LPG আমদানিতে খরচ সামলাতে বিকল্প দেশ খুঁজছে ভারত, নজর পশ্চিম আফ্রিকার উপর
India LPG Crisis : ইরান ও রাশিয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকেও এলপিজি আমদানি শুরু করেছে ভারত। কিন্তু, তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে ভারতের জন্য। এরই মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলি থেকে এলপিজি আমদানি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। সূত্রের খবর, নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া এবং আঙ্গোলা-সহ একাধিক দেশ থেকে এলপিজি আমদানি বাড়াতে চলেছে নয়া দিল্লি। এছাড়াও ক্যামেরুন, মোজাম্বিক, গিনিয়া থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।

নয়াদিল্লি : উভয় সঙ্কটে ভারত। একদিকে অবরুদ্ধ হরমুজ। ইরান ছাড় দিলেও এখনও ভারতদের ১৮টি জাহাজ আটকে রয়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকা, রাশিয়া, কানাডা, নরওয়ে থেকে এলপিজি আমদানি করতে বিপুল পরিমাণ পরিবহন খরচের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ভারতকে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম আফ্রিকার থেকে এলপিজি আমদানির উপর জোর দিচ্ছে ভারত।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে তেল ও গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ভারতেও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে,পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে। পদক্ষেপ হিসেবে ইরান ও রাশিয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকেও এলপিজি আমদানি শুরু করেছে ভারত। কিন্তু, তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে ভারতের জন্য। এরই মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলি থেকে এলপিজি আমদানি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। সূত্রের খবর, নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া এবং আঙ্গোলা-সহ একাধিক দেশ থেকে এলপিজি আমদানি বাড়াতে চলেছে নয়া দিল্লি। এছাড়াও ক্যামেরুন, মোজাম্বিক, গিনিয়া থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।
এদিকে, হরমুজ় প্রণালীতে এখনও আটকে রয়েছে ১৮টি ভারতীয় জাহাজ। পাশাপাশি, ভারতীয় উপকূলে আসার জন্য হরমুজ প্রণালী এবং সংলগ্ন জলপথে মোট দশটি বিদেশি জাহাজ আটকে রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি জাহাজে রয়েছে এলপিজি। চারটি জাহাজে রয়েছে অপরিশোধিত তেল। আর বাকি তিনটি জাহাজে রয়েছে এলএনজি। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে নতুন করে একটিও খালি জাহাজ ভারত থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ফেরত পাঠানো যায়নি।
এই সঙ্কটের পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশকে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৭০০০ টন ডিজেল দিয়েছে ভারত। অসমের নিউমালিগড় তৈল শোধনাগার থেকে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপ লাইনের মাধ্যমে ঢাকায় ডিজেল পাঠানো হয়েছে। কয়েকদিন আগে ভারতের কাছে ডিজেল চেয়ে আবেদন করেছিল বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা। সূত্রের খবর, এপ্রিল মাসে অসমের নিউমালিগড় তৈল শোধনাগার থেকে মোট ৪০ হাজার টন ডিজেল পাঠানো হবে বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপোয়। বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কাকেও ৩৮ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল পাঠিয়েছে ভারত। তার মধ্যে পেট্রোল পাঠানো হয়েছে ১৮ হাজার মেট্রিক টন। ডিজ়েল পাঠানো হয়েছে ২০ হাজার মেট্রিক টন।
