Divorce Case: ‘স্ত্রী চাকর নয়, রান্না করতে না পারা নৃশংসতা নয়’, ডিভোর্স মামলায় বড় পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের
Bombay High Court: বম্বে হাইকোর্ট রায় দেয় যে স্ত্রীর রান্না না করতে পারা, সাফাই করা বা মা-বাবার কথা না মানা মানসিক অত্যাচার বলে গণ্য করা যায় না। বেঞ্চের তরফে বলা হয়, "শুধুমাত্র রান্না করা বা সাফাই করার মতো গৃহস্থালির কাজ করতে না পারা নৃশংসতা নয়, বিয়ে দুজনের মধ্যে পার্টনারশিপ, কোনও সার্ভিস কনট্রাক্ট নয় এবং স্ত্রীরা চাকর নয়।"

মুম্বই: রান্না করা বা ঘর পরিষ্কারের মতো গৃহস্থালির কাজ করতে অস্বীকার করা নৃশংসতা নয়। বৈবাহিক অধিকার ও লিঙ্গ সমতা নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিল বম্বে হাইকোর্ট। আদালতের তরফে বলা হল, “বিবাহ দুইজনের অংশীদারিত্ব, কোনও সার্ভিস কন্ট্রাক্ট নয়।”
কী বলল আদালত?
বম্বে হাইকোর্টে বিচারপতি ভারতী দাঙ্গরে ও মঞ্জুশা দেশপাণ্ডের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি চলছিল। ফ্যামিলি কোর্ট নিষ্ঠুরতার গ্রাউন্ডে স্বামীর ডিভোর্সের আবেদন মঞ্জুর করেছিল। হাইকোর্ট সেই রায় খারিজ করে দেয় এবং স্বামীকে প্রাক্তন স্ত্রীকে মাসিক ২০ হাজার টাকা খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
বম্বে হাইকোর্ট রায় দেয় যে স্ত্রীর রান্না না করতে পারা, সাফাই করা বা মা-বাবার কথা না মানা মানসিক অত্যাচার বলে গণ্য করা যায় না। বেঞ্চের তরফে বলা হয়, “শুধুমাত্র রান্না করা বা সাফাই করার মতো গৃহস্থালির কাজ করতে না পারা নৃশংসতা নয়, বিয়ে দুজনের মধ্যে পার্টনারশিপ, কোনও সার্ভিস কনট্রাক্ট নয় এবং স্ত্রীরা চাকর নয়।”
স্বামী স্ত্রীর বিরুদ্ধে যে নৃশংসতার অভিযোগ এনেছিল, ফ্যামিলি কোর্ট সেই অভিযোগকে মান্য়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা কোনওভাবে সঙ্গত নয়।
কী হয়েছিল ওই দম্পতির মধ্যে?
জানা গিয়েছে, ২০০২ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল। কয়েকদিনের মধ্যেই তাদের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। ওই বছরের জুন মাসে মধ্যস্থতা করে সমস্যা মেটানো হয়। তারা আবার একসঙ্গে থাকা শুরু করে। কিন্তু ফের অশান্তি শুরু হওয়ায়, যুবতী শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে আসেন।
এরপরে ২০০৪ সালে স্বামী মুম্বই ফ্যামিলি কোর্টে ডিভোর্সের আবেদন করেন। স্ত্রীর বিরুদ্ধে নৃশংসতার অভিযোগ আনেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, স্ত্রী তাঁর সঙ্গে নিষ্ঠুর ব্যবহার করেছে, বাড়ির কোনও কাজ করতে পারেন না এবং তাঁর মা-বাবার কথাও শোনেননি।
অন্যদিকে স্ত্রীও পাল্টা অভিযোগ করে যে শ্বশুরবাড়ি থেকে পণের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। ছোট ছোট বিষয়ে তাঁকে মানসিক হেনস্থা, শারীরিক নিগ্রহ করা হত। তিনি স্বামীর কাছ থেকে খোরপোশের দাবি করেন। ২০১০ সালে ফ্যামিলি কোর্ট ডিভোর্স গ্রান্ট করে এবং স্ত্রীর খোরপোশের আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপরে স্ত্রী ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। বম্বে হাইকোর্ট ওই মহিলার প্রাক্তন স্বামীকে মাসিক ২০ হাজার টাকা খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
