শরীরচর্চার অভাব—কার্ডিওভাস্কুলার রোগের জন্য এমন ৫টি বিষয়কে দায়ী করেছে হার্ভাড।
২০ বছরের গবেষণার মাধ্যমে জানা গিয়েছে, ধূমপান, শাকসবজি ও ফল কম খাওয়া, কায়িক পরিশ্রম না করা এবং মদ্যপানের মতো ৪টি বদভ্যাস হৃদরোগের জন্য বিশেষভাবে দায়ী। এসব অভ্যাস যে সব মানুষের মধ্যে রয়েছে, তাদের মধ্যে মৃত্যুর সম্ভাবনা ৩৪৯% বেশি। এমনকি এসব বদভ্যাসের মধ্যে যে কোনও একটিও যদি আপনার মধ্যে থাকে, সেক্ষেত্রে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় ৮৫% বেশি। একইভাবে, যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, সুষম আহার গ্রহণ করেন, আবার অ্যালকোহলও পান করেন, এমন মহিলাদের মধ্যে হৃদরোগে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ৮৩% কম। হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে গেলে কোন-কোন অভ্যাসে বদল আনতে হবে, সেটাও জানিয়েছে হার্ভাড মেডিক্যাল স্কুল। দেখে নিন…
ধূমপান এড়িয়ে চলুন: ধূমপান আর্টারি ব্লকেজের জন্য দায়ী। এটি হার্ট, ধমনী ও ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে। এমনকি সেকেন্ডহান্ড স্মোকিংও (আপনি ধূমপান করেন না। কিন্তু কেউ যদি ধূমপান করে, তাঁর পাশে বসে সেই ধোঁয়ার মধ্যে আপনি যদি নিঃশ্বাস নেন, তাকে সেকেন্ডহান্ড বা প্যাসিভ স্মোকি বলে।) হৃদরোগের ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে।
শরীরচর্চা: শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা ভীষণ জরুরি। নিয়মিত যোগব্যায়াম করা থেকে শুরু করে কায়িক পরিশ্রম করা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। হার্টের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকিও কমায়। অন্তত দিনে ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করা দরকার।
দেহের ওজন: মানুষের মধ্যে বাড়ছে ওবেসিটির সমস্যা। ওজন বাড়লে কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। আপনি দেহের ওজন যদি বেশি হয়, সেক্ষেত্রে ৫-১০% ওজন কমানোও আপনার জন্য উপকারী। এতে রক্তচাপ ও সুগার লেভেলকে নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
খাদ্যাভ্যাস: রোজের খাদ্যতালিকায়তাজা ফল ও শাকসবজি, দানাশস্য, আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, মশলা ও ভেষজ উপাদান রাখুন। প্রোটিন হিসেবে চিকেন, ডাল, বাদাম, দুগ্ধজাত পণ্য খান। প্রক্রিয়াজাত খাবার, কার্বোহাইড্রেট, রেড মিট, সোডা ও মিষ্টি যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
মদ্যপান এড়িয়ে চলুন: অত্যধিক পরিমাণে মদ্যপান নানা রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। পুরুষদের দিনে ২-১ পেগ ড্রিংক্স করা উচিত। আর মহিলাদের ক্ষেত্রে ১ পেগের বেশি নয়।
