সঞ্জয় গান্ধী থেকে বিজয় রুপাণী-অজিত পওয়ারের আগে যে যে নেতা-মন্ত্রী প্রাণ খুইয়েছেন বিমান দুর্ঘটনায়
Ajit Pawar Death in Plane Crash: আজ সকালে ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। বারামতীতে জনসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন অজিত পওয়ার। সেখানে অবতরণের সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে। জরুরি অবতরণ করার চেষ্টা করা হচ্ছিল বিমানটির, তখন পাহাড়ি এলাকায় আছড়ে পড়ে আগুন ধরে যায় বিমানে।

মুম্বই: বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের (Ajit Pawar)। আজ সকালে মহারাষ্ট্রের বারামতীতে অবতরণের সময় প্রাইভেট চার্টার্ড বিমানটি ভেঙে পড়ে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশনের (DGCA) তরফে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় অজিত পওয়ার সহ বিমানে থাকা পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
আজ সকালে ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। বারামতীতে জনসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন অজিত পওয়ার। সেখানে অবতরণের সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে। জরুরি অবতরণ করার চেষ্টা করা হচ্ছিল বিমানটির, তখন পাহাড়ি এলাকায় আছড়ে পড়ে আগুন ধরে যায় বিমানে।
এই প্রথম নয়, এর আগে বিভিন্ন বিমান দুর্ঘটনায় একাধিক রাজনৈতিকবিদের মৃত্যু হয়েছে।
বিজয় রুপাণী-
২০২৫ সালে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমান আহমেদাবাদ থেকে রওনা দেওয়ার কয়েক সেকেন্ড পরই ভেঙে পড়ে। বিমান দুর্ঘটনায় ২৪১ জনেরই মৃত্যু হয়। ওই বিমানে ছিলেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপাণী।
দোরজি খাণ্ডু-
২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী দোরজি খাণ্ডুর বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়। চিন সীমান্তের কাছেই এক প্রত্যন্ত এলাকায় পবন হান্স হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার পাঁচদিন পর ওই কপ্টারের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।
ওয়াইএস রাজাশেখর রেড্ডি-
অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএস রাজাশেখর, যিনি ওয়াইএসআর নামে পরিচিত, তাঁরও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়। ২০০৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর নাল্লামালা হিলসে হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ে। পরেরদিন তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।
ওপি জিন্দল ও সুরিন্দর সিং-
শিল্পপতি তথা হরিয়ানার শক্তিমন্ত্রী ওপি জিন্দল ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তথা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শঙ্কর দয়াল শর্মার ছেলে সুরিন্দর সিং একসঙ্গে হেলিকপ্টারে যাচ্ছিলেন। ২০০৫ সালে ৩১ মার্চ উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে ওই কপ্টার ভেঙে পড়ে দুইজনেরই মৃত্যু হয়।
সাইপ্রিয়ান সাঙ্গমা-
২০০৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মেঘালয়ের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী সাইপ্রিয়ান সাঙ্গমা সহ ১০ জনের মৃত্যু হয় বিমান দুর্ঘটনায়। গুয়াহাটি থেকে পবন হান্স হেলিকপ্টারে তাঁরা শিলংয়ে যাচ্ছিলেন, বারাপানি লেকের কাছে কপ্টারটি ভেঙে পড়ে।
জিএমসি বালাযোগী-
লোকসভার স্পিকার তথা টিডিপি নেতা জিএমসি বালাযোগীর মৃত্যু হয় ২০০২ সালের ৩ মার্চ। মাঝ আকাশে যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে অন্ধ্র প্রদেশের পশ্চিম গোদাবরী জেলায় তাঁর কপ্টার ভেঙে পড়ে।
মাধবরাও সিন্ধিয়া-
কংগ্রেস নেতা তথা গোয়ালিয়রের রাজপরিবারের সদস্য মাধবরাও সিন্ধিয়ার মৃত্যুও হয় বিমান দুর্ঘটনায়। ২০০১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কানপুরে জনসভায় যাচ্ছিলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার বাবা, মাঝপথেই উত্তর প্রদেশের মৈনপুরী জেলায় তাঁর চার্টার্ড বিমান ভেঙে পড়ে। বিমানে থাকা সকলেরই মৃত্যু হয়।
সঞ্জয় গান্ধী-
দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ছেলে সঞ্জয় গান্ধীর মাত্র ৩৩ বছর বয়সে মৃত্য়ু হয়। ১৯৮০ সালের ২৩ জুন বিমান দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান। দিল্লির সফদরজং বিমানবন্দরের কাছে টেস্ট ফ্লাইটের সময় বিমান ভেঙে মৃত্যু হয় সঞ্জয় গান্ধীর।
গুরনাম সিং-
১৯৭৩ সালের ৩১ মে পঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গুরনাম সিংয়ের মৃত্যু হয় বিমান দুর্ঘটনায়।
বালওয়ানত্রি মেহতা-
গুজরাটের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বালওয়ানত্রি মেহতা। ১৯৬৫ সালে ইন্দো-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি এয়ারফোর্স জেট ভুলবশত যাত্রীবাহী বিমান ধ্বংস করে দেয়। ওই বিমানে ছিলেন বালওয়ানত্রি মেহতা।
