Sugar Price: ৮০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে চিনির দাম! সরকারের উপরে বাড়ছে চাপ
Sugar Price Hike Demand: চিনি শিল্পের জন্য আরেকটি বড় সমস্যা হল ইথানল উৎপাদন। সরকারের ন্যাশনাল ইথানল মিশন (National Ethanol Mission)-এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের একাধিক চিনি কল ইথানল তৈরির জন্য ডিস্টিলারি প্ল্যান্ট তৈরি করেছে। এর জন্য অনেক চিনি কল ব্যাঙ্ক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

নয়া দিল্লি: আমজনতার জন্য খারাপ খবর। আবার বাড়তে পারে খরচ। নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় চিনির দাম (Sugar Price Hike) বাড়তে পারে এবার। তাও আবার দু-পাঁচ টাকা নয়। এক ধাক্কায় ১১ টাকা বাড়ানোর দাবি করা হয়েছে। সত্যিই যদি এই দাম বাড়ে, তাহলে চিনির দাম ৬৫ টাকা প্রতি কেজি থেকে বেড়ে, ৭৬ টাকা প্রতি কেজি হতে পারে।
কেন দাম বাড়তে পারে চিনির?
চিনি শিল্পের (Sugar Industry) পক্ষ থেকে ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য (MSP) বাড়ানোর দাবি উঠেছে। অন্যদিকে, আখের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রে কৃষকদের আন্দোলনও চলছে। চিনি শিল্পের সমস্যা খতিয়ে দেখতে প্রাক্তন নীতি আয়োগ (NITI Aayog)-র সদস্য রমেশ চন্দের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি তৈরি করেছে কেন্দ্র। কৃষকদের সঙ্গে বেঙ্গালুরুতে আলোচনার পর কমিটি মহারাষ্ট্রের পুণেতেও বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সেখানে অল ইন্ডিয়া ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (All India Sugar Trade Association)-এর প্রতিনিধিরা নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন।
দাম বাড়ানোর দাবি-
চিনি শিল্পের অন্যতম বড় দাবি হল চিনির ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য বাড়ানো। বর্তমানে প্রতি কুইন্টাল চিনির ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য ৩,১০০ টাকা। অল ইন্ডিয়া ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান প্রফুল ভিতলানি এই দাম বাড়িয়ে অন্তত ৪,২০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। অর্থাৎ, প্রতি কেজি চিনির ন্যূনতম দাম ৩১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪২ টাকা করার দাবি করা হয়েছে। প্রায় সাত বছর ধরে এই ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য অপরিবর্তিত রয়েছে বলে দাবি শিল্পমহলের।
চিনি কলগুলির বক্তব্য, বিদ্যুৎ, শ্রমিকের মজুরি এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় চিনি উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে চিনি বিক্রি করতে গিয়ে অনেক মিল আর্থিক চাপে পড়ছে।
আখ চাষিদের জন্যও দাম বাড়িয়েছে কেন্দ্র
এদিকে আখ চাষিদের জন্য ফেয়ার অ্যান্ড রেমুনেরাটিভ প্রাইজ (Fair and Remunerative Price) বা এফআরপি (FRP)-ও বাড়িয়েছে কেন্দ্র। ২০২৬-২৭ মরসুমের জন্য ১০.২৫ শতাংশের বেসিক রিকভারি রেট ধরে আখের এফআরপি প্রতি কুইন্টাল ৩৬৫ টাকা করা হয়েছে।
ইথানল প্রকল্পের ঋণ নিয়েও চিন্তায় চিনি কল-
চিনি শিল্পের জন্য আরেকটি বড় সমস্যা হল ইথানল উৎপাদন। সরকারের ন্যাশনাল ইথানল মিশন (National Ethanol Mission)-এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের একাধিক চিনি কল ইথানল তৈরির জন্য ডিস্টিলারি প্ল্যান্ট তৈরি করেছে। এর জন্য অনেক চিনি কল ব্যাঙ্ক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। কিন্তু আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং অসময়ে বৃষ্টির কারণে আখে সুক্রোজের পরিমাণ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আখে সুক্রোজ কম হলে ইথানল উৎপাদনও কমতে পারে। ফলে যে আয় দিয়ে চিনি কলগুলি ঋণের কিস্তি মেটানোর পরিকল্পনা করেছিল, সেই আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইথানল প্রকল্পের ঋণ পরিশোধে সমস্যায় পড়া চিনি কলগুলির জন্য দুই বছরের মরাটোরিয়াম বা ঋণ পরিশোধ স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে সংস্থা। সংগঠনের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই দুই বছর চিনি কলগুলিকে ঋণের আসল টাকা এবং সুদ—দুটিই পরিশোধ করতে হবে না।
এছাড়া ইথানল প্রকল্পের ঋণে সরকারের সুদে ভর্তুকিও বাড়ানোর দাবি উঠেছে। বর্তমানে সুদের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হয়। সংস্থা সেই ভর্তুকি বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে।
সাধারণ মানুষের জন্য কী চিনির দাম বাড়বে?
চিনি শিল্পের দাবি মেনে ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য প্রতি কেজিতে ৩১ টাকা থেকে ৪২ টাকা করা হলে বাজারে চিনির দাম বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে শুধু চিনি নয়, চা, মিষ্টি, বিস্কুটের মতো প্রতিদিনের ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
