Adhir Chaudhury: ‘চুক্তি হয়ে গিয়েছে, মোদীর সবচেয়ে বড় দালাল মমতাই’, তীব্র কটাক্ষ অধীরের

Mamata Banerjee: "সেই চু্ক্তিতে বলা হয়েছে বাংলাটা মমতার আর দিল্লিটা নরেন্দ্র মোদীর", তোপ অধীরের

Adhir Chaudhury: 'চুক্তি হয়ে গিয়েছে, মোদীর সবচেয়ে বড় দালাল মমতাই', তীব্র কটাক্ষ অধীরের
'মমতাই বড় দালাল', তোপ অধীরের ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: বিজেপিকে প্রতিহত করতে কেন বারবার কংগ্রেসকে আক্রমণ? কেনই বা বিজেপি প্রতিরোধে ‘দ্বিমুখী নীতি’তে উত্‍সাহী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Mamata Banerjee)। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে যখন ক্রমেই ‘কাছাকাছি’ আসার চেষ্টায় অ-বিজেপি রাজনৈতিক দলগুলি, তখন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে ‘মোদীর দালাল’ বলে তীব্র কটাক্ষ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী (Adhir Ranjan Chaudhury)।

অধীর স্পষ্টই বলেন, ” মোদী আর মমতার মধ্য়ে আগেই চুক্তি হয়ে গিয়েছে। সেই চু্ক্তিতে বলা হয়েছে বাংলাটা মমতার আর দিল্লিটা নরেন্দ্র মোদীর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের ম্যাডাম সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করলেন। কিন্তু, গত ৬ সেপ্টেম্বর ইডির সমন পাঠানোর পরেই সুর বদলে গেল। অভিষেক কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বলতে শুরু করলেন। কারণ, বিজেপির হুমকি। আর মোদী জানেন বিরোধীরা একজোট হলে বিজেপির ক্ষমতায় থাকা মুশকিল। নিজের দলের চোর-ডাকাতকে বাঁচাতে মমতাও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বলছেন। বিজেপি সেটাই চায়। সেইজন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির সবচেয়ে বড় দালাল।”

এখানেই থামেননি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তিনি আরও বলেন, “নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি  সরকারকে প্রতিহত করতে প্রয়োজন  বিরোধী জোট। সারা দেশে ৬৩ শতাংশ ভোট বিজেপির বিরুদ্ধে। এই ৬৩ শতাংশের মধ্যে ২০ শতাংশ ভোটই কংগ্রেসের। ৪ শতাংশ বাংলার। সেই ৪ শতাংশের পুরোটাই তৃণমূলের। এখন কংগ্রেসকে প্রচার করতে না দিয়ে আটকে রেখে বিজেপিকে তো ঠেকানো যাবে না। মমতা একদিকে বিজেপি বিরোধী জোটের কথা বলছেন অন্যদিকে কংগ্রেসকে আক্রমণ করা হলে তা নিয়ে কিছু বলছেন না। এতে লাভ হচ্ছে বিজেপির।”

বিরোধের শুরু গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফালেইরো তৃণমূলে যোগদান থেকে। সেখানে খোদ প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা ফালেইরো বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস, ওয়াইএসআর কংগ্রেস, শরদ পাওয়ার কংগ্রেস, আমি চাই কংগ্রেস পরিবার একত্রিত হোক। আমার লক্ষ্য বিজেপিকে হারানো। কংগ্রেস হাত গুটিয়ে বসে থাকলে আমরা চুপ করে থাকতে পারি না। তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির সামনে মাথানত করবে না।”

এরপরেই, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় কংগ্রেসের প্রতি কটাক্ষ হেনে বলেন, “শুধু বসে বসে টুইট করলেই হয় না। রাস্তায় নামতে হয়।” পরবরর্তীতে অভিষেক আরও বলেন, ” কংগ্রেস-সিপিএম এখন শূন্য, আপনি কাদের ভোট দিচ্ছেন? সিপিএম-কংগ্রেসের চেয়ে নোটা অনেক ভাল!”

বাংলার একুশের ভোটে লড়া সংযুক্ত মোর্চাকে ব্যঙ্গ করে তৃণমূল সাংসদের মন্তব্য়, “কংগ্রেস কখনও সিপিএমের সঙ্গে জোট করেছে, কখনও আইএসএফের সঙ্গে জোট করেছে! ৭ বছর ধরে বিজেপির কাছে হারছে কংগ্রেস। এদিকে ৭ বছর ধরে বিজেপিকে হারাচ্ছে তৃণমূল।”

তিনি আরও যোগ করেন, “কংগ্রেস বিজেপির কাছে শুধু হারছে। কংগ্রেস-বামকে ভোট দেওয়া মানে ভোট নষ্ট। কংগ্রেস আর তৃণমূলের পার্থক্য হল, কংগ্রেস ৭ বছর ধরে বিজেপির কাছে হারছে। আর তৃণমূল ৭ বছর ধরে বিজেপিকে হারাচ্ছে।” অভিষেক বলেন, “আগামী তিন মাসের মধ্যে আরও পাঁচটা রাজ্যে ঢুকব। আমরা সেখানে ঢুকে তৃণমূলকে প্রতিষ্ঠা করব।” বলেন, “এই ভোট ভারতবর্ষের জন্য। সবাই তাকিয়ে আছে তৃণমূলের ফলের দিকে। ওরা (কংগ্রেস) আদর্শ বিকিয়েছে। আদর্শহীন দলকে ক্ষমা করা যায় না।”

শুধু অভিষেকই নন, তাঁর সুরে সুর মিলিয়েছিলেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী ববি হাকিমও। বঙ্গে কংগ্রেসের উপস্থিতি এখন তলানিতে  গিয়েই ঠেকেছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোটে আস্থা রাখতে পারেনি মানুষ। শূন্য হাতেই ফিরতে হয়েছে তাদের। খোদ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর ‘নিজ গড়’ মুর্শিদাবাদেও উপচে পড়েছে সবুজের ভিড়। মালদার ছবিটাও একই। এই পরিস্থিতিতে বাম-কংগ্রেসের ‘ভবিষ্যত্‍’ নিয়ে সন্দিহান খোদ দলের নেতারাই। জাতীয় স্তরেও ‘ঐক্যবদ্ধ’ কংগ্রেসের ছবি কার্যত মলিন বললেই চলে।

কংগ্রেসের অন্দরের যে বিভেদ তা বজায় রয়েছে এখনও বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। যদিও, আগামী এক বছর কংগ্রেসের রাশ থাকবে সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) হাতেই। সদ্যই কংগ্রেসের কর্মসমিতির (Working committee) বৈঠকে এ কথাই  জানিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী। দলের অন্দরের কোন্দল মেটাতেই এই সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।

আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: উত্তরবঙ্গ সফর শেষেই গোয়ায় পাড়ি মুখ্যমন্ত্রীর, সাগরপারে ঘর গোছাতে ব্যস্ত তৃণমূল

 

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla