
ভুজ: বিজয়া দশমীতে পাকিস্তানকে হুঙ্কার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের (Rajnath Singh)। পাকিস্তানের ইতিহাস-ভূগোল বদলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি। দশমীতে শস্ত্র পুজো সেরেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী বললেন, “স্যর ক্রিক এলাকায় যদি তারা সামরিক পরিকাঠামো বাড়ায়, তাহলে এমন মোক্ষম জবাব দেওয়া হবে যে পাকিস্তানের ইতিহাস ও ভূগোল বদলে যেতে পারে।”
বিজয়া দশমীতে ভূজ মিলিটারি বেসে হাজির হয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেখানে সমস্ত অস্ত্রশস্ত্রের পুজো করা হয়। দেখা যায় এল-৭০ এয়ার ডিফেন্স গানের পুজো করা হচ্ছে, যা অপারেশন সিঁদুরের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল। এরপর তিনি কচ্ছের রানে স্যর ক্রিক লাইনের কাছে পরিদর্শনে যান এবং সেখানে মোতায়েন সেনাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন পাকিস্তানের হুমকির বিরুদ্ধে লড়ার জন্য, তাদের সাহসিকতা ও বীরত্বের জন্য।
রাজনাথ সিং বলেন, “স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরও স্যর ক্রিক এলাকায় সীমান্তে সমস্যা মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারত একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্য়া সমাধানের চেষ্টা করেছে, কিন্তু পাকিস্তানের উদ্দেশ্যই স্পষ্ট নয়। যেভাবে পাকিস্তান সেনা পরিকাঠামো বৃদ্ধি করেছে স্যর ক্রিকে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতীয় সেনা ও বিএসএফ আমাদের সীমান্ত সর্বদা রক্ষা করছে। যদি পাকিস্তানের দিক থেকে স্যর ক্রিক এলাকায় কোনও দুঃসাহস দেখায়, তাহলে এমন জবাব দেওয়া হবে যে ইতিহাস ও ভূগোল বদলে যাবে। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে ভারতীয় সেনা লাহোর অবধি পৌঁছনোর ক্ষমতা দেখিয়েছিল, ২০২৫-এ দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের মনে রাখা উচিত যে করাচি যাওয়ার একটা রুট স্যর ক্রিক হয়েই যায়।”
উল্লেখ্য, স্যর ক্রিক হল ভারত-পাকিস্তানের মাঝে ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি জলপথ, যা গুজরাটের কচ্ছ ও পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের মধ্যে অবস্থিত। আগে এর নাম ছিল বন-গঙ্গা। ব্রিটিশরা এর নাম দেয় স্যর ক্রিক। ভারতের দাবি, এই অংশের সীমানা ঠিক মাঝ বরাবর হওয়া উচিত। পাকিস্তান চায়, সীমানা হোক পূর্ব পাড়ে, ভারতের গা ঘেঁষে। আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের রায়ও মানেনি পাকিস্তান।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন যে অপারেশন সিঁদুরের সময় পাক সেনা এই অংশে পৌঁছনোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়। তিনি বলেন, “অপারেশন সিঁদুরের সময়, পাকিস্তান লেহ থেকে স্যর ক্রিক পর্যন্ত ভারতের প্রতিরক্ষা সিস্টেম ভাঙার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। ভারতের সেনাবাহিনী পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের পর্দাফাঁস করে দেয় এবং গোটা বিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেয় যে আজকের ভারতীয় সেনা যখন ইচ্ছে, যেভাবে খুশি পাকিস্তানের চরম ক্ষতি করতে পারে।”