AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Chicken’s Neck: শত্রুদের নজর এঁটে চিকেনস নেকে, এবার সেখানেই মাটির নীচ থেকে ছুটবে ট্রেন! কেন্দ্রের বড় প্ল্যান

Indian Railways: ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, "উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশকে সংযুক্ত করা করিডর নিয়ে বিশেষ প্ল্যানিং রয়েছে। আন্ডারগ্রাউন্ড রেলওয়ে ট্র্যাক বসানো হবে। পাশাপাশি যে ট্র্যাক রয়েছে, সেটিকে চার লাইনের করা হবে।"

Chicken's Neck: শত্রুদের নজর এঁটে চিকেনস নেকে, এবার সেখানেই মাটির নীচ থেকে ছুটবে ট্রেন! কেন্দ্রের বড় প্ল্যান
ফাইল চিত্রImage Credit: X
| Updated on: Feb 09, 2026 | 9:19 AM
Share

শিলিগুড়ি: বহু বছর ধরে উন্নয়নের জোয়ার থেকে বাদ পড়েছিল উত্তর-পূর্ব ভারত। তবে বিগত কয়েক বছরে সেই ছবিটা আমূল বদলে গিয়েছে। উত্তর-পূর্বে একদিকে যেমন একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে, তেমনই অবস্থানগত দিক থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে শিলিগুড়ির চিকেনস নেক করিডর। এই চিকেনস নেকে নজর রয়েছে চিনের, বদলানো সম্পর্কের জেরে এখন নজর পড়েছে বাংলাদেশেরও। এই আবহেই বড় সিদ্ধান্ত রেলের। চিকেনস নেকের প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথে আন্ডার গ্রাউন্ড বা ভূগর্ভস্থ রেল ট্র্যাক বসানোর পরিকল্পনা করছে ভারতীয় রেলওয়ে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজেই এই কথা জানিয়েছেন।

নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের তরফে এই রেলপথ তৈরি করা হবে। তিনমিলে হাট থেকে রাঙাপানি এবং পরে তা সম্প্রসারিত করা হবে বাগডোগরা পর্যন্ত। দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর হয়ে বিহারের কিষাণগঞ্জের উপর দিয়ে যাবে এই রেলপথ।

এই নিয়ে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, “উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বাকি অংশকে সংযুক্ত করা করিডর নিয়ে বিশেষ প্ল্যানিং রয়েছে। আন্ডারগ্রাউন্ড রেলওয়ে ট্র্যাক বসানো হবে। পাশাপাশি যে ট্র্যাক রয়েছে, সেটিকে চার লাইনের করা হবে।”

জানা গিয়েছে, দার্জিলিংয়ের তিন মিলে হাট থেকে রাঙাপানি পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ রেলপথ তৈরি করা হবে। কেন এই দুই স্টেশনকে বাছাই করা হয়েছে, সেটাও ব্যাখ্যা করেছেন রেলমন্ত্রী। তিন মিলে হাট দার্জিলিং জেলায় অবস্থিত। শিলিগুড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্ব এর। আবার বাংলাদেশের পঞ্চগড় থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৬৮ কিলোমিটার।

এবার চিকেনস নেকে নজরদারি ও নিরাপত্তা বাড়াতে এই রেলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। চিকেনস নেক দিয়েই উত্তর পূর্ব ভারতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা যায়। সামরিক অস্ত্রশস্ত্র থেকে জ্বালানি- সবই এই রুট দিয়েই পাঠানো হয়। চিকেনস নেকের দক্ষিণে রয়েছে বাংলাদেশ, পশ্চিমে রয়েছে নেপাল এবং উত্তরে রয়েছে চিনের চুম্বি ভ্যালি। এই চিকেনস নেকে সামান্য বিপত্তি হলেও, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশও বিপদের মুখে পড়বে।

এবার রেলপথই কেন তৈরি করছে কেন্দ্র? কারণ মালপত্র বহন বা কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে রেলপথই সবথেকে দ্রুত ও সাশ্রয়ী মাধ্যম। যেমন একটি ফ্রেইট ট্রেনে ৩০০টি ট্রাকের সমান পণ্য পরিবহন সম্ভব। চিকেনস নেকে যা কিছু পরিকাঠামো আছে, সবই মাটির উপরে। এখানে হামলা হলে বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। সেখানেই মাটির নীচে সুড়ঙ্গ হলে এই সব বিপদ এড়ানো সম্ভব।

প্রতিরক্ষা এক্সপার্ট সন্দীপ উন্নিথান ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আন্ডারগ্রাউন্ড রেলপথ একে আকাশপথে হামলা বা ড্রোন কিংবা মিসাইলের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেবে। যুদ্ধ বাধলে, আন্ডারগ্রাউন্ড করিডর সেনার চলাচল এবং জ্বালানি ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহনে সাহায্য করবে।  পাশাপাশি বাগডোগরায় বায়ুসেনার ঘাঁটি এবং বেঙডুবিতে ভারতীয় সেনার ৩৩ কর্পসের ক্যান্টনমেন্টের সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন হবে।

প্রস্তাবিত রেল রুটে দমদাঙ্গি থেকে বাগডোগরা পর্যন্ত ৩৫.৭৬ কিলোমিটার এবং দমদাঙ্গি থেকে রাঙাপানি পর্যন্ত ৩৩.৪০ কিলোমিটার রেলপথ তৈরি হবে। এই রেলপথে ২৫ কিলোভোল্টের দুটি এসি ইলেকট্রিফিকেশন সিস্টেম, অটোমেটিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা থাকবে। মাটির নীচে দুটি সুড়ঙ্গ তৈরি করা হবে টানেল বোরিং মেশিন দিয়ে।