Bangladesh Election Results: বাংলাদেশে ভোটের রেজাল্ট বেরতেই বিপদের আশঙ্কা মালদহ-মুর্শিদাবাদে! চিন্তা বাড়ছে কোচবিহারেও
Intelligence Department: এতদিন বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার না থাকায়, কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্তের ওপারের গ্রামগুলিতে ভারত বিরোধী কার্যকলাপকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। তবে এবার নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ করার জন্য সীমান্তবর্তী গ্রামে জামাতের মতো ভারত-বিরোধী মৌলবাদী সংগঠনগুলি নানান কৌশল নিতে পারে বলে একটা উদ্বেগের চিত্র উঠে আসছে।

নয়া দিল্লি: বাংলাদেশে নির্বাচনে জয় নিশ্চিত বিএনপির। ইউনূস জমানার পর জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-র জয়ে স্বস্তি ফিরলেও চিন্তায় রাখল পশ্চিমবঙ্গের ওপারে থাকা বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া আসনগুলি। এই সংসদ আসনগুলি জামাতের দখলে যাওয়ায়, আইএসআই-র হাত ধরে নতুন করে জঙ্গি আঁতুড়ঘর তৈরি হবে না তো মালদহ-মুর্শিদাবাদ-কোচবিহারের ওপারে? এই আশঙ্কাই তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপির জয়জয়কার। জোটসঙ্গীদের নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার আসন পার করে গিয়েছে বিএনপি। পরাজিত এনসিপির সঙ্গে জোট বাঁধা জামায়েত-ই-ইসলামি। তবে অতীতের নির্বাচনের তুলনায় ভালো ফল করেছে জামাত।
সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, রংপুর, রাজশাহীর মত এলাকায় জামাত একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়েছে। আর এই আসনগুলোতে জয়ের পরই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিএসএফ-কে চিন্তা বাড়িয়েছে এই জামায়েত। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী আসনগুলি কট্টরপন্থী রাজনৈতিক দলের হাতে যাওয়ায় আবার অশান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী এই এলাকাগুলি নিয়েই এখন নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে “র” (RAW) , “আইবি” (Intelligence Bureau) বা দেশের অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে।
ইউনূস জমানায় এই সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিই জঙ্গি কার্যকলাপ এবং পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের কার্যক্ষেত্রের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতায় আসায় একচ্ছত্র কাজ করার ক্ষেত্রে কিছুটা ধাক্কা খেলেও এলাকাগুলি নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে জামাতের হাতে থাকায় এখানে নিজেদের কাজ গোপন এবং কৌশলে যে আইএসআই বা তাদের মদতপুষ্টরা চালিয়ে যাবে না, তা নিয়ে একপ্রকার নিশ্চিত গোয়েন্দারা।
এতদিন বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার না থাকায়, কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্তের ওপারের গ্রামগুলিতে ভারত বিরোধী কার্যকলাপকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। তবে এবার নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ করার জন্য সীমান্তবর্তী গ্রামে জামাতের মতো ভারত-বিরোধী মৌলবাদী সংগঠনগুলি নানান কৌশল নিতে পারে বলে একটা উদ্বেগের চিত্র উঠে আসছে।
দেশের সামরিক বাহিনীর ইন্টেলিজেন্স ইতিমধ্যেই ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলি যাতে উপরের আগ্রাসী মৌলবাদী সংগঠন দ্বারা প্রভাবিত না হয়, তার জন্য চোখ কান খোলা রেখেছে। কিন্তু সীমান্তের ওপারে সংসদ আসনগুলি জামাতের প্রার্থীদের হাতে যাওয়ায় সতর্কতা এবং তৎপরতা আরও বাড়ানো হবে বলে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সূত্রে খবর।
বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফল বলছে, সীমান্তবর্তী সংসদগুলির মধ্যে ৭৮ শতাংশ গিয়েছে জামাতের দখলে।বিশেষ করে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, অসমের ধুবড়ির মত এদেশের অংশের ঠিক ওপারে থাকা এলাকাগুলো জামাত বড় ব্যবধানে জিতেছে। যদিও উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশিরভাগ সীমান্তবর্তী অংশের বাংলাদেশের ভূখণ্ডের দিকে থাকা সংসদ গুলি বিএনপি’র দখলে গিয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তকে এক্ষেত্রে আলাদা করেই চিন্তার মধ্যে ফেলে দিল পদ্মার ওপারে থাকা গ্রামগুলি জামাতের হাতে চলে যাওয়ায়।
অসম লাগোয়া অংশ জামাতের দখলে চলে গিয়েছে। আগামী এক-দুই মাসেই এই রাজ্যে এবং অসমে বিধানসভা নির্বাচন। ঠিক তার আগে সীমান্তবর্তী অংশে গ্রামগুলিতে নতুন করে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে, এই আশঙ্কা কিন্তু থাকবে, খবর বিএসএফ সূত্রেও।
