Text Neck Syndrome:অতিরিক্ত মোবাইলের ব্যবহারে বাড়ছে বিপদ, মেরুদণ্ড-ঘাড় বেঁকে যাবে অচিরেই যদি না এখনই সচেতন হন
Lifestyle Disorders: স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই সমস্যা দিনের পর দিন বাড়ছে। এরফলে মাংসপেশীতে খিঁচুনি, ব্যথা এসব লেগে থাকে। হাড় দুর্বল হলে, মেরুদণ্ডে চাপ পড়লে প্রাথমিক ভাবে কাঁধ-ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। প্রথম থেকে যদি এই ব্যথা নিয়ে সতর্ক না থাকেন তাহলে পরবর্তীতে মেরুদণ্ড বেঁকে যাবেই

আজকাল সকলেই মোবাইলে আসক্ত। জন্মের মোটামুটি ৬-৭ মাস পর থেকেই শিশুদের মোবাইলের প্রতি একটা আসক্তি জন্মায়। কোভিডের পর থেকে বড়রাও ভীষণ রকম মোবাইলে বুঁদ। দিনের বেশিরভাগ সময়ে মোবাইল ফোন যতক্ষণ হাতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ঘাড় সামনের দিকে হেলে থাকে। একটানা এভাবে ঘাড় সামনের দিকে ঝুঁকে থাকে বলে মেরুদণ্ড বেঁকে থাকে। এভাবে মেরুদণ্ড সংকুচিত হতে থাকলে এবং একই ভাবে ফোন হাতে বসে থাকলে শরীরের অনেক জায়গায় ব্যথা হতে পারে। এই সমস্যায় এখন সকলেই ভুক্তভোগী। আর এই সিনড্রোমকে বলা হয় ‘টেক্সট নেক সিনড্রোম’। মেরুদণ্ডের জয়েন্টে বার বার এভাবে চাপ পড়তে থাকলে হার্নিয়েটেড ডিস্ক, স্নায়ুর উপর বিশেষ চাপ পড়ে।
সেখান থেকে বাকি অন্য সমস্যা আসে। পিঠের উপরের অংশে তীব্র ব্যথা, ক্র্যাম্প ধরা, কাঁধ শক্ত হয়ে যাওয়া এসব খুবই সাধারণ লক্ষণ। শুধু তাই নয় চাপ পড়ে আমাদের সার্ভিকাল নার্ভের উপরেও। যে কারণে একটা চিনচিনে ব্যথা ঘাড় থেকে শুরু হয়ে হাত, আঙুল পর্যন্ত চলে আসে। অনেক সময় ব্যথা এমনই হয় যে মনে হয় ইলেকট্রিক শক লেগেছে। এই সমস্যা সার্ভিকাল রেডিকুলোপ্যাথি নামে পরিচিত। যাঁরা সারাক্ষণ ঘাড় নামিয়ে একটানা কম্পিউডার, ল্যাপটপে কাজ করেন তাঁদের ক্ষেত্রেও হতে পারে এই সমস্যা।
ঘাড়ের পেশী শক্ত হয়ে যাওয়ার কারণেই ঘাড় একদিকে বেঁকে যায়। মোবাইল নিয়ে বসে থাকার সময় বা ল্যাপটপে কাজ করার সময় আমাদের বসার ভঙ্গীমা একেবারেই ঠিক থাকে না। সেই কারণেই ঘাড়ে চাপ পড়ে সেখান থেকে স্লিপড ডিস্কের সম্ভাবনাও তীব্র হয়। ঘাড়ে ব্যথা হলে সেখান থেকে স্নায়ুর উপর চাপ পড়বেই। সঙ্গে হাতে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, পা মুড়ে বসতে না পারা এগুলোও থাকে। ঘাড় শক্ত হয়ে বেঁকে যাওয়া, কোমর ব্যথার সমস্যা নিয়ে প্রতি মাসে অন্তত ৫০ জন রোগী আসেন চিকিৎসকের কাছে।
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই সমস্যা দিনের পর দিন বাড়ছে। এরফলে মাংসপেশীতে খিঁচুনি, ব্যথা এসব লেগে থাকে। হাড় দুর্বল হলে, মেরুদণ্ডে চাপ পড়লে প্রাথমিক ভাবে কাঁধ-ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। প্রথম থেকে যদি এই ব্যথা নিয়ে সতর্ক না থাকেন তাহলে পরবর্তীতে মেরুদণ্ড বেঁকে যাবেই। স্লিপড ডিস্কের সম্ভাবনাও অনেক বাড়ে।
তাই সব সময় চেষ্টা করুন কাজের ফাঁকে একটু ব্রেক নিতে। একটানা ফোন ব্যবহার করবেন না। দীর্ঘ সময়ের জন্য ঘাড় সামনের দিকে বেঁকিয়ে রাখবেন না।
ল্যাপটপ বা ডেস্কটপে কাজ করলে টানা ২৫ মিনিট কাজ করার পর ৫ মিনিটের ব্রেক নিতে হবে। সেই সঙ্গে ঘাড় ঘোরানো, পেছনের দিকে ঘাড় নিয়ে যাওয়া, ঘাড়ের ব্যায়াম এসব করতে হবে
দীর্ঘক্ষণ হাতে ভারী জিনিস ধরে রাখবেন না। এমনকী পিঠের ব্যাগও খুব বেশি ভারী করবেন না। আজকাল অনেক ফিটনেস ট্র্যাকার অ্যাপ রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলি ব্যবহার করুন
ঘাড়ের ব্যথার জন্য বিভিন্ন থেরাপি হয়, সে সবের সাহায্য নিতে পারেন। এছাড়াও ফিজিওথেরাপি, ম্যাসাজ, হিট থেরাপি এসব নিয়মিত করলে ঘাড়ে ব্যথা হবে না
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য, কোনও ওষুধ বা চিকিৎসা সংক্রান্ত নয়। বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
