Independence Day: লালকেল্লায় বদলাচ্ছে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান! এই প্রথম গাওয়া হবে বন্দে মাতরম, বিশেষ গুরুত্ব যুবশক্তিকে
Independence Day 2026 celebration in Red Fort: লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান এতদিন একটি নির্দিষ্ট ক্রম মেনে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে আসেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয় এবং এরপর প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। বন্দে মাতরম-কে এই অনুষ্ঠানে আগে গাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও আইনি নিষেধ ছিল না।

নয়া দিল্লি: লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বদল। দীর্ঘদিনের চিরাচরিত প্রথায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। স্বাধীনতা দিবসের (Independence Day) অনুষ্ঠানের প্রথমে এবার আর জাতীয় সঙ্গীত (National Anthem) গাওয়া হবে না। গত বছরেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) ভাষণের আগে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার নিয়ম রয়েছে। এবার সেই নিয়মেই বদল ঘটছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে ইতিমধ্যেই এই নতুন অনুষ্ঠানের ক্রম ঘোষণা করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, এবার লালকেল্লায় ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রথমেই গাওয়া হবে বন্দেমাতরম (Vande Mataram)। তারপরই জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হবে। জানা গিয়েছে, লালকেল্লার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়েছেন অতিথি, বিশিষ্ট ব্যক্তি, পড়ুয়া-সহ ২৭ হাজারেরও বেশি মানুষ।
কেন প্রথমে গাওয়া হবে বন্দে মাতরম?
আগে ‘বন্দে মাতরম’ এবং পরে ‘জনগণমন’ … এই নতুন ক্রম নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। উত্তর লুকিয়ে রয়েছে ভারতের দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশাত্মবোধক গানের ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক অবস্থানের পার্থক্যে।
ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি গণপরিষদ এটিকে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করে। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলিতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রোটোকল রয়েছে।
অন্যদিকে, ‘বন্দে মাতরম’ লিখেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।বিপ্লবী, কংগ্রেস কর্মী, পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ…স্বাধীনতা সংগ্রামে বহু মানুষ এই গানকে মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। ১৯৫০ সালে ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
কেন আগে গাওয়া হত না?
লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান এতদিন একটি নির্দিষ্ট ক্রম মেনে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে আসেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয় এবং এরপর প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। বন্দে মাতরম-কে এই অনুষ্ঠানে আগে গাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও আইনি নিষেধ ছিল না। তবে এতদিন এটি প্রথাগত অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট ক্রমের অংশ ছিল না। এবার সেই ক্রমেই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
যুবশক্তি
২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আরও একটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। এ বছর স্বাধীনতার ৮০ বছরের পূর্তি। লালকেল্লার অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা হিসেবে রাখা হয়েছে ‘যুব শক্তি’। সরকারের উদ্দেশ্য, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসকে আরও গভীরভাবে যুক্ত করা।
