BJP Strategy: হাট করে খোলা হচ্ছে দরজা! ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ এবার আরও বড় স্ট্র্যাটেজি বিজেপির
BJP West Bengal: এই মুহূর্তে আঞ্চলিক দলগুলোর হাতে যে সাংসদ সংখ্যা আছে, তা নেহাত কম নয়। অন্যদিকে, দীর্ঘ ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর একটা প্রকিষ্ঠান-বিরোধিতা তৈরি হচ্ছে। এই আবহে কোনও শরিক বা সমর্থক দলের উপর ভরসা নয়, সরাসরি বিজেপির শক্তি বৃদ্ধি করাই লক্ষ্য। জমি ধরে রাখতে তাই কোনও ছুঁতমার্গ রাখতে চায় না বিজেপি।

নয়া দিল্লি: দরজা খোলা হয়েছে আগেই। দলের অন্দরে কর্মীদের বিক্ষোভের আঁচ দেখা দিলেও, তিন সাংসদকে দলে গ্রহণ করে বিজেপি (BJP)। একদিকে এনসিপিআই-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, সংখ্যালঘু সাংসদরা বিজেপিতে যাবেন কীভাবে, তা নিয়ে যখন তুমুল আলোচনা চলছে, তখন সামনে আসছে বিজেপির আরও বড় কৌশল। আগামিদিনে দরজা হাট করে খোলা হবে? তৃণমূলকে (Trinamool Congress) দুর্বল করতে সব ছুঁতমার্গ ছুড়ে ফেলে দেবে গেরুয়া শিবির? এমন জল্পনাই তৈরি হয়েছে।
কী বিজেপির ‘প্ল্যান বি’?
সুস্মিতা দেব, সুখেন্দু শেখর, প্রকাশ চিক বরাইককে দলে নেওয়ার পর রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, ‘এটা ব্যতিক্রমী ঘটনা। কোনও বিচ্যুতি নয়।’ দলে কাউকে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিজেপির নীতি যে আগের মতোই আছে, তা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনের পর যে ‘ভাল তৃণমূলে’র তত্ত্ব তাঁর মুখে শোনা গিয়েছিল, সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছিলেন শমীক। তবে সূত্রের খবর, এবার তৃণমূলের সব স্তর থেকেই বিজেপিতে যোগদানের বহর বাড়বে। জানা যাচ্ছে, এটাই বিজেপির ‘প্ল্যান বি’।
আরও জানা যাচ্ছে যে বিজেপির এই ‘অপারেশনে’ লঞ্চপ্যাড হতে চলেছে ঋতব্রত-তৃণমূল ও এনসিপিআই। সরাসরি বিজেপিতে নেওয়ার ক্ষেত্রে যে আপত্তি দলের অন্দরে তৈরি হয়েছিল, তা একরকম পাশ কাটিয়েই আঞ্চলিক দল তৃণমূলকে আরও দুর্বল করতে চায় বিজেপি।
কেন এই কৌশল?
প্রশ্ন উঠেছে, দলের অন্দরে এত বিদ্রোহ হওয়া সত্ত্বেও কেন তৃণমূল নেতাদের সরাসরি বিজেপি নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে? এ ক্ষেত্রে আসন-অঙ্কের হিসেবই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এই মুহূর্তে আঞ্চলিক দলগুলোর হাতে যে সাংসদ সংখ্যা আছে, তা নেহাত কম নয়। অন্যদিকে, দীর্ঘ ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর একটা প্রকিষ্ঠান-বিরোধিতা তৈরি হচ্ছে। এই আবহে কোনও শরিক বা সমর্থক দলের উপর ভরসা নয়, সরাসরি বিজেপির শক্তি বৃদ্ধি করাই লক্ষ্য। জমি ধরে রাখতে তাই কোনও ছুঁতমার্গ রাখতে চায় না বিজেপি।
বৃহত্তর স্বার্থে সিদ্ধান্ত?
বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রাক্তন রাজ্য় সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “দেশের স্বার্থে মহিলা সংরক্ষণ বেশি জরুরি। তাই ক্ষুদ্র স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিতে হবে। এতে দলের কিছুটা ক্ষতি হবে। কেউ কেউ বিক্ষুব্ধ হবে। কিন্তু দেশ আগে, তারপর দল।”
কর্মীদের কীভাবে সামাল দেবে বিজেপি?
যে কর্মীরা এতদিন ধরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, দিনের পর দিন অনেক প্রতিকূলতার মুখেও তৃণমূল-বিরোধিতায় অনড় থেকেছে, তারা কেন মানবে? দুর্নীতির দাগ আছে, এমন কোনও নেতা বিজেপিতে এলে কর্মীরা কি প্রতিক্রিয়া দেবে না? এই প্রশ্ন যখন সঙ্গতভাবেই উঠতে শুরু করেছে, তখন বিজেপির বক্তব্য, দলে কেউ যোগ দিলে, তাঁর উপর শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি কড়া নজর রাখবে।
