IIT Delhi: পড়ুয়ার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ, বহিরাগত তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত আইআইটি দিল্লির
IIT Delhi Student Rishikesh Kumar Death: আইআইটি দিল্লি জানিয়েছে, পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের তরফে অনুমোদিত একাধিক কাউন্সেলরের পরিষেবা দেওয়া হয় এবং তাঁদের চিকিৎসার খরচ আইআইটি বহন করে। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাসে রয়েছেন ১৫ জন কাউন্সেলর, একজন পূর্ণ সময়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং দু’জন পার্ট টাইম মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।

নয়াদিল্লি: আইআইটি দিল্লির এমএসসি পড়ুয়া ঋষিকেশ কুমারের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করল প্রতিষ্ঠান। তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আইআইটি দিল্লি জানিয়েছে, এই কঠিন সময়ে তাঁরা পরিবারের পাশে রয়েছে। ঋষিকেশের অকালমৃত্যুতে গত ২৪ অগস্ট একটি শোকসভারও আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষক, পড়ুয়া ও কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তাঁর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইআইটি দিল্লি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আইআইটি দিল্লিতে ভর্তি হন ঋষিকেশ। তিনি ক্যাম্পাসের একটি হস্টেলে থাকতেন। পড়াশোনাতেও যথেষ্ট মেধাবী ছিলেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের হোলি উৎসবের কয়েক দিন পর ঋষিকেশের কয়েকজন সহপাঠী তাঁর শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিষয়টি জানতে পেরেই তাঁকে প্রতিষ্ঠানের অ্যাম্বুল্যান্সে করে আইআইটি দিল্লি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন প্রতিষ্ঠানের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়। পরে তাঁর পরিবার তাঁকে একটি স্পেশাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
এরপর প্রায় এক মাস ওই হাসপাতালে চিকিৎসা হয় ঋষিকেশের। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত দ্বিতীয় সেমেস্টার থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। আইআইটি দিল্লি সেই আবেদন মঞ্জুর করে।
জুলাই মাসে ফের তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করা হয়। তখন চিকিৎসকদের পরামর্শ ছিল, তাঁকে বাবা-মায়ের তত্ত্বাবধানে রাখা প্রয়োজন। জুলাই ও অগস্ট মাসেও আইআইটি-র কাউন্সেলর ও চিকিৎসকের মাধ্যমে তাঁকে কাউন্সেলিং এবং চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এরপর জুলাই থেকে নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত তৃতীয় সেমেস্টার থেকেও অব্যাহতি চেয়ে তাঁর আবেদন মঞ্জুর করে প্রতিষ্ঠান।
আইআইটি দিল্লি জানিয়েছে, পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের তরফে অনুমোদিত একাধিক কাউন্সেলরের পরিষেবা দেওয়া হয় এবং তাঁদের চিকিৎসার খরচ আইআইটি বহন করে। এর পাশাপাশি ক্যাম্পাসে রয়েছেন ১৫ জন কাউন্সেলর, একজন পূর্ণ সময়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং দু’জন পার্ট টাইম মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তাঁদের মধ্যে একজন এইমস এবং অন্যজন ভিমহ্যান্সের সঙ্গে যুক্ত। পড়ুয়াদের চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় খরচও প্রতিষ্ঠানই বহন করে।
তবে এমন মর্মান্তিক ঘটনার ক্ষেত্রে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন বহিরাগত তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইআইটি দিল্লি। এই কমিটি ঘটনার পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পড়ুয়াদের সহায়তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, তাও চিহ্নিত করবে। এছাড়াও, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার মাধ্যমে যেসব পড়ুয়ার অভিযোগের সমাধান হচ্ছে না, সেগুলি খতিয়ে দেখতে একজন বহিরাগত ওম্বাডসপার্সন নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।
পড়ুয়াদেরও নিজেদের সমস্যা, উদ্বেগ ও পরামর্শ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে আইআইটি দিল্লি। প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, পড়ুয়াদের আরও নিরাপদ, সংবেদনশীল এবং সহায়ক পরিবেশ দেওয়ার জন্য ব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নতি করা হবে।
আইআইটি দিল্লি জানিয়েছে, পড়ুয়াদের কল্যাণ ও মানসিক সুস্থতা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পড়ুয়াদের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে তাঁদের শিক্ষাগত ভবিষ্যৎ ও মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ধারাবাহিক এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। তাঁদের শিক্ষাজীবনের প্রতিটি পর্যায়ে যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও যত্ন পান, তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও সমস্ত ধরনের ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
